বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলার বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা প্রকাশিত হয়েছে সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনে।
বুধবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইকেল পম্পেও এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
৫০ পৃষ্ঠার এ প্রতিবেদনের একাংশে বলা হয়, ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের জেল দেওয়া হয় দুর্নীতি ও তহবিল স্থানান্তরের মামলায় (জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলা), যে মামলা ২০০৮ সালে প্রথম গঠন করা হয় অরাজনৈতিক সরকারের সময়ে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় আইনজীবীরা বলছেন এ মামলায় সাজা দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ নেই। তাদের মতে, 'রাজনৈতিকভাবে সাজানো' এ মামলা নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে প্রতিপক্ষের নেতৃত্বকে সরিয়ে দেওয়ার 'নকশা'।
মার্কিন প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, খালেদা জিয়ার জামিনের ক্ষেত্রে আদালত খুব ধীর গতিতে কাজ করেছে। তার মতো সাজা পাওয়া কোনো ব্যক্তির পক্ষে সহজেই জামিন পাওয়ার কথা। তবে জিয়ার (খালেদা) ক্ষেত্রে জামিন শুনানি প্রায় এক মাস স্থগিত থাকে। যখন উচ্চ আদালত তাকে মার্চের ১২ তারিখ জামিন দিলেন, সেই আদেশ তাৎক্ষণিক সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আরো দুই মাসের জন্য স্থগিত করা হয়।
'প্রায় তিন মাস পর তার জামিন নিশ্চিত হলেও সরকার তার বিপক্ষে অন্য মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আদায় করতে সক্ষম হয়'।
এ ছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনে আদালতে কারাগার স্থানান্তরের সমালোচনা করা হয়। এতে বলা হয়, সেপ্টেম্বরের ৪ তারিখ আইনমন্ত্রী (আনিসুল হক) খালেদা জিয়ার মামলার আদালত একটি উন্মুক্ত কক্ষ থেকে কারাগারের অবরুদ্ধ কক্ষে স্থানান্তর করেন।
'আইনমন্ত্রী এ স্থানান্তরের জন্য নিরাপত্তাজনিত কারণের কথা উল্লেখ করেন। এরপর সেপ্টেম্বরের ৫ তারিখ খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের উপস্থিতি ছাড়াই মামলার বিচার শুরু হয়।'
প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই আদালতের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ৫ সেপ্টেম্বর হাই কোর্টে আপিল করা হয়। যা পরে বাতিল হয়ে যায়।
