জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলে নবজাতক প্রসবের ঘটনায় আলোচনায় আসা ওই ছাত্রী বিবাহিত বলে জানা গেছে। প্রসবের পর নবজাতকে ট্রাঙ্কে লুকিয়ে রাখেন তিনি। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে নবজাতকটি মারা যায়।
শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে এ ঘটনা ঘটে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে ওই ছাত্রীর রুমমেট ও আশপাশের কক্ষের শিক্ষার্থীরা প্রসব বেদনার কথা জানতে পারেন। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে জানালে নার্স এসে তাকে এনাম মেডিকেল কলেজে নিতে বলেন। কিন্তু এর আগেই সন্তান ভূমিষ্ঠ হলেও কাউকে না জানিয়ে ট্রাঙ্কে রেখে দেন তিনি।
একপর্যায়ে ওই ছাত্রীকে এনাম মেডিকেলে নেয়ার পর তার কক্ষে নবজাতকের কান্নার আওয়াজ পান অন্য শিক্ষার্থীরা। খোঁজাখুঁজি করে কক্ষে থাকা ট্রাঙ্ক থেকে তালা ভেঙে নবজাতককে উদ্ধার করে হল প্রশাসন।
পরে নবজাতককে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে এনাম মেডিকেল পাঠান। এনাম মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১০টার দিকে নবজাতকটি মারা যায়।
এ ঘটনা ঘটার পর রোববার দুপুরের দিকে ‘শুধুই জাহাঙ্গীরনগর’ নামে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের একটি ক্লোজড ফেসবুক গ্রুপে এক শিক্ষার্থী দিয়ে দাবি করেন ওই ছাত্রীর সঙ্গে তার ‘বৈবাহিক সম্পর্ক’ রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক মুজিবর রহমান জানান, নবজাতক প্রসবকারী ছাত্রীর বড় বোনও দাবি করেছেন ওই ছাত্রী বিবাহিত ছিলেন।
অধ্যাপক মুজিব বলেন, তারা সত্যি বিবাহিত কি না তা তদন্ত কমিটি যাচাই করে দেখবে।
সত্যতা জানতে রনি মোল্লার ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে ফোন দিলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
চিকিৎসাধীন থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি নবজাতক প্রসবকারী ছাত্রীর সঙ্গেও।
ওই ছাত্রীর একাধিক সহপাঠী জানিয়েছেন, তারা কখনই জানতে পারেননি যে ওই ছাত্রী সন্তানসম্ভবা ছিল। এমনকি রুমমেটের কাছেও কখনো বিষয়টা বলেনি ওই ছাত্রী।
হল প্রভোস্ট আরো বলেন, প্রেগনেন্সি সময় যেভাবে কেয়ার দরকার ছিল তার কিছুই করা হয়নি। এ ছাড়া প্রসবের পর ট্রাঙ্ক বন্দী করে রেখেছে। এসব কারণেই হয়ত বাচ্চাটিকে বাঁচানো যায়নি।
এই ঘটনা তদন্তে হলের সহকারী আবাসিক শিক্ষক রাবেয়া খাতুন তানিয়াকে প্রধান করে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
