বকেয়ার পরিশোধের দাবিতে এবার বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে কয়লা উত্তোলন বন্ধ করে দিয়েছে শ্রমিকরা। গতকাল বুধবার দুপুর ১২টা থেকে উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। তবে খনি কর্র্তৃপক্ষের দাবি, শ্রমিকদের একটি গ্রুপ বন্ধ করে দিলেও অন্য গ্রুপ কয়লা উত্তোলন করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খনির একাধিক কর্মকর্তা জানান, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির প্রোডাকশন, মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড প্রভিশনিং সার্ভিস চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এক্সএমসি-সিএমসি কনসোর্টিয়ামের অধীনে নিয়োজিত ১ হাজার বাংলাদেশি শ্রমিকের গত ১৯ মাসের সাপ্তাহিক ছুটির দিনের (৭২ দিন) টাকা বকেয়া রয়েছে। এ নিয়ে বেশ কিছু দিন থেকে আন্দোলন চালিয়ে আসছিল তারা। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খনি কর্র্তৃপক্ষের কাছে ১৮৬ কোটি টাকা বকেয়া থাকার অজুহাতে তাদের টাকা পরিশোধ না করলেও শ্রমিকরা বাধ্য হয়ে কাজ চালিয়ে আসছিল। গত ১ মার্চ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কয়লা উত্তোলন-কাজ বন্ধ করে দিলে খনি কর্র্তৃপক্ষ কিছু টাকা পরিশোধ করে তাদের। কিন্তু তাদের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতনসহ বকেয়া টাকা পরিশোধ করেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এতে বাধ্য হয়ে গতকাল দুপুরের শিফট থেকে শ্রমিকরা কাজে যোগদান থেকে বিরত থাকে।
খনি শ্রমিক নুরুজ্জামান সরকার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বুধবার দুপুর ১২টায় তাদের খনির ভূগর্ভে নামার কথা ছিল। কিন্তু বকেয়া টাকা পরিশোধ না করায় তাদের শিফটের শ্রমিকরা কাজে যোগদান না করে ফিরে এসেছে।’
খনি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ফেব্রুয়ারি মাসের বেতনসহ ১৯ মাসের সাপ্তাহিক ছুটির টাকা না দেওয়ায় শ্রমিকরা কাজে যোগদান থেকে বিরত আছে।’
এ বিষয়ে খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফজলুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘একটি গ্রুপের দুপুরের শিফটের কিছু শ্রমিক কাজে যোগদান করেনি। তবে অন্য গ্রুপের শ্রমিকরা কাজে যোগদান করায় উৎপাদন স্বাভাবিক রয়েছে।’
