তনুর মা-বাবার আকুতি

‘প্রধানমন্ত্রীর লগে দেখা করাই দেন’

আপডেট : ২২ মার্চ ২০১৯, ০৩:৩৬ এএম

কুমিল্লার কলেজছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যার তদন্তে তিন বছরেও কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় হত্যাকারীদের শনাক্ত করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ চান তার বাবা ইয়ার হোসেন ও মা আনোয়ারা বেগম। সন্তান হত্যার বিচারে প্রায় আশা হারিয়ে ফেলেছেন তারা। তার ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তাদের অসহযোগিতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন তারা। এখন কারও সঙ্গেই কথা বলতে আগ্রহ বোধ করেন না। গত বুধবার তনু হত্যার তৃতীয় বার্ষিকীতে মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা মির্জাপুর গ্রামের বাড়িতে তাদের সঙ্গে দেখা হয়। কন্যাশোকে শারীরিক-মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন তারা। আবোল-তাবোল কথাবার্তায় ভাবলেশহীন দিশেহারা বাবা-মায়ের চোখে মুখে ফুটে ওঠে অসহায়ত্বের ছাপ। সংবাদপত্রের পরিচয় দিয়ে কথা বলতে চাইলে আনোয়ারা বলেন, ‘আমাগো প্রধানমন্ত্রীর লগে দেখা করাই দেন। আমার তনু হত্যাকারীদের বিচার প্রধানমন্ত্রী ছাড়া কেউ করতে পারব না।’

তনু হত্যার বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা তারুণ্যের বাংলাদেশের সভাপতি তার সহপাঠী নাজমুল হক স্বজল তনুর পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। স্বজল দেশ রূপান্তরকে বলেন, তনুকে হারানোর শোক ও নানামুখী চাপে তার বাবা-মা বেশ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। হত্যাকাণ্ডের তদন্তের দায়িত্বে যারা রয়েছেন, তাদের ওপর আস্থা নেই। শেষ ভরসা হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চান তারা।

তনুর বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহকারী। তারা সেনানিবাসের ভেতরেই থাকতেন। ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় সেনানিবাসের ভেতরেই এক বাসায় ছাত্র পড়াতে গিয়ে নিখোঁজ হন তনু। অনেক খোঁজাখুঁজির পরে সেনানিবাসের ভেতর জঙ্গলে তনুর মরদেহ পাওয়া যায়। পরদিন তারা বাবা অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পুলিশ ও ডিবির হাত ঘুরে ২০১৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি কুমিল্লা। দুই দফা ময়নাতদন্তে মৃত্যুর কারণ বের হয়নি। ২০১৭ সালের মে মাসে সিআইডি তনুর জামাকাপড় থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে তিনজন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়ার কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল। পরে সন্দেহভাজনদের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে ম্যাচিং করার কথা থাকলেও তা নিয়ে সিআইডি আর কিছু বলছে না। ওই বছর ২৫ থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত সিআইডির একটি দল ঢাকা সেনানিবাসে সন্দেহভাজন হিসেবে তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তারা তনুর মায়ের কাছে সন্দেহভাজন জানালেও তাদের নাম জানায়নি সিআইডি।

তনুর মা বলেন, ‘এখন সিআইডিতে তনুর হত্যা মামলায় যিনি তদন্ত কর্মকর্তাÑ এএসপি জালাল উদ্দিনÑ তিনি আমাদের কল রিসিভ করেন না। এখন আর আমাদের কোনো আশা-ভরসা নেই, একমাত্র প্রধানমন্ত্রী আমাদের শেষ আশা-ভরসা। আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে চাই। আমাদের তনু হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনতে প্রধানমন্ত্রীকে আমরা বলব। আমাদের ভরসা আছে, নিশ্চয় আমরা দেখা করে বললে প্রধানমন্ত্রী আমাদের কথা রাখবেন এবং তনুর হত্যাকারীরা গ্রেপ্তার হবে।’

এদিকে গত বুধবার তনু হত্যাকারীদের আটক ও বিচারের দাবিতে কুমিল্লায় বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠন। হত্যার তিন বছর পূর্ণ হলেও হত্যাকারীদের এখন পর্যন্ত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তনুর সহপাঠীরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত