ভারতের সেনা টুপি ও ক্রিকেটের ‘রাজনীতিকরণ’

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০১৯, ১১:১১ পিএম

ক্রিকেটে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই অন্য উত্তেজনা। দুই দেশের চিরায়ত রাজনৈতিক বৈরিতার আঁচ না চাইলেও যেন সেখানে মিশে যায়। দুই দেশের ক্রিকেট ভক্তদের মাঝেও ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানে শুধুই অন্য দশটা ক্রিকেট ম্যাচ নয়।

কিন্তু খেলার মাঠে সরাসরি রাজনৈতিকে জড়ানোর উপায় কোথায়! খেলার স্পিরিট যে তা সায় দেয় না। কিন্তু ক’দিন আগে ভারতীয় ক্রিকেট দলের সেনা টুপি (আর্মি ক্যাপ) পরে মাঠে নামা যেন সব চিত্র পাল্টে দেয়। ক্রিকেট আর রাজনীতি এই ঘটনায় একাকার বলেই দাবি ওঠে। দাবিটা করে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।

ভারতীয়রা অবশ্য নিজেদের সঠিক বলেই দাবি জানায়। আইসিসি আবার ভারতীয়দের পক্ষে মাথা নাড়ালে ক্রিকেটের স্পিরিটের সুরটাকেই যেন বেসুরো শুনায় এই জায়গাটায়।

পুলওয়ামায় সন্ত্রাসী হামলায় ভারতীয় জওয়ান নিহত হওয়ার পর থেকেই ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক নতুন মাত্রা পায়। যার জন্য ভারত পাকিস্তানকেই দায়ী করে আসছিল ভারত।

সেদিনের হামলায় নিহতদের স্মরণ করতে ভারতীয় ক্রিকেটে দল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে রাঁচিতে তৃতীয় ওয়ানডেতে সেনা টুপি পড়ে মাঠে নামে। কিন্তু পাকিস্তান তা ভালোভাবে নেয়নি। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি এহসান মানি রাখঢাক না রেখেই প্রকাশ্যে এর সমালোচনা করেন। এমনি আইসিসিতে অভিযোগও জানায় পিসিবি।

তবে আইসিসি জানিয়ে দেয়, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআইয়ের অনুমতি নিয়েই এমটা করেছে। এটা নিহত সৈনিকদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে সম্মান জানাতে ও তহবিল সংগ্রহের জন্য করা বলে জানায় আইসিসি।

কিন্তু আইসিসির নিয়মেই ক্রিকেটের পোশাক বা সরঞ্জামে এমন কিছু থাকা যাবে না যা রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা বর্ণবাদী বার্তা দেয়। পাকিস্তান এই বিষয়টিকেই উল্লেখ করে আসছিল।

২০১৪ সালে ওল্ড ট্রাফোর্ডে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচেই ‘সেভ গাজা’ ও ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ খেলা সংবলিত রিস্টব্যান্ড পরে মাঠে নেমেছিলেন মঈন আলী। যে জন্য আইসিসি তার বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছিল। কিন্তু ভারতীয় ক্রিকেটারদের সেনা টুপির ক্ষেত্রে ভিন্ন কিছুই ঘটল। রাজনীতি কি তবে মিশে গেল ক্রিকেটে!

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত