পুনঃতফসিলের দাবি

অনশনে শিক্ষার্থী বাড়ছে

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০১৯, ০৪:৪৩ এএম

‘কাল থেকে কিছু খাইনি, মাথা ঘুরছে, তা-ও খাব না। এ কলঙ্কিত ইতিহাস মুছে ফেলতে হবে। না হলে মরে যাব।’

কথাগুলো বলছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের স্নাতকোত্তরের ছাত্র মানব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে (ডাকসু) আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদে বাম জোটের হয়ে লড়ে হেরে গেছেন তিনি। গতকাল বুধবার বিকেলে রাজু ভাস্কর্যের সামনে কথা হয় তার সঙ্গে। সেখানে স্বতন্ত্র, বাম জোটের আট প্রার্থী ও ভোটাররা আমরণ অনশনে বসেছেন পুনঃতফসিলের দাবিতে। অনশনের বিষয়ে দেশ রূপান্তরকে মানব বলেন, ‘যে কলঙ্কের কালি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গায়ে লাগানো হয়েছে,   

 তা আমরা বেঁচে থেকে দেখতে চাই না। এটা মুছে ফেলতে হবে। যারা এমন লজ্জা ও কলঙ্ক উপহার দিয়েছে গোটা জাতির সামনে, তাদের করজোড়ে ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগ করতে হবে।’

শহীদুল্লাহ হলের সাহিত্য সম্পাদক পদে নির্বাচন করে হেরে যাওয়া প্রার্থী শোয়েব মাহমুদ বলেন, ‘এ লজ্জা রাখি কোথায়? এমন ঘটনা ঘটানোর পরও ভিসি কী করে মিডিয়ায় মুখ দেখায়? তার কথা শুনে আমার মরে যেতে ইচ্ছে করছে, অথচ তার একটুও লজ্জা নেই। ভিসি, প্রক্টর এবং রিটার্নিং কর্মকর্তার পদত্যাগ চাই। পুনঃতফসিল দিয়ে ভোট চাই।’

এমন বক্তব্য অনশনে বসা প্রায় সব প্রার্থী ও ভোটারের। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে তারা রাজু ভাস্কর্যের গায়ে ব্যানার, পোস্টার টাঙিয়ে আমরণ অনশনে বসেন। শুরুতে চার শিক্ষার্থী অনশন শুরু করলেও এখন যোগ দিয়েছেন শতাধিক। এর মধ্যে অনিন্দ্য মণ্ডল নামে একজন অসুস্থ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

শিক্ষার্থীরা লাল, কালো কালিতে পোস্টারে নানা ধরনের সেøাগান লিখে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। এসবের মধ্যে লেখা আছে, ‘মেরুদণ্ড গলে গেছে’, ‘একটা সিটের বিনিময়ে বিবেক বেচার দল’, ‘সত্য কইলে উপকার’, ‘জলে ভাসা পদ্ম আমি শুধুই পেলাম ছলনা’, ‘ভিসি স্যার শুভ সন্ধ্যা’র মতো কিছু বাক্য।

হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের সাধারণ শিক্ষার্থী আরিফ হোসেন একরাশ ক্ষোভ নিয়ে বলেন, ‘এটা কিছু হয়নি। আমাদের সঙ্গে তামাশা করেছে প্রশাসন। কিছু না হওয়ার মধ্যে যেটা হয়েছে, সেটাকে বলা যায় ভোটসন্ত্রাস। আমরা এমনটা চাইনি। এখন ভিসির যদি এতটুকু কাণ্ডজ্ঞান থাকে, তাহলে তিনি পদত্যাগ করে নতুন ভোটের ব্যবস্থা করবেন।’ 

মুহসীন হল সংসদের সাংস্কৃতিক সম্পাদক প্রার্থী মাইনুদ্দিন বলেন, ‘কালকে (মঙ্গলবার) থেকে আমরা না খেয়ে এখানে পড়ে আছি। ভিসি একবারও এলেন না দেখতে। আমরা মরে যাই, ভিসি সেটাই চান। দাবি না মানলে আমরা সত্যি সত্যি মরে যাব।’

দীর্ঘ ২৮ বছর পর গত ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত ডাকসু এবং হল সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে ছাত্রলীগ ছাড়া ভোট বর্জন করে নির্বাচনে অংশ নেওয়া অন্যরা। ঘোষিত ফলাফলে সহ-সভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হয়েছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্রার্থী নুরুল হক। সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নির্বাচিত হন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। ফল ঘোষণার পর থেকে নানা নাটকীয় ঘটনার মধ্য দিয়ে চলছে পক্ষে-বিপক্ষে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত