এই দিন ১৭ মার্চ

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০১৯, ১০:৫৮ পিএম

১৯৭৪ সালের ১৭ মার্চ মৃত্যুবরণ করেন জগদ্বিখ্যাত আধুনিক স্থপতি লুই আই কান। ১৯০১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি রুশ সাম্রাজ্যের এস্তোনিয়ায় এক ইহুদি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার পুরো নাম লুই ইসাডোর কান। ১৯০৬ সালে পিতা লেব সুমোইলস্কি এবং মাতা মার্থা মেন্ডেলসনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান লুই। ১৯২৪ সালে পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যলয় থেকে স্থাপত্যবিদ্যায় স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন লুই আই কান। এ সময় তরুণ স্থপতি লুই পৃথিবীর নানা প্রান্তে ঘুরে বেড়ান এবং জন মলিটর, জর্জ হুই, অস্কার স্টনোরোভর মতো তৎকালীন নামকরা স্থপতিদের সঙ্গে কাজ করেন। ১৯৪৭ সালে ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপত্যবিদ্যার শিক্ষকতা শুরু করেন তিনি। এরপর ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি এবং পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপত্যের অধ্যাপক হিসেবে কাজ করেন। ১৯৫১-৫৩ সালে তিনি কানেকটিকাটে ‘ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় আর্ট গ্যালারি’র স্থপতি হিসেবে কাজ করেন এবং তা লুই আই কানের প্রথম ‘মাস্টারপিস’ হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। তার অন্যান্য বিখ্যাত স্থাপত্যকীর্তির মধ্যে রয়েছে ‘রিচার্ডস মেডিকেল রিসার্চ ল্যাবরেটরি’, ‘দ্য শাল্ক ইনস্টিটিউট’, ‘ফিলিপস এক্সেটার অ্যাকাডেমি লাইব্রেরি’, ‘কিমবেল আর্ট মিউজিয়াম’, ‘ইয়েল সেন্টার ফর ব্রিটিশ আর্ট’, ‘ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট ফোর ফ্রিডমস পার্ক’, ‘ফ্লোরা ল্যামসন হিউলেট লাইব্রেরি’। ক্ষণজন্মা এই স্থপতির সবচেয়ে আলোচিত ও বিখ্যাত স্থাপত্যকীর্তি বাংলাদেশের ‘জাতীয় সংসদ ভবন’।  লুই আই কানের অন্যতম প্রিয় ছাত্র বাংলাদেশের পথিকৃৎ স্থপতি মাজহারুল ইসলামের উদ্যোগ ও অনুরোধে তিনি কাজের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। ১৯৬১ সালে নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ১৯৮২ সালের ২৮ জানুয়ারি শেষ হয় এর নির্মাণকাজ। লুই কানের অমর এই সৃষ্টি একইসঙ্গে স্থাপত্যের ধ্রুপদী বৈশিষ্ট্যে ভাস্বর, আধুনিক ও কালোতীর্ণ। প্রাকৃতিক আলোর ব্যবহার এবং মৌলিক জ্যামিতিক আকৃতিÑ বৃত্ত, অর্ধবৃত্ত, বর্গ ও ত্রিভুজের কাঠামোয় অনন্য সাধারণ এই স্থাপত্য বিংশ শতকের বিশ্বসেরা স্থাপত্যগুলোর অন্যতম শ্রেষ্ঠ একটি হিসেবে বিবেচিত। ১৯৭৪ সালে পেনসিলভানিয়ার এক রেলস্টেশনে হার্ট অ্যাটাকে মারা যান মহান স্থপতি লুই আই কান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত