সাফ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ

জিতলেই বাংলাদেশের সেমি-ফাইনাল

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০১৯, ১২:৩৫ পিএম

মূল সড়ক থেকে সরু একটি এবড়োখেবড়ো পথ চলে গেছে পূর্বদিকে। দুপাশে হাটবাজার। পথে ব্যাটারিচালিত যানের দঙ্গল। ধুলো তো আছেই। নেপালের এক সময়ের রাজধানী বিরাটনগরের শহিদ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে যেতে এই পথটাই নিয়মিত পেরোতে হচ্ছে অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে।

সেই রঙ্গশালায় আজ সাফ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের পঞ্চম আসরের সেমি-ফাইনাল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভুটানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। গতবারের রানার্সআপরা আজ জিতলেই নেপালকে সঙ্গী করে শেষ চারে পা রাখবে।

ম্যাচটা শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বেলা সোয়া ৩টায়।

বাংলাদেশের কাজটা সহজ হয়ে গিয়েছিল ‘এ’ গ্রুপের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক নেপাল ৩-০ গোলে ভুটানকে হারানোয়। নারী ফুটবলে কোনো পর্যায়ে ভুটানের কাছে হারের রেকর্ড না থাকা বাংলাদেশের তাই আজ নির্ভার থেকেই মাঠে নামার কথা। কিন্তু সেটা কি হচ্ছে? সেমিফাইনালে ভারতকে এড়াতে আজ জয়ের ব্যবধানটাও হওয়া চাই বড়। ভুটানকে অন্তত চার গোলের ব্যবধানে হারালে দুদিন পর নেপালের সঙ্গে ‘এ’ গ্রুপের শেষ ম্যাচটা ড্র করলেই ভারতকে এড়ানো নিশ্চিত হয়ে যাবে।

দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব ছুঁয়ে দেখা হয়নি কখনো। আগের চার আসরে প্রতিবারই শিরোপা গিয়েছে ভারতের ঘরে। গেলবার এই নেপালের মাটিতেই ফাইনালে ভারতের কাছে হারতে হয়েছিল সাবিনা-স্বপ্নাদের। এবার ফাইনাল নিশ্চিত করার আগে গ্রুপ আর সেমিফাইনালের সমীকরণটা মেলতে হবে তাদের। সেটা মেলাতে তাদের সামনে প্রথম বাধার নাম তিনবারের ফাইনালিস্ট নেপাল। তবে এখনই নেপাল নিয়ে ভাবছে না দলের কোচিং স্টাফরা। তাদের ভাবনায় এখন শুধুই ভুটান। তাদের হারালেই হবে সেমিফাইনালের লক্ষ্যপূরণ। তবে মুখে না বললেও আজ ব্যবধানটা চার অথবা তার ওপরে নেওয়াই লক্ষ্য থাকবে সাবিনাদের।

গত কয়েক বছর ধরে এই মেয়েদের দেখভাল করছেন কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন। তবে গত দুই বছরে মেয়েদের ফুটবলে উন্নতিটা স্পষ্ট হয় এক ইংলিশ বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলিয়ানের ছোঁয়ায়। বাফুফের টেকনিক্যাল ও স্ট্র্যাটেজিক ডিরেক্টর পল স্মলি এই মেয়েদের নিয়ে নিয়মিত কাজ করেছেন এই সময়টায়। গতকাল সকালের সেশনে এই অভিজ্ঞ কোচ নির্দিষ্ট কিছু জায়গা যেমন, সেটপিস, কর্নার, পজিশন নিয়ে কাজ করেছেন। খেলোয়াড়দের বিশ্রামের যথেষ্ট সুযোগ দিতেই খুব বেশি দৌড়ঝাঁপ করালেন না স্মলি। এরপর দুপুরে টিম হোটেলের লবিতে বসে ভদ্রলোক সোজাসাপ্টা জানিয়ে দিলেন বাংলাদেশের লক্ষ্য, ‘এই আসরে নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য বেঁধে দিইনি মেয়েদের। এখানে ভালো খেলাটা হবে গত কয়েক বছরের কাজেরই প্রতিফলন। তবে আমরা অবশ্যই চাইব একটা জয় দিয়ে আসরটি শুরু করতে। আমার কাছে জয়ের ব্যবধানটা মুখ্য নয়। জিতলেই যেহেতু সেমিফাইনাল তাই আমরা জিততেই চাই।’

এই আসরে ছয়টি দলের গড় বয়স হিসাব করলে বাংলাদেশ থাকছে সবার নিচে। এই দলে এমন কয়েকজন ফুটবলার আছেন, যারা এখনো প্রতিনিধিত্ব করছে অনূর্ধ্ব-১৬ জাতীয় দলের। পল স্মলি মনে করেন, এই তরুণ দলটির সামনে বড় কোনো লক্ষ্য বেঁধে দেওয়া বোকামি। ‘এটা ঠিক তারা আলোচনার বাইরে থেকেও গতবার রানার্সআপ হয়েছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে ওদের মূল যারা প্রতিপক্ষ তারা বয়সে, অভিজ্ঞতায় অনেক এগিয়ে। অনেক বেশি পরিণত। আমি মনে করি এই আসরে ইতিবাচক খেলাটাই হবে আমাদের বড় প্রাপ্তি।’

দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুনও চাইছেন একটা জয় দিয়ে প্রাথমিক লক্ষ্যটা ছুঁতে, ‘আমাদের জন্য কালকের (আজ) ম্যাচটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভুটানকে হারালেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত হবে। ব্যবধান বড় হলে ভালো তবে সেটাই আমাদের মূল লক্ষ্য নয়।’ বাংলাদেশের আক্রমণভাগের প্রাণভোমরা সাবিনা। আজ তিনি সঙ্গী হিসেবে পাচ্ছেন সিরাত জাহান স্বপ্নাকে। তবে আক্রমণভাগের আরেক অস্ত্র কৃষ্ণা রানী হালকা চোটের কারণে কাল অনুশীলন করেননি। আজ তাকে বিশ্রাম দেওয়া নিয়ে খানিকটা দ্বিধান্বিত টিম ম্যানেজমেন্ট।

ছোটন জানালেন, ‘ওর ব্যাপারে আমরা আগামীকাল (আজ) সিদ্ধান্ত নেব। ও যেহেতু আমাদের একজন গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার তাই তাকে নিয়ে কোনো ঝুঁকি নেব না।’

গোল বাড়ানোর তাগিদ থাকায় আজ হয়তো বাংলাদেশকে দেখা যাবে ভীষণ আক্রমণাত্মক মেজাজে। কিন্তু ছোটন বলছেন অন্য কথা, ‘আমরা বরাবরই আক্রমণাত্মক খেলি। তাই বলে রক্ষণটা আলগা করে খেলার পক্ষে আমি নই। গোলের চেষ্টা থাকবে। তবে নিজেদের ঘরও সামলাতে হবে।’

সাফে এ পর্যন্ত দুবারের দেখায় দুবারই ভুটানকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথমটি ২০১০ সালে কক্সবাজারে প্রথম আসরে ৯-০ গোলে আর পরেরটি চার বছর পর করাচিতে ১-০। সাম্প্রতিক সময়ে বয়সভিত্তিক ফুটবলে ভুটানের জালে গোল উৎসবের দুটি উদাহরণও আছে বাংলাদেশের। গড় বয়সে সবার ছোট হলেও বিরাটনগরে আজ বাংলাদেশের জয়ের ব্যবধানটা ‘বিরাট’ হবে সে আশা করাই যায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত