১৯৭০ সালের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভের পরও বাঙালির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে নানা নাটক করতে থাকে পাকিস্তানের সামরিক সরকার। মার্চের শেষ পর্বে মুজিব-ইয়াহিয়া বৈঠক ছিল আইওয়াশ মাত্র। পাকিস্তানি শাসক আর সামরিক জান্তা শুধু সময় ক্ষেপণ করছিল গণহত্যার প্রস্তুতি সম্পন্ন করার জন্য। এ সূত্রেই ২৫ মার্চ বিকেলে হঠাৎ আলোচনা স্থগিত করে দিয়ে ইয়াহিয়া খান সোজা এয়ারপোর্টে চলে যান। গণহত্যার সবুজ সংকেত দিয়ে সোজা পাড়ি জমান করাচির পথে। পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদের নির্বিচারে হত্যার মধ্য দিয়ে তাদের কণ্ঠরোধ করার জন্য তিনি ছয় ডিভিশন সেনাকে নির্দেশ দিয়ে গিয়েছিলেন। করাচি বিমানবন্দরে পৌঁছে ইয়াহিয়া খান সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। সেখানে তিনি সাবলীলভাবে বলেন, ‘আল্লাহ পাকিস্তানকে রক্ষা করেছে’। অথচ এরই মধ্যে তার নির্দেশে বাংলাদেশে নির্বিচারে গণহত্যা চলছিল। ইয়াহিয়া খানের ঢাকা ত্যাগের খবর ঢাকাসহ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। রাজনৈতিক আন্দোলনে যুক্ত সবাই এ সংবাদে একটি অশনিসংকেত দেখতে পেলেন। অনুমান করলেন আজ রাতেই বড় কিছু ঘটতে যাচ্ছে।
পাকিস্তানপন্থি লেখকদের কেউ কেউ পাকিস্তানি শাসক ও রাজনীতিকদের তেমন কোনো দোষ দেখতে পাননি! পাকিস্তান বিচ্ছিন্ন হওয়ার পেছনে আওয়ামী লীগ আর বঙ্গবন্ধুকেই দায়ী করেছেন। এ ধারার লেখকদের একজন সে সময় ইয়াহিয়া খানের মন্ত্রিসভার অন্যতম সদস্য বাঙালি জি. ডব্লিউ চৌধুরী। তিনি তার গ্রন্থ ঞযব খধংঃ উধুং ড়ভ টহরঃবফ চধশরংঃধহ-এ বাঙালির মুক্তিযুদ্ধকে ‘গৃহযুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। আর এর পুরো দায় চাপিয়েছেন ভারত ও বঙ্গবন্ধুর ওপর। কিন্তু এই সংগত প্রশ্ন তাদের করা হলো না যে, নিজ দেশের সেনাবাহিনী কেন বাঙালির ওপর নির্বিচারে গণহত্যা চালাতে পারল? এর কারণ তো অস্পষ্ট নয়Ñ সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিপুল বিজয় আত্মস্থ করতে পারেনি সামরিক শাসক আর ভুট্টোর মতো রাজনৈতিক নেতারা। গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে নির্বাচনে জয়ী বঙ্গবন্ধুর হাতে মন্ত্রিসভা গঠনের দায়িত্ব দিয়ে পাকিস্তানি শাসনের নতুন অধ্যায় শুরু করলে কোনো ‘দুঃখজনক’ ঘটনাই ঘটত না।
যাই হোক, মুজিব-ইয়াহিয়া বৈঠকের আলোচনা থেকে কোনো ফলাফল না আসায় দেশব্যাপী সাধারণ মানুষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছিল। গোলযোগ ও সংঘাতের নতুন নতুন সংবাদ আসতে থাকে। পূর্ব পাকিস্তানের কয়েকটি জেলায় বাঙালিদের প্রতিবাদ মিছিলে পাকিস্তানি বাহিনী গুলি ছুড়তে থাকে। বাড়তে থাকে মৃতের সংখ্যা। পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে চট্টগ্রাম ও রংপুরে কারফিউ বা সান্ধ্য আইন জারি করা হয়। এরই মধ্যে পশ্চিম পাকিস্তানি নেতাদের অনেকেই ঢাকা ত্যাগ করেছেন।
২৫ মার্চ গণহত্যার জন্য পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর প্রস্তুতির একটি চিত্র পাওয়া যায় রফিকুল ইসলামের বইতে (রফিকুল ইসলাম, লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে)। তিনি চট্টগ্রামে তার দপ্তরে বসে পাওয়া তথ্যগুলো একসঙ্গে জড়ো করেছেন। এখানে তা উদ্ধৃত করা হলো, ‘ইয়াহিয়ার সঙ্গে মীমাংসায় পৌঁছে গেছে বলে এ সময়ে একটা গুজব ছড়িয়ে পড়ে। তবে নির্ভরযোগ্য কোনো মহল থেকে এ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেল না। সরকারি বেতারে একটা রাজনৈতিক ফয়সালার আভাস দেওয়া হয়। কিন্তু এ খবরের ওপরও নির্ভর করা গেল না।...’
এই দিন (২৫ মার্চ) বেলা ১১টায় সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে মেজর জেনারেল জানজুয়া, মেজর জেনারেল মিঠ্ঠা খান, মেজর জেনারেল নজর হোসেন শাহ এবং আরও একজন জেনারেল (সম্ভবত জেনারেল ওমর) রংপুর গেলেন। সে সময় রংপুরে ২৩ ব্রিগেডের কমা-ে ছিলেন ব্রিগেডিয়ার আবদুল আলী মালিক। তিনি হেলিপ্যাডে জেনারেলদের অভ্যর্থনা জানিয়ে তাদের সরাসরি তার বাসভবনে নিয়ে গেলেন। এ সময় ১৪০০ ডিভিশন সদর দপ্তরের কর্নেল স্টাফের হাতে একটি সিল করা প্যাকেট ছিল, অন্যরা ছিলেন খালি হাতে। মাত্র কয়েক মিনিট পর তারা হেলিপ্যাডে ফিরে এসে রংপুর ত্যাগ করলেন। ফেরার সময় কারও হাতে আর সিল করা প্যাকেটটি দেখা গেল না। ব্রিগেডিয়ারের বাসভবনে সে প্যাকেটটি তাকে দেওয়া হয়েছিল।
হেলিকপ্টার চলে যাওয়ার পর ব্রিগেডিয়ার আবদুল আলী মালিক ব্রিগেড সদর দপ্তরে বিভিন্ন ইউনিট কমারদের এক সম্মেলন ডাকলেন। সব ইউনিট কমারই ছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানি। শুধু ইপিআরের প্রতিনিধি ছিলেন বাঙালি ক্যাপ্টেন নওয়াজিশ। তিনি দশম উইংয়ের সহকারী কমা-ার ছিলেন। বোধ হয় সম্মেলনে একজন বাঙালি অফিসারের উপস্থিতি ব্রিগেডিয়ারের মনঃপূত হলো না। তাই তিনি নওয়াজিশকে সরাসরি বলে দিলেন, ‘নওয়াজিশ, এখানে আপনার উপস্থিতির প্রয়োজন নেই। আমরা শুধু সেনাবাহিনীর ব্যাপারে আলাপ করব। সুতরাং এখানে অযথা আপনার সময় নষ্ট করা ঠিক হবে না। তার চেয়ে আপনি শহরের নিরাপত্তাব্যবস্থার প্রতি লক্ষ রাখুন।’
নওয়াজিশ ব্রিগেড সদর দপ্তর ত্যাগ করলেন, কিন্তু তার মনের মধ্যে শুধু হেলিপ্যাডে এবং সদর দপ্তরে দেখা সন্দেহজনক দৃশ্যগুলো ঘুরপাক খেতে থাকল। রংপুর থেকে হেলিকপ্টার রাজশাহী, যশোর, চট্টগ্রাম এবং কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট ঘুরে বিকেলে ঢাকা ফিরে এলো। ততক্ষণে খবর ছড়িয়ে পড়ে, পরিকল্পনা কমিশনের চেয়ারম্যান এবং ইয়াহিয়ার প্রধান আলোচনাকারী এম এম আহমদ গোপনে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। ইয়াহিয়া খান প্রেসিডেন্ট হাউস ত্যাগ করলেন বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে। গোপনে তিনি বিমানযোগে ঢাকা থেকে সরাসরি করাচি চলে গেলেন। সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে প্রেসিডেন্টের ঢাকা ত্যাগের খবর প্রথম জানা গেল। শহরের বিভিন্ন স্থানে ইপিআর সেনারা ডিউটিতে ছিল। ‘মীমাংসা হয়ে গেছে’ এই অজুহাত দেখিয়ে এক নির্দেশে বলা হলো ইপিআর সেনাদের আর ডিউটি দেওয়ার দরকার নেই। তাদের অস্ত্রাগারে অস্ত্র জমা দিতে বলা হলো। এসব নির্দেশে ইপিআর সদস্যদের মনে সন্দেহ দেখা দিলেও তাদের আর কিছু করার ছিল না। এরই মধ্যে ২২ বালুচ রেজিমেন্টের সেনারা পিলখানার প্রায় সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে দিয়েছিল। ওই দিন বেলা ২টার দিকে ২২ বালুচ রেজিমেন্টের একটি কোম্পানি খেলার পোশাকে পিলখানা এলাকার চারদিক ঘুরে দেখল। তারা এমন ভাব দেখাল যেন এটা তাদের নিয়মিত শরীর চর্চারই অংশ। আসলে চারদিক ঘুরে তারা পিলখানার ভেতরে ইপিআর সেনাদের অবস্থান দেখে রাখছিল, যাতে রাতে সঠিকভাবে লক্ষ্যস্থলের ওপর আক্রমণ চালাতে পারে। আগের নির্দেশ অনুযায়ী সন্ধ্যার মধ্যে সব ইপিআর সেনা তাদের অস্ত্র অস্ত্রাগারে জমা দিয়ে দিল। ২২ বালুচ রেজিমেন্ট নীরবে ইপিআর সিগন্যাল যোগাযোগ কেন্দ্রের দায়িত্ব নিয়ে নিল এবং অবাঙালি সিগন্যাল সেনাদের ডিউটিতে নিয়োজিত করল। গেটেও এই রেজিমেন্টের সেনাদের ডিউটি দেওয়া হলো এবং পিলখানার ভেতরে প্রবেশ কিংবা সেখান থেকে বাইরে যাওয়া বন্ধ করে দেওয়া হলো।
আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে এমন একটা গুঞ্জন ঢাকার সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ল। যেকোনো সময় কারফিউ হতে পারে আশঙ্কায় লোকজন দ্রুত ঘরে ফিরতে শুরু করল। এরূপ অবস্থায় লোকজন কিছুটা সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ল এবং সামরিক আইন আরও কঠোর হতে পারে, কারফিউ অমান্য করলে এলোপাতাড়ি গুলি চলতে পারে ইত্যাদি আশঙ্কায় শঙ্কিতবোধ করল; কিন্তু তাদের সামনে যে গণহত্যা ঘনিয়ে আসছে, এত দূর কেউ ধারণা করতে পারল না। বিভিন্ন ঘাঁটিতে নিযুক্ত সিনিয়র পশ্চিম পাকিস্তানি সামরিক অফিসার ছাড়া এ পরিকল্পনার কথা আর কারও জানার উপায় ছিল না।
ঠিক এভাবে পশ্চিম পাকিস্তানি সেনা অফিসার সিদ্দিক সালিকের ভাষ্যেও পাকিস্তানি সেনাদের গণহত্যার প্রস্তুতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। তিনি লেখেনÑ ২৫ মার্চ মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন যখন রাজনৈতিক আলোচনার সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে গভীর চিন্তামগ্ন ছিলেন, ঠিক সে সময় বেলা ১১টায় তার সবুজ টেলিফোনটি বেজে উঠল। অপর প্রান্তে ছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খান। তিনি বললেন, ‘খাদিম, আজ রাতেই’। নির্দেশটি খাদিমের মধ্যে কোনোরূপ উত্তেজনার সৃষ্টি করল না। তিনি হাতুড়ির আঘাত পড়ার অপেক্ষাতেই ছিলেন। প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত তার ক্ষমতা গ্রহণের দ্বিতীয় বার্ষিকীর সঙ্গে মিশে গেল। আদেশ কার্যকর করার জন্য জেনারেল খাদিম বার্তাটি তার স্টাফদের মধ্যে ছড়িয়ে দিলেন। বার্তা যতই নিচের দিকে পৌঁছাতে থাকল, উত্তেজনাও তত বেশি বৃদ্ধি পেল। আমি দেখতে পেলাম কয়েকজন জুনিয়র অফিসার অতিরিক্ত কিছু রিকয়েললেস রাইফেল জড়ো করার জন্য টানাটানি করছে। অতিরিক্ত গোলাবারুদ পাওয়ার জন্য অনুমতি গ্রহণ করছে। একটি বিকল মর্টার সারিয়ে ফেলা হলো। কয়েক দিন আগে রংপুর থেকে আনা (২৯ ক্যাভালরি) ট্যাংকে ব্যবহার করার জন্য চালকরা জংধরা এম-২৪ কামানে তেল দিতে শুরু করেছে। ঢাকা শহরকে শব্দে প্রকম্পিত করার জন্য এগুলোই যথেষ্ট।
১৪ ডিভিশনের প্রধান স্টাফ অফিসাররা ঢাকার বাইরের গ্যারিসনগুলোকে আঘাত হানার চূড়ান্ত সময়টি টেলিফোনের মাধ্যমে জানিয়ে দিল। বার্তা পাঠানোর জন্য তারা একটি ব্যক্তিগত সাংকেতিক বার্তা তৈরি করেছিল। নির্দেশ হলো, সব গ্যারিসনকে এক সঙ্গেই অপারেশনে নামতে হবে। রাত ১টায় নিয়তি নির্দিষ্ট সময়টি নির্ধারিত হলো। হিসাব করা হয়েছিল, ততক্ষণে প্রেসিডেন্ট নিরাপদে করাচি পৌঁছে যাবেন। অপারেশন সার্চলাইট পরিকল্পনায় দুটি সদর দপ্তর সৃষ্টির পরিকল্পনা আমার দৃষ্টিগোচর হলো। মেজর জেনারেল ফরমানের ওপর ঢাকা নগরী ও এর উপকণ্ঠের দায়িত্ব দিয়ে তার অধীনে দেওয়া হলো ব্রিগেডিয়ার আরবাবের অধিনায়কত্বে ৫৭ ব্রিগেড। অন্যদিকে মেজর জেনারেল খাদিমকে দেখতে হবে সারা প্রদেশ। এ ছাড়া লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খান ও তার ব্যক্তিগত স্টাফরা দ্বিতীয় রাজধানী সামরিক আইন সদর দপ্তরে রাত্রিযাপন করবেন ঢাকা নগরীর ভেতর ও বাইরে নেওয়া ব্যবস্থাবলির অগ্রগতি লক্ষ্য করার জন্য।...
আমার মতো জুনিয়র অফিসারদের সংগ্রহ করে রাত ১০টায় ‘খ’ অঞ্চলের সামরিক আইন প্রশাসকের সদর দপ্তরে (দ্বিতীয় রাজধানীতে) আনা হলো। তারা লনে সোফা ও আরাম কেদারা টেনে এনে বসাল। রাত্রির শেষ যাম পর্যন্ত চলে, সেই পরিমাণ চা ও কফির ব্যবস্থা করার কাজে মনোনিবেশ করল। ‘একমাত্র উপস্থিতি’ ছাড়া আমার বিশেষ কোনো কাজ ছিল না। এই ‘আউটডোর অপারেশন কক্ষের’ সামনে বেতারযন্ত্র বসানো একটি জিপ দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল। আকাশে তারার মেলা। শহর গভীর ঘুমে নিমগ্ন। বসন্তে ঢাকায় রাত যেমন মনোরম হয়, তেমনই ছিল রাতটি। একমাত্র রক্তক্ষয়ী হত্যাযজ্ঞ ছাড়া অন্য সবকিছুর জন্যই পরিবেশটি ছিল মোহনীয়।
সেনাবাহিনী ছাড়া আরেক শ্রেণির লোক ওই রাতে তৎপর ছিল। তারা ছিল আওয়ামী লীগ নেতা এবং তাদের বেসরকারি বাহিনীর বাঙালি সেনা, পুলিশ, সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত লোকজন, ছাত্র ও দলের স্বেচ্ছাসেবকরা। তারা মুজিব, কর্নেল ওসমানী ও গুরুত্বপূর্ণ বাঙালি অফিসারদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছিল। প্রচ-তম প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য তারা তৈরি হচ্ছিল। ঢাকায় তারা অসংখ্য ‘পথ প্রতিবন্ধক’ সৃষ্টি করল, যাতে সেনারা শহরের ভেতর প্রবেশ করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হয়।’ (সিদ্দিক সালিক, Witness to Surrender)
শহর জুড়ে বাঙালির প্রতিরোধ প্রস্তুতি চিন্তাগ্রস্ত করে তুলে পাকিস্তানি সামরিক জান্তাকে। তাই তারা রাত ১টা পর্যন্ত দেরি করা সমীচীন মনে করেনি। ফলে ২৫ মার্চ রাত সাড়ে এগারোটায় যুদ্ধ প্রস্তুতি নিয়ে ভয়ংকর সব মারণাস্ত্রসহ সেনানিবাস থেকে বেরোতে থাকে হানাদার বাহিনীর গাড়ির বহর।
