সামাজিক মাধ্যম নজরদারি

ভোট শেষে ১২৫ কোটি টাকার বরাদ্দ কমে ১ লাখ টাকা

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০১৯, ০২:০০ এএম

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ফেইসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারির লক্ষ্যে চলতি অর্থবছরে র‌্যাবের জন্য হাতে নেওয়া আলোচিত প্রকল্পের বরাদ্দ ১২৫ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে মাত্র এক লাখ টাকা ধরা হয়েছে। নির্বাচন ঘিরে মাত্র চার মাসের জন্য নেওয়া প্রকল্পটি বাস্তবায়ন শুরুর আগেই মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে।

প্রকল্পের কার্যপত্রের তথ্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম (ফেইসবুক, টুইটার, ইন্সটাগ্রাম, ভাইভার, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো) নজরদারির জন্য র‌্যাব ও আইসিটি মন্ত্রণালয় যৌথ উদ্যোগে নেওয়া প্রকল্পের জন্য মোট ১২৫ কোটি ৩৯ লাখ টাকা জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সভায় (একনেক) অনুমোদিত হয়। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয় ২০১৮ সালের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। গত ২৮ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ইন্টারনেটে সব ধরনের যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী প্রচার-প্রচারণা, গুজব, মিথ্যা তথ্য, উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণের কথা বলা হয়েছে কার্যপত্রে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে র‌্যাবের জনসংযোগ শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রকল্পের বরাদ্দ কেন মাত্র এক লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে, সেটা বলতে পারছি না। তবে প্রকল্পটির মাধ্যমে যেসব কার্যক্রম নেওয়ার কথা ছিল সবই ভালো উদ্যোগ। সেটা প্রকল্পেই উল্লেখ আছে। সব সময়ের জন্যই প্রকল্পটির প্রয়োজনীয়তা আছে। মেয়াদ বাড়ানোর প্রয়োজন, নিয়ম অনুসারে কর্র্তৃপক্ষ সব করবে।’

সম্প্রতি অনুমোদিত সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (আরএডিপি) মোট আকার ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা। বছরের শুরুতে নেওয়া এডিপির মোট বরাদ্দের চেয়ে যা ৮ হাজার কোটি টাকা কম। ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকার এডিপি বাস্তবায়নের লক্ষ্য হাতে নেওয়া হয়েছিল চলতি অর্থবছরে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব নূরুল আমিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, যে বিভাগগুলো অর্থবছরের বাকি সময়ে কোনো অর্থব্যয় করতে পারবে না, তাদের বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। এই বরাদ্দ দেওয়ার আগে বাস্তবায়নকারী সংস্থা ও বিভাগগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের তথ্য অনুসারে, দরপত্র ডাকায় বিলম্ব, দরপত্র কার্যকর না হওয়া, প্রকল্পে ঋণ না পাওয়া, অর্থছাড় না হওয়া বা দেরিতে অর্থছাড় হওয়া, ভূমি অধিগ্রহণ না হওয়া ও মামলাজনিত সমস্যার কারণসহ যেনতেনভাবে প্রকল্প অনুমোদন করিয়ে নেওয়ার কারণেও বাস্তবায়নের কাজ শুরু করতে পারছে না বাস্তবায়নকারী মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘উন্নয়ন বাজেটে নামমাত্র বরাদ্দ দিয়ে প্রকল্প টিকিয়ে রাখার কৌশল, এটা কোনো ভালো চর্চা নয়। এতে জনগণের অর্থের অপচয় হয়। এক ধরনের খারাপ নজির তৈরি করে। প্রকল্প প্রস্তুত না করে তড়িঘড়ি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়ার কারণেই বাস্তবায়ন হয় না। এজন্য পরিকল্পনা কমিশনকে আরও জোরদার ভূমিকা রাখতে হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত