শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০১৯, ০২:২৩ এএম

শেরপুরের নকলা উপজেলার পাঠাকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের কৃষিবিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক ফরিদুল ইসলামের (৫৩) বিরুদ্ধে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ছাত্রীটির বাবা স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করার পর গত শনিবার ওই শিক্ষকের বিচারের দাবিতে দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত স্কুল প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়।

ওই ছাত্রীর বাবা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত ১১ মার্চ সোমবার সকালে শিক্ষক ফরিদুল ইসলাম অষ্টম শ্রেণিপড়–য়া তার মেয়েকে লাইব্রেরিতে ডেকে নিয়ে যান; প্রতিদিন এক ঘণ্টা করে  নিরিবিলিতে সময় দেওয়ার বিনিময়ে প্রতিবছর তাকে পরীক্ষায় প্রথম স্থান পাইয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। মেয়ে লজ্জায় বাড়ি চলে গিয়ে পরদিন স্কুলে যায়নি। এক দিন পর স্কুলে গেলে ওই শিক্ষক তাকে সিঁড়িঘরে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানি করেন।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্কুলের প্রধান শিক্ষক এ বি এম বেনজির আহম্মেদ বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে দেখব সত্যিই ওই শিক্ষক দোষী কি না। দোষী হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষক ফরিদুল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ শতভাগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। স্কুলের একটি চক্র আমাকে ফাঁসানোর জন্য এবং আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করতে এ নাটক সাজিয়েছে।’

এ বিষয়ে নকলা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদুর রহমান বলেন, ‘শনিবার ওই স্কুলে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে আমি এবং পুলিশ প্রশাসন পরিদর্শনে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করি। ঘটনা সত্য হলে আইনগত ও বিভাগীয় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

স্থানীয় এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক ইয়াসিন মিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অভিযুক্ত শিক্ষক এলাকায় অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং ক্ষমতাসীন দলের সদস্য। উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর থেকেই বিষয়টিকে মীমাংসার জন্য প্রভাবশালীরা জোর তদবির শুরু করেছেন।’ বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি জানামাত্র পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত