নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় অল্পের জন্য বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রাণে বেঁচে যাওয়ার ঘটনায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। একইসঙ্গে নৃশংসতম ওই হামলায় বাংলাদেশি কয়েকজন প্রবাসীর হতাহতের ঘটনায় শোক ও নিন্দা জানান ট্রুডো।
গতকাল সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করে নিন্দা ও শোকের কথা জানান কানাডার প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো। বিশ্ব সম্প্রদায়কে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের জানান, সকালে দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে প্রায় ২০ মিনিট কথা হয়। ওই হামলার সময় ক্রাইস্টচার্চে অবস্থানরত বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্যদের কোনো ধরনের ক্ষতি না হওয়ায় ট্রুডো স্বস্তি প্রকাশ করেন বলেও ইহসানুল করিম জানান। তিনি বলেন, দুই প্রধানমন্ত্রী এ সময় বিশ্ব সম্প্রদায়কে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজের সময় ক্রাইস্টচার্চের আল নূর ও লিনউড মসজিদে ঢুকে সেমি অটোমেটিক রাইফেল দিয়ে গুলি চালিয়ে ৫০ জনকে হত্যা করে অস্ট্রেলিয়ান যুবক। ঘটনার সময় আল নূর মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে যাচ্ছিলেন নিউজিল্যান্ড সফরে থাকা বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের কয়েকজন সদস্য। অল্পের জন্য তারা প্রাণে বেঁচে যান। তবে নিউজিল্যান্ড প্রবাসী পাঁচ বাংলাদেশি ওই ঘটনায় নিহত হয়েছেন বলে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
প্রেস সচিব বলেন, জাস্টিন ট্রুডোকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এ জন্য সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক আন্দোলন গড়ে তোলা উচিত। এর উত্তরে কানাডার প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অভিমত সমর্থন করেন এবং বলেন, ‘বিশ্ব সম্প্রদায়কে সন্ত্রাসের মূল উৎপাটনে একযোগে কাজ করতে হবে। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তার সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি পুনর্ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ সকল ক্ষেত্রেই সন্ত্রাসকে নিন্দা জানায়। তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি শান্তি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ এবং আমরা আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সকল তীর্থস্থান যেমন মসজিদ, মন্দির, গির্জা এবং প্যাগোডা রক্ষার জন্য সতর্ক করে দিয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় কানাডায় অবস্থানরত জাতির পিতার আত্মস্বীকৃত খুনি নূর চৌধুরীকে দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে তার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, নূর চৌধুরী বর্তমানে কানাডায় পলাতক অবস্থায় রয়েছে। এটি আইনের শাসনের ক্ষেত্রে একটি বড় কাজ হবে, যদি কানাডা বঙ্গবন্ধুর খুনিকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেয়, যাতে করে সে ন্যায়বিচারের সম্মুখীন হতে পারে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা একটি আইনি বিষয় এবং আমরা বিষয়টি বিবেচনা করে দেখব।
