সুস্থ গর্ভধারণ ও গর্ভস্থ শিশুর পূর্ণ বিকাশের জন্য গর্ভবতী মায়ের শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টির চাহিদা পূরণ আবশ্যক। সে জন্য গর্ভাবস্থায় কী খেলে একজন গর্ভবতী মা এসব চাহিদা সঠিকভাবে পূরণ করতে পারবেন তার সঠিক ধারণা থাকা প্রয়োজন।
প্রোটিন : গর্ভাবস্থার সময়কে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়। ১ম ট্রাইমেস্টার, ২য় ট্রাইমেস্টার এবং ৩য় ট্রাইমেস্টার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মত অনুসারে, একজন গর্ভবতী মায়ের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ট্রাইমেস্টারে প্রতিদিন যথাক্রমে ১, ৯ ও ৩১ গ্রাম অতিরিক্ত প্রোটিন প্রয়োজন হয়। আর এ প্রোটিনের চাহিদা পূরণে খাবার তালিকায় থাকা দরকার মাছ, বিভিন্ন ধরনের ডাল, ডিম, গরুর দুধ এবং মুরগির মাংস।
ভিটামিন এ : গর্ভস্থ শিশুর সার্বিকভাবে বেড়ে ওঠা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি এবং দৃষ্টিশক্তি সঠিকভাবে কাজ করার জন্য ‘ভিটামিন এ’ প্রয়োজন। ডঐঙ-এর মত অনুসারে, একজন গর্ভবতী মায়ের প্রতিদিন অন্তত ৮০০ মিলিগ্রাম ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত।
ভিটামিন ডি : ভিটামিন ডি শরীরে ক্যালসিয়ামের শোষণ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাসকে হাড়ের জন্য কার্যকরী করে তোলে। গর্ভবতী মায়ের শরীরে ভিটামিন ডি-এর অভাব হলে শিশুর সার্বিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং মায়েরও গ্যাস্টোলিন ডায়াবেটিসসহ নানান ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ক্যালসিয়াম : গর্ভকালীন শেষ দিকে গর্ভবতী মায়ের শরীরে ক্যালসিয়ামের চাহিদা বাড়তে থাকে। শেষের ৩ মাস চাহিদাটা সবচেয়ে বেশি থাকে। ডঐঙ এর মতে, একজন গর্ভবতী মায়ের দিনে ১০০০ মিলিগ্রাম এবং বিশেষ করে শেষ ৩ মাসের প্রতিদিন অন্তত ১২০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত।
আয়রন : আয়রন গর্ভবতী মায়ের শরীরে হিমোগ্লোবিন ও এনার্জি তৈরিতে সাহায্য করে, গর্ভস্থ শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং স্নায়ুতন্ত্র বিকাশ সাধন করে। শরীরে আয়রনের অভাব দেখা দিলে অ্যানিমিয়া অথবা রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। গর্ভবতী মায়ের প্রতিদিন অন্তত ২৭ মিলিগ্রাম আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত।
জিংক : জিংক মানব শরীরের প্রত্যেকটি অংশের বিভিন্ন ধরনের কার্যক্ষমতা সক্রিয় রাখে এবং টিস্যু ও কোষ গঠনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। এমনকি গর্ভস্থ শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও বেড়ে ওঠায় জিংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ডঐঙ এর মতে, গর্ভাবস্থায় প্রথম ৩ মাস অন্তত ১১ মিলিগ্রাম, দ্বিতীয় ৩ মাস ১৪ মিলিগ্রাম ও শেষের ৩ মাস অন্তত ২০ মিলিগ্রাম করে জিংক সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত।
আয়োডিন : আয়োডিনের অভাবে গর্ভে থাকার সময় থেকে শুরু করে জন্মের ৩ মাস বয়স পর্যন্ত শিশুর বুদ্ধির বিকাশ বাধাপ্রাপ্ত হতে পারে। এছাড়াও আয়োডিনের অভাবে গর্ভে থাকা শিশুর মৃত্যুর সম্ভাবনাও দেখা দেয়। এটি থাইরয়েডকেও সুস্থ রাখে। তাইৃ গর্ভাবস্থায় প্রতিদিন কমপক্ষে ২০০ মিলিগ্রাম আয়োডিনযুক্ত খাবার খেতে হবে।
ফলিক এডিস : গর্ভবতী মায়ের শরীরে ফলিক এসিডের প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ না হলে গর্ভের শিশুর সঠিকভাবে বেড়ে ওঠা বাধাগ্রস্ত হয় এবং জন্মের সময় শিশুর ওজন কম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। গর্ভাবস্থায় প্রতিদিন অন্তত ৬০০ মাইক্রোগ্রাম ফলিক এসিড সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া দরকার।
ভিটামিন বি ১২ : ভিটামিন বি-১২ মানবশরীরে রক্ত কোষ উৎপাদনে সাহায্য করে এবং ফ্যাট ও কার্বোহাইড্রেটের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে শরীরে এনার্জি এনে দিয়ে থাকে। একজন গর্ভবতী মায়ের দিনে অন্তত ২.৬ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন বি-১২ প্রয়োজন।
এগুলো ছাড়াও রিবোফ্লাভিন, ভিটামিন বি৬, পটাশিয়ামসহ আরও বেশ কিছু উপাদানের চাহিদা থাকে গর্ভবতী মা ও শিশুর।
সূত্র : বেবি সেন্টারবিডি
