রিয়াল বেতিসকে হারিয়ে লিগ শিরোপায় একটা হাত দিয়ে রাখল বার্সেলোনা। রবিবার রাতে ৪-১ গোলে ম্যাচ জিতেছে কাতালানরা। লিওনেল মেসি অসাধারণ হ্যাটট্রিক করেছেন। লুইস সুয়ারেজ করেন একটি গোল। পরে গোড়ালির ইনজুরিতে পড়েন তিনি। যে কারণে উরুগুইয়ান স্ট্রাইকারকে দুই সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে।
বরাবরই মনোমুগ্ধকর ফুটবল খেলেন মেসি। রবিবার সেই মুগ্ধতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন। ফলে হ্যাটট্রিক করার পর রিয়াল বেতিস সমর্থকরা তাকে দাঁড়িয়ে অভিবাদনও জানিয়েছে। ব্যাপারটা অসাধারণ লেগেছে বার্সা তারকার। মনের খুশি গোপন না করে বলেছেন, ‘প্রতিপক্ষ আগে কখনো আমাকে এভাবে অভিবাদন জানিয়েছে কি না মনে পড়ছে না। আমি সত্যি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। এমন অভিজ্ঞতা আগে হয়নি আমার। আগেও দেখেছি, প্রতিপক্ষ হলেও তারা আমাকে অনেক সম্মান করে।’
হ্যাটট্রিক করা দেখেই বোঝা যাচ্ছে মেসি কী দুরন্ত ফর্মে আছেন। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শেষ ষোলোর ম্যাচে লিওঁর বিপক্ষে প্রায় হ্যাটট্রিক করেই ফেলেছিলেন। অল্পের জন্য মিস হয়। সেই ম্যাচে দুটি গোল নিজে করেছিলেন, দুটি অন্যদের দিয়ে করিয়েছিলেন। রবিবার বেতিসের বিপক্ষে অবশ্য কোনো গোল অ্যাসিস্ট করেননি মেসি। তিনটি গোল একাই করেছেন। প্রতিটি গোলেই রেখেছেন উৎকর্ষের ছোঁয়া। প্রথমার্ধের ১৮ মিনিটে ফ্রি-কিকে প্রথম গোলটি করে দলকে এগিয়ে দেন মেসি। বাঁ পায়ের শট গোলপোস্টের বাম কোণ দিয়ে এমনভাবে ঢুকে পড়ে যে, বেতিস গোলকিপারের কিছুই করার ছিল না। মেসির দ্বিতীয় গোলটিও আসে প্রথমার্ধেই। এই গোলের পেছনে দারুণ ভূমিকা রাখেন সুয়ারেজ। দারুণ দক্ষতায় তিনি বল বাড়িয়ে দেন মেসির দিকে। আলতো টোকায় প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে গোল করেন ফুটবল জাদুকর। দুই গোলে এগিয়ে যায় বার্সা।
দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণ জারি রেখেছিল কাতালানরা। ৬৩ মিনিটে একক প্রচেষ্টায় গোল করেন সুয়ারেজ। লেফট কর্নার থেকে বল বাড়িয়েছিলেন জেরার্ড পিকে। এরপর সুয়ারেজের ছন্দময় দৌড়। ড্রিবলিংয়ে ছিটকে পড়েন প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডাররা। সেই গোলের পরেই ঘরের মাঠে রিয়াল বেতিসের হার নিশ্চিত হয়ে যায়। তবে ম্যাচের ৮২ মিনিটে একটি গোল শোধ করে স্বাগতিকরা। ডান পায়ের কারিকুরিতে সুন্দর একটা গোল করেন লরেন মোরন। তবে ম্যাচের বিস্ময়কর গোলটি হয়েছে এরপরই। ৮৫ মিনিটে অবিশ্বাস্য সেই গোলটি করে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন মেসি। কর্নার কিক থেকে পাওয়া বল ইভান রাকিতিচ দেন মেসিকে। এরপর ডি-বক্সের কোনা থেকে ফ্লিক করে অবিশ্বাস্য গোলটি করেন পাঁচবারের বর্ষসেরা। যা এতটাই মনোমুগ্ধকর ছিল যে, বেতিসের গ্যালারিও স্ট্যাডিং অভেশনের জন্য উঠে দাঁড়িয়েছিল।
এটা তার অন্যতম সেরা গোল কি নাÑ এমন প্রশ্নের উত্তরে বার্সা তারকা বলেছেন, ‘আমি বলতে পারব না। তবে আসল ব্যাপার হলো, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গোলগুলো করতে পেরেছি। আর ৩ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে পেরেছি।’
চলতি মাসে এটা মেসির দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক। এই মাসে সেভিয়ার বিপক্ষে প্রথমটি করেছিলেন। চলতি মৌসুমে অবশ্য চারটি হ্যাটট্রিক হয়ে গেছে তার। ক্যারিয়ার ধরলে এটা মেসির ৫১তম। রবিবার জয়ের ফলে লিগ টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থাকা অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের চেয়ে ১০ পয়েন্টে এগিয়ে শীর্ষে ছিল বার্সেলোনা। লা লিগায় এখনো ১০ ম্যাচ বাকি। তাই ব্যবধান অনেক বড় মনে হচ্ছে। সব মিলিয়ে অবিশ্বাস্য কিছু না ঘটলে ধরে নেওয়া যায় লিগ শিরোপা যাচ্ছে বার্সার ঘরেই।
