তামাকপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে রাজস্ব বাড়বে

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০১৯, ১১:৩৪ পিএম

বাংলাদেশের ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ প্র্রাপ্তবয়স্ক (১৫ বছর থেকে তদূর্ধ্ব) মানুষ তামাক ব্যবহার করে। এদের সংখ্যা প্র্রায় ১ কোটি ৯২ লাখ। গতকাল রোববার ‘বাংলাদেশে তামাকপণ্যে করারোপ : বাজেট ২০১৯-২০’ শীর্ষক এক কর্মশালায় এ তথ্য জানান বক্তারা। তারা বলেন, এর পরিপ্রেক্ষিতে কর বাড়িয়ে মানুষের জীবন বাঁচানো যাবে, অন্যদিকে রাজস্ব আয়ও বাড়বে। এ সময় তারা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে আগামী বাজেটে সব ধরনের তামাকপণ্যে খুচরা মূল্যের ভিত্তিতে কর আরোপের তাগিদ দেন। রাজধানীর বিএমএ ভবন মিলনায়তনে কর্মশালার আয়োজন করে প্র্রগতির জন্য জ্ঞান (প্রজ্ঞা)।

প্রজ্ঞা বলছে, প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে তামাক, জর্দা ও গুল ব্যবহারের প্রবণতা অনেক বেশি। এদের সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ। বর্তমানে ই-সিগারেট ব্যবহারকারী রয়েছে শূন্য দশমিক ২ শতাংশ। কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ন্যাশনাল প্রফেশনাল অফিসার সৈয়দ মাহফুজুল হক এবং প্র্রজ্ঞার কো-অর্ডিনেটর হাসান শাহরিয়ার। অতিথি ছিলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মো. নাসির উদ্দিন। আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর, ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডসের লিড কনসালট্যান্ট ড. শরিফুল আলম, প্রজ্ঞা’র নির্বাহী পরিচালক এ বি এম জোবায়ের।

 বক্তারা বলেন, বাজেটে সিগারেটের মূল্যস্তর চারটি থেকে কমিয়ে দুটি নির্ধারণ করতে হবে। এক্ষেত্রে নিম্ন ও মধ্যম স্তরকে একত্রিত করে একটি মূল্যস্তর করে ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য ৫০ টাকা নির্ধারণ করে ৬০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা প্রয়োজন। এছাড়া উচ্চ ও প্রিমিয়াম স্তরকে একত্রিত করে আরেকটি মূল্যস্তর তৈরি করতে হবে। যেখানে ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য ১০৫ টাকা নির্ধারণ করে ৬৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ এবং সব ক্ষেত্রে ১০ শলাকা সিগারেটে ৫ টাকা সুনির্দিষ্ট শুল্ক আরোপ করা প্রয়োজন। অন্যদিকে বিড়ির ক্ষেত্রে মূল্য বিভাজন তুলে দিয়ে ফিল্টারবিহীন ২৫ শলাকা বিড়ির খুচরা মূল্য ৩৫ টাকা নির্ধারণ করে ৪৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ও ৬ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা প্রয়োজন। ফিল্টারযুক্ত ২০ শলাকা বিড়ির খুচরা মূল্য ২৮ টাকা নির্ধারণ করে ৪৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং ৪ দশমিক ৮ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা। সেই সঙ্গে ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্য (জর্দা ও গুল) ট্যারিফ ভ্যালু প্রথা বিলুপ্ত করে সিগারেট ও বিড়ির মতো খুচরা মূল্যের ভিত্তিতে কর আরোপ করা উচিত। এক্ষেত্রে প্রতি ১০ গ্রাম জর্দার খুচরা মূল্য ৩৫ এবং প্রতি ১০ গ্রাম গুলের খুচরা মূল্য ২০ টাকা নির্ধারণ করে ৪৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করতে হবে। এছাড়া প্রতি ১০ গ্রাম জর্দায় ৫ ও প্রতি ১০ গ্রাম গুলে ৩ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা উচিত। অতিথির বক্তব্যে ড. নাসির উদ্দিন বলেন, ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্য অন্যতম নীরব ঘাতক। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী ২০৪০ সালের মধ্যে দেশকে তামাকমুক্ত করতে হলে এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবেÑ জনস্বাস্থ্য আগে, নাকি রাজস্ব আগে। এক্ষেত্রে অবশ্যই জনস্বাস্থ্যকেই গুরুত্ব দিতে হবে। তামাকের ওপর রাজস্বের নির্ভরতা কমাতে হবে।

তিনি বলেন, দেশে সুশাসনের সমস্যা, জনসচেতনতার অভাব ইত্যাদি কারণে বিদেশি তামাক কোম্পানিগুলো বিনিয়োগ করতে আসছে। কিন্তু মানুষের ক্ষতি করে জাপান টোব্যাকোর মতো প্র্রতিষ্ঠানের বিদেশি বিনিয়োগের প্রয়োজন নেই। এ বিষয়ে বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (বিডা) সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তাছাড়া বিএটিবিতে সরকারের কোনো শেয়ার থাকা উচিত নয়। যারা তামাকপ্রণ্য বিক্রি করে তাদের সেরা করদাতা হিসেবে পুরস্কার দেওয়া বন্ধ করতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত