রিজার্ভের চুরি যাওয়া অর্থ উদ্ধারে বাংলাদেশের মামলায় বেকায়দায় পড়ে গা বাঁচাতে ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন (আরসিবিসি) পাল্টা মানহানির মামলা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। গতকাল বুধবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে জনতা ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলন-২০১৯ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
ফজলে কবির বলেন, ‘সবগুলো প্রক্রিয়া পরিপূর্ণ করেই আমরা মামলা করেছি। বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো ত্রুটি নেই। এ অবস্থায় নিজেদের বাঁচাতে আরসিবিসি আমাদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছে।’
তিন বছর আগে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে বাংলাদেশের রিজার্ভের চুরি যাওয়া অর্থ উদ্ধারের আশায় গত ২ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে আরসিবিসির বিরুদ্ধে মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। আরসিবিসি মানহানির অভিযোগ তুলে গত ৬ মার্চ ফিলিপাইনের সিভিল কোর্টে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেছে।
এ বিষয় গভর্নর বলেন, নিউ ইয়র্কে অবস্থানরত বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিদল আজ (১৩ মার্চ) রাতে দেশে ফিরে বিস্তারিত জানাবে। তবে ফিলিপাইনের ব্যাংকটি বলছে, কোম্পানির সুনাম ও ভাবমূর্তির ওপর বারবার ‘অশুভ আক্রমণ’ চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০ কোটি পেসো (১৯ লাখ ডলার) দাবি করা হয়েছে মামলায়।
২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে সুইফট সিস্টেমে ৭০টি ভুয়া পরিশোধ অর্ডার পাঠিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১৯২ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার অবৈধভাবে নেওয়ায় চেষ্টা করা হয়। এর মধ্যে একটি পরিশোধ অর্ডারে শ্রীলঙ্কায় দুই কোটি ডলার ও চারটি অর্ডারে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপাইনের রিজাল ব্যাংকের একটি শাখার ভুয়া গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট হয়ে জুয়ার বাজারে চলে যায়।
শ্রীলঙ্কা থেকে ইতিমধ্যেই চুরি হওয়া সব অর্থ ফেরত এসেছে। ফিলিপাইনে যাওয়া অর্থের মধ্যে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার দেশটির কোর্টের আদেশে ফেরত আনা হয়েছে। বাকি ৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলার অনাদায়ী রয়েছে, যা আইসিসির কাছ থেকে আইনি প্রক্রিয়ায় উদ্ধারের চেষ্টা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
