ঢাকা জেলার সিভিল সার্জন ডা. এহসানুল করিম বলেছেন, কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালেই সম্ভব। তিনি গতকাল বুধবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘খালেদা জিয়া অসুস্থ। ওনার হাঁটুর ব্যথা বেড়েছে। এটি ওনার পুরোনো সমস্যা। এ চিকিৎসা বিএসএমএমইউতেই সম্ভব। কিন্তু জেল কর্র্তৃপক্ষ সেখানে ভর্তির উদ্যোগ নিলেও তাতে রাজি হননি খালেদা জিয়া। উনি যেদিন সম্মতি দেবেন সেদিনই তাকে বিএসএমএমইউতে নেওয়া হবে।’ বিএসএমএমইউর পরিবেশ নিয়ে খালেদা জিয়ার অস্বস্তি রয়েছে বলেও জানান এই চিকিৎসক। এদিকে গুরুতর অসুস্থ খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যাপারে বিএনপির নেতাকর্মী ও স্বজনদের উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কারাবন্দি খালেদা জিয়ার অসুস্থতার বিষয়ে দলের উদ্বেগের কথা জানাতে গত ৫ মার্চ দলের একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলাম। আমরা তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রীকে অনুরোধ করেছিলাম। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, কারাবিধি অনুযায়ী খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, গত বছরের ৬ অক্টোবর খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউতে আনা হয়েছিল। কিন্তু চিকিৎসা শেষ না করেই তাকে কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। এবার সরকারের কাছে তাকে বিশেষায়িত কোনো হাসপাতালে ভর্তির অনুরোধ জানানো হয়েছে। কিন্তু সরকার আবারও বিএনপি চেয়ারপারসনকে বিএসএমএমইউতে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল। তিনি রাজি হননি।
গত ৮ মার্চ খালেদা জিয়ার সঙ্গে কারাগারে সাক্ষাৎ করেন স্বজনরা। তখন তারা দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছিলেন, খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ। অবিলম্বে তার চিকিৎসা প্রয়োজন। চিকিৎসার জন্য তিনি ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের অনুমতি দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। তারা আরও জানিয়েছিলেন, খালেদা জিয়া বিএসএমএমইউতে চিকিৎসা নিতে ভরসা পান না। তা ছাড়া রোগী হিসেবে তার একটা গোপনীয়তার বিষয়ও রয়েছে।
খালেদা জিয়াকে বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি নিয়ে বিএনপি নেতা ও স্বজনদের দাবির বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. এহসানুল বলেন, কারাবিধির বাইরে যাওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তা ছাড়া তার চিকিৎসা বিএসএমএমইউতেই সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, ‘বিএসএমএমইউতে খালেদা জিয়া আস্থা রাখতে পারছেন না। অথচ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে কিন্তু সেখানে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। বিদেশি ডাক্তাররাও এই হাসপাতালের ডাক্তারদের প্রশংসা করেছেন।’
এ বিষয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, কারাবিধিতে না থাকলেও রোগীর চাহিদার ভিত্তিতে সরকারি হাসপাতালের বাইরে বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার নজির আছে। কিন্তু খালেদা জিয়াকে সে সুযোগ দিতে চাইছে না সরকার।
হাসপাতালের প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসএমএমইউর পরিচালক ব্রি. জে. হারুন অর রশীদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত ১০ মার্চ খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউতে আনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন আইজি প্রিজন্স। এর অংশ হিসেবে বিএসএমএমইউ-এ তার চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু পরে তিনি আসেননি। তবে হাসপাতালে তার চিকিৎসার প্রস্তুতি রয়েছে।’
