কাঁচপুর দ্বিতীয় সেতু ও ভুলতার উড়াল সেতু উদ্বোধন

‘শীতলক্ষ্যা সেতু’ নাম দিতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০১৯, ০৩:২৫ এএম

বহুল প্রত্যাশিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর দ্বিতীয় সেতু ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের ভুলতার উড়াল সেতু উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল শনিবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সেতু দুটি উদ্বোধনের পর এগুলোর ওপর দিয়ে যান চলাচল শুরু হয়। উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী কাঁচপুর দ্বিতীয় সেতুটি নদীর সঙ্গে মিলিয়ে ‘শীতলক্ষ্যা সেতু’ নামকরণ করার আহ্বান জানান।

কাঁচপুর দ্বিতীয় সেতুর উদ্বোধনের সময় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়া, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনসহ আওয়ামী লীগ নেতা, ব্যবসায়ী নেতা, স্থানীয় প্রশাসনসহ সরকারি কর্মকর্তারা।

ভুলতার উড়াল সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মমতাজ বেগমের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী ও নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের এমপি গোলাম দস্তগীর গাজী, মুক্তিযোদ্ধা, আওয়ামী লীগের নেতাসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি নিজে উপস্থিত থেকে উদ্বোধন করব বলে কথা দিয়েছিলাম। কিন্তু সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের অসুস্থ হওয়ায় সেটা হয়নি। তার চিকিৎসা চলছে। তার আরোগ্য লাভের জন্য সবাই দোয়া করবেন। তিনি সুস্থ হয়ে উঠুক, সেতুটি দেখতে যাব।’

তিনি বলেন, ‘মেঘনা ও গোমতী নদীর ওপর হওয়ায় নদীর নামে সেতু হয়েছে। তাহলে শীতলক্ষ্যা নদীর ওপরে যখন তখন শীতলক্ষ্যা সেতু বলব না কেন? এটার নাম শীতলক্ষ্যা সেতু হতে পারে। কাঁচপুর সেতু যেখানে আছে সেটা থাকবে। তবে নতুনটার নাম শীতলক্ষ্যা সেতু হলে নারায়ণগঞ্জবাসী মন খারাপ করবে না তো।’ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকসহ এমপিরা ধন্যবাদ জানিয়ে কাঁচপুর দ্বিতীয় সেতুর নাম পাল্টে শীতলক্ষ্যা সেতু নাম সমর্থন করেন।

সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ৪০০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ১৮ মিটার প্রস্থের দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতুটি যান চলাচল শুরু হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট অনেকটা কমে আসবে। দ্বিতীয় মেঘনা ও দ্বিতীয় মেঘনা-গোমতী সেতুর নির্মাণকাজ প্রায় শেষের পথে। এ সেতু দুটিও যান চলাচলের জন্য শিগগিরই খুলে দেওয়া হবে।

জাপানের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওবায়শি করপোরেশন, শিমিজু করপোরেশন, জেএফই ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন এবং আইএইচআই ইনফ্রা সিস্টেম কোম্পানি ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দ্বিতীয় মেঘনা ও দ্বিতীয় মেঘনা-গোমতী সেতুর পাশাপাশি দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করে। নির্ধারিত সময়ের প্রায় চার মাস আগেই কাজ শেষ হয়েছে।

সেতু পুনর্বাসন প্রকল্পের পরিচালক আবু সালেহ মো. নুরুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, শীতলক্ষ্যা সেতুটিতে যান চলাচল শুরু হয়েছে। এবার পুরনো কাঁচপুর সেতুটির মেরামত কাজ শুরু হবে। চলতি বছরের ডিসেম্বর নাগাদ পুরাতন সেতুটির কাজ শেষ করা যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। দুটি সেতু একসঙ্গে চালু থাকলে যানজট থাকবে না।

রূপগঞ্জের ভুলতা উড়াল সেতুর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উড়াল সেতু হওয়ায় ঢাকার আরও কাছে হয়ে গেছে রূপগঞ্জ। যেখানে মন্ত্রী দিয়েছি, সেখানে আরও উন্নয়ন হবে।’ এ সময় রূপগঞ্জের এমপি পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর নেতৃত্বে উপস্থিত সবাই প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় ২০১৫ সালের অক্টোবরে ২৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে চার লেনবিশিষ্ট ভুলতা ফ্লাইওভার উড়াল সেতুটি নির্মাণে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছিল সরকার। ৩৫৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত চার লেনবিশিষ্ট তৃতীয় তলা ভুলতা ফ্লাইওভার হলে যানজট অনেকাংশে কমে যাবে। কমবে সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও। এশিয়ান হাইওয়ে সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের জন্য গাজীপুর মদনপুর সড়কের একটি লেন চালু করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত