আবজাল দম্পতির জব্দ করা ২৫টি বাড়ি-প্লট ও জমি

ক্রোক আদেশের বিলবোর্ড লাগাচ্ছে দুদক

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০১৯, ০৪:৪০ এএম

দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জন করা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আবজাল হোসেন ও তার স্ত্রী রুবিনা খানমের অবৈধ সম্পদ ক্রোক আদেশের বিলবোর্ড লাগানো শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এই দম্পতির ২৫টি বাড়ি-প্লট ও জমি জব্দের আদেশ বাস্তবায়নে এই বিলবোর্ড লাগাচ্ছে দুদক।

গতকাল সোমবার প্রথম দিন রাজধানীর উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের ১১ নম্বর সড়কে সাড়ে তিন কাঠা প্লটের ওপর নির্মিত ছয়তলা ‘তামান্না ভিলা’য় সম্পত্তি জব্দের প্রথম বিলবোর্ডটি লাগানো হয়। আবজালের স্ত্রী রুবিনা খানম ওই বাড়ির মালিক। পরে উত্তরায় তাদের আরও একটি বাড়ি ও দুটি প্লট এবং বাড্ডায় আরেকটি প্লটে এ ধরনের আদেশের বিলবোর্ড লাগানো হয়।

এ সময় আবজাল দম্পতির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক মো. তৌফিকুল ইসলাম, উপপরিচালক মো. সামছুল আলম এবং উপপরিচালক এ কে এম মাহবুবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

এ ব্যাপারে গতকাল দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা তৌফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আমরা আদালতের নির্দেশে আবজাল ও তার স্ত্রীর নামে থাকা অবৈধ সম্পদের ওপর ক্রোক আদেশের বিলবোর্ড লাগিয়ে যাচ্ছি। তাদের নামে থাকা অন্য সম্পত্তির ওপর পর্যায়ক্রমে বিলবোর্ড স্থাপন করা হবে।

এই কর্মকর্তা আরও জানান, আবজাল হোসেন দম্পতির ২৫টি বাড়ি ও প্লটের খোঁজ পেয়েছে দুদক। এর মধ্যে ঢাকায় ১৫টি বাড়ি ও প্লট রয়েছে তাদের।

এসব সম্পত্তির ওপর বিলবোর্ড স্থাপন করতে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে দুদক। এর আগে গত ২১ জানুয়ারি দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ জব্দ করা হয়। গত ১২ ফেব্রুয়ারি আবজাল হোসেন, তার স্ত্রী রুবিনা খানম এবং তাদের ১৫ জন নিকটাত্মীয়ের আরও সম্পদের খোঁজে মাঠে নামে সংস্থাটি। সুনির্দিষ্টভাবে এই ১৭ জনের সম্পদের খোঁজ চেয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোয় চিঠি দেয় সংস্থাটি।

এ ব্যাপারে দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা তৌফিকুল ইসলাম জানান, আবজাল হোসেনের যেসব সম্পদের তথ্য তাদের হাতে আছে তার বাইরেও অনেক সম্পদ রয়েছে। আবজাল দম্পতি তাদের নিকটাত্মীয়দের নামে এসব সম্পদ করেছে। তাই এসব সম্পদের তথ্য চেয়ে বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়।

দুদক আবজাল হোসেন ও তার স্ত্রীর যেসব সম্পদ জব্দ করেছে

আবজাল হোসেনের জব্দ করা সম্পদ : ঢাকার মিরপুরে আড়াই কাঠা জমির ওপর টিনশেড বাড়ি, পল্লবীতে ছয় কাঠা জমি, উত্তরার ১৫/সি নম্বর সেক্টরে তিন কাঠা জমির ২৪ নম্বর প্লট, উত্তরার ১৫/সি নম্বর সেক্টরে তিন কাঠা জমির ২৬ নম্বর প্লট, খিলক্ষেতে তিন কাঠা জমি, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় চার কাঠার প্লট, ফরিদপুরের কোতোয়ালি পৌরসভা মৌজা এলাকায় সাড়ে ১০ শতাংশ জমিতে দোতলা বাড়ি, একই এলাকার রঘুনন্দনপুর মৌজায় সাড়ে ১৩ শতাংশ জমি, জেলার পশ্চিম টেপাখোলা এলাকায় ১১৩ শতাংশ জমি, রাজবাড়ী জেলার বসন্তপুর ইউনিয়নে ২৩০ শতাংশ জমি, খুলনা সিটি করপোরেশনের খালিশপুর বয়রা মৌজায় সাড়ে ৫ কাঠা জমি ও একই সিটি করপোরেশনের মুজগুনি আবাসিক এলাকায় সাড়ে তিন কাঠার প্লট।

আবজাল হোসেনের স্ত্রী রুবিনার নামে থাকা জব্দ সম্পত্তি : রাজধানীর উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের ১১ নম্বর সড়কে সাড়ে তিন কাঠার প্লটে ছয়তলা বাড়ি, উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের ১৬ নম্বর সড়কে তিন কাঠার প্লটে ছয়তলা বাড়ি, ঢাকার মিরপুরে একটি টিনশেড বাড়ি, পল্লবীতে আড়াই কাঠা জমি, বসুন্ধরা আবাসিক প্রকল্পের ৩০৬৭ নম্বর ব্লকে তিন কাঠার একটি প্লট, বসুন্ধরা আবাসিক প্রকল্পের ৩০৬৬ নম্বর ব্লকে তিন কাঠার একটি প্লট, ঢাকার কেরানীগঞ্জের একটি মার্কেটে দোকান, ঢাকার সাভারে ১৫ শতাংশ জমি, ফরিদপুরের কোতোয়ালি পৌরসভার হাবেলী গোলাপপুরে দোতলা বাড়ি, একই জেলার চর পশ্চিম টেপাখোলা এলাকায় ৮ শতাংশ জমি, একই এলাকায় আরেকটি ৯ শতাংশ জমি ও একই এলাকায় সাড়ে পাঁচ শতাংশের আরেকটি জমি।

এর বাইরে আবজাল হোসেন ও তার স্ত্রী রুবিনা খানমের নামে হুন্ডির মাধ্যমে পাঠিয়ে দুই লাখ ডলারে কেনা অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে একটি বাড়ি এবং তাদের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা আছে বলে দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে বলা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত