বাংলাদেশে থাকাকালে একটা বড় সময় ধরেই কাজ করছেন মেয়েদের ফুটবল নিয়ে। জাতীয় দল এখন খেলছে পঞ্চম সাফ মহিলা চ্যাম্পিয়নশিপ। এই আসরে আপনার প্রত্যাশা কী?
আমার প্রত্যাশা আসলে অনেক রকম। এখানে আমার দায়িত্ব প্রতিটি খেলোয়াড়ের স্কিল ডেভেলপ করা। এই দলের অনেকেই অনূর্ধ্ব-১৬ ও ১৯ দলের সদস্য। তারা এখন সিনিয়র দলে খেলছে। এখানে অন্য যে দলগুলো খেলছে তাদের তুলনায় আমাদের দলটি অনেক অনভিজ্ঞ। গড় বয়সেও অনেক পিছিয়ে। নেপালের প্রথম ম্যাচ দেখেছি। ভারত তো অনেক এগিয়ে। সব মিলিয়ে প্রত্যাশা হচ্ছে ভালো ফুটবল খেলা। যেটা ভবিষ্যতে চলার পথে কাজে লাগবে।
বাংলাদেশ দলের বেশিরভাগ ফুটবলারের বয়স এখনো ১৯-এর নিচে। অথচ তারা সিনিয়র দলে খেলছে। বিষয়টা কীভাবে দেখেন?
এখানে দুরকম মতামত রয়েছে। ইতিবাচক ও নেতিবাচক। আমি মনে করি এই মেয়েদের নিয়ে ধৈর্য ধরতে হবে। কারণ বাংলাদেশ ভারতের মতো দল নয়। ভারতের রয়েছে অনেক বয়সভিত্তিক দল এবং তাদের আছে একটি শক্তিশালী জাতীয় দল যেটি দীর্ঘদিন ধরে খেলছে। এই দলের বেশিরভাগ খেলোয়াড়ের এই পর্যায়ে খেলার অনেক অভিজ্ঞতা রয়েছে। আর আমাদের এই দলটিতে জুনিয়র প্লেয়ারের সংখ্যাই বেশি। তারা বিভিন্ন বয়সভিত্তিক পর্যায়ে খেলছে। এটা নেতিবাচক এই অর্থে যে, এদের জন্য সিনিয়র লেভেলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সত্যিই কঠিন। কারণ তারা এখনো পুরোপুরি পরিণত হয়ে ওঠেনি। তারা উন্নতির পথে আছে। তারা এখনো মেয়ে। মহিলা হয়ে উঠতে পারেনি। আর ইতিবাচক হচ্ছে তারা খুব দ্রুত শিখতে পারে। ভুল শুধরে নিতে তাদের সময় লাগে না। তারা এখনো শেখার পর্যায়ে আছে।
মেয়েদের জন্য গড়ে ওঠেনি কোনো ঘরোয়া অবকাঠামো...
আমি আড়াই বছর আগেই প্রস্তাবনা দিয়েছি যে ঘরোয়া ফুটবলের অবকাঠামো তৈরি করতে হবে। বিপিএল এবং বিসিএল দলগুলোকে দায়িত্ব নিতে হবে, এগিয়ে আসতে হবে মেয়েদের ফুটবলকে উন্নয়নে। একই সঙ্গে ছেলেদের মতো মেয়েদের বয়সভিত্তিক দল থাকতে হবে প্রতিটি ক্লাবের। মেয়েদের নিয়মিত অনুশীলনে রাখতে হবে। তবেই ভালো খেলোয়াড় উঠে আসবে। আসলে এখনো মেয়েদের ফুটবল নিয়ে গভীরে গিয়ে ভাবা শুরু হয়নি বাংলাদেশে। আমার অভিমত হচ্ছে, যেকোনো একটা পর্যায় থেকে শুরু করতে হবে ঘরোয়া ফুটবল। আমার চাওয়া সেটা শুরু হোক অনূর্ধ্ব-১২ কিংবা ১৪ পর্যায় থেকে। সেটা অবশ্যই নিয়মিত হতে হবে, থাকতে হবে ধারাবাহিকতা।
বাংলাদেশ কবে এ ধরনের আসরে ফেভারিট হতে পারবে?
ক্রীড়াবিজ্ঞান বলে সাধারণত একজন ফুটবলার পরিণত হয়ে ওঠে ২৬ থেকে ২৭ বছর বয়সে। কিন্তু সাবিনা ছাড়া আমাদের দলের সবাই ১৯-এর নিচে। এখন এদের কাউকে কাউকে দেশে-বিদেশে ক্লাব ফুটবল খেলার সুযোগ দিতে হবে। তাতে তারা অনেক খেলার সুযোগ পাবে এবং ভালো খেলোয়াড়দের সঙ্গে খেলে অনেক কিছু শিখতে পারবে।
ঘরোয়া অবকাঠামো নেই। ঘুরেফিরে কয়েকটা মেয়েই খেলছে সব ধরনের পর্যায়ে। তবে কি এ দেশে মেয়েদের ফুটবল সঠিক পথে এগোচ্ছে?
কোচেস এডুকেশন নিয়েও অনেক কাজ হচ্ছে। কারণ ভালো ফুটবলার তখনই তৈরি হবে যখন ভালো কোচ থাকবে। বড় দাগে কেবল মেয়েদের ফুটবল নয়, এ দেশের ফুটবল সঠিক পথেই এগোচ্ছে।
গত আড়াই বছরে অনেক প্রস্তাবনা দেওয়ার কথা বললেন। এর মধ্যে বাফুফে শতকরা কতভাগ করতে পেরেছে। কতভাগ পারেনি? আমি খুবই বাস্তববাদী। তবে আমি কখনো কখনো খুবই হতাশ হয়েছি। যখন কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হতে বেশি সময় লেগেছে। কিন্তু আমি বাফুফেকে দায় দিচ্ছি না। কারণ এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজন অর্থ। একই সঙ্গে ক্লাবগুলোকেও আরও বেশি আন্তরিক হতে হবে। আসলে উন্নয়ন অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করে।
