রাজধানীর প্রগতি সরণিতে সুপ্রভাত পরিবহনের বাসের চাপায় নিহত বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) ছাত্র আবরার আহমেদ চৌধুরীর পরিবারকে তাৎক্ষণিক ও জরুরি খরচ হিসেবে ১০ লাখ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। সুপ্রভাত পরিবহন কর্র্তৃপক্ষকে সাত দিনের মধ্যে এই টাকা দিতে বলা হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন এ আদেশের পাশাপাশি নিহত আবরারের পরিবারকে কেন ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না এবং বেপরোয়া গাড়ি চালানো ও দুর্ঘটনা রোধে অব্যাহত ব্যর্থতায় সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের ব্যর্থতা কেন অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে নাÑ তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত। আবরারের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিপূরণ চেয়ে করা এক রিট আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গতকাল বুধবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ এ আদেশ ও রুল জারি করে।
আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, সড়ক ও যোগাযোগ সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ডিএমপি ও সুপ্রভাত পরিবহন কর্র্তৃপক্ষসহ আট বিবাদীকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
বাসচাপায় আবরারের মৃত্যুর ঘটনায় সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন এদিন হাইকোর্টের এই বেঞ্চের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল। হাইকোর্ট আইনজীবীকে এ বিষয়ে রিট আবেদন করতে বলে। এরপরই রিট আবেদন করেন তিনি। আদালতে নিজেই শুনানি করেন। কাজল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আবরারের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা দিতে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ ও রুল জারি ছাড়াও ঘটনাটি তদন্ত করে বিআরটিএ, পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ, বুয়েটের অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটকে (এআরআই) ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন আকারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।’
গত মঙ্গলবার সকালে প্রগতি সরণির বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার গেটের সামনে জেব্রা ক্রসিং পার হওয়ার সময় বাসচাপায় নিহত হন আবরার। ঘটনার পরপরই সড়কে নেমে প্রতিবাদ জানান শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার দিনভর ও গতকাল বুধবার বিকেল পর্যন্ত আন্দোলন চলে।
