‘হল বন্ধ নয়, সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণই মূল লক্ষ্য’

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০১৯, ০৮:০৫ পিএম

সিনেমার অবস্থা তেমন ভালো নয়, বন্ধ হয়ে যাচ্ছে একের পর এক সিনেমা হল। ইতিমধ্যেই হল মালিকরা ঘোষণা দিয়েছেন ১২ এপ্রিল তারা সিনেমা হল বন্ধ করে দেবেন। এ নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে হল মালিক সমিতি ও চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজকসহ চলচ্চিত্র পরিবার।

চারদিকে প্রশ্ন উঠেছে সত্যিই কি হল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে? নাকি এসবই কেবল ফাঁকা আওয়াজ? এমন প্রশ্নের জবাব জানতে সম্প্রতি দেশ রূপান্তর মুখোমুখি হয়েছিল মধুমিতা সিনেমা হলের মালিক ও হল মালিক সমিতির সভাপতি ইফতেখার উদ্দিন নওশাদের। তিনি বলেন, ‘আমাদের আল্টিমেটাম হচ্ছে হল বাঁচানোর জন্য। আমাদের হলগুলোতে যারা যায় তারা মধ্যবিত্ত দর্শক। তারা কিন্তু ওই মাপের ছবি পাচ্ছে না। ‘দেবী’র পর আর কোনো ছবি ব্যবসা করেনি। আমরা ব্যবসা সফল ছবি পাচ্ছি না। ফলে হল বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।’

সরকার তো সিনেমা হল বাঁচানোর জন্য অনেক উদ্যোগই নিয়েছে। তারপরও কেন সিনেমা হল বন্ধ করে দিচ্ছেন? জবাবে নওশাদ বলেন, ‘সরকার তো অনেক কিছুই করার কথা বলেছে। কিন্তু সেগুলো তো বললে হবে না। কার্যকরও করতে হবে। কনটেন্টগুলো তো চালাতে হবে। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত একটা ছবিও ব্যবসা সফল হয়নি।’

যৌথ প্রযোজনায় ছবি নির্মাণও বন্ধ হয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আগে বেশ কিছু ছবি যৌথ প্রযোজনার মাধ্যমে আসত। সেগুলো বেশ ব্যবসাও করত। কিন্তু যৌথ প্রযোজনার যে নীতিমালা করা হয়েছে তা অনেক কঠিন। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে যৌথ প্রযোজনায় ছবি বানানোও।’

 

এদিকে বাংলাদেশের সিনেপ্লেক্সগুলোতে একই দিনে হলিউডের ছবি মুক্তি পেলেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে উপমহাদেশীয় ছবির ওপর। বিষয়টি তুলে ধরে নওশাদ বলেন, ‘যেখানে হলিউডের ছবি আন্তর্জাতিক মুক্তির দিনেই একসঙ্গে বাংলাদেশে রিলিজ হচ্ছে, সেখানে কলকাতার বাংলা ছবি বা হিন্দি ছবি কেন মুক্তি পাবে না একসঙ্গে?

এদিকে হল মালিকদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। প্রযোজকদের দাবি হল মালিকদের কারচুপির কারণেই তারা লগ্নি ফেরত পান না। হলমালিকদের কারচুপি সম্পর্কে জানতে চাইলে নওশাদ বলেন, ‘এটা সবাই বলে। হল মালিকরা যদি কারচুপিই করেন তাহলে তারা ছবি দেয় কেন? ব্যবসা না করলে হলে ছবি দিতে হবে কেন। এখন কাদা ছোটাছুটি করলে তো হবে না। রিয়্যালিস্টিক বিষয়টা তো মেনে নিতে হবে। ভালো ছবি তো আগে নির্মাণ করতে হবে। না হলে তো হল চলবে না। ফলে হল কমতে কমতে এখন পৌনে ২০০তে এসে পৌঁছেছে। এগুলো নিয়ে কাদা ছোটাছুটি করা ঠিক না। এগুলো তারা বলবেই।’

তাহলে কি ১২ এপ্রিল সত্যিই সত্যিই বন্ধ হয়ে যাবে সিনেমা হল? জবাবে নওশাদ বলেন, ‘আমরা চাই না হল বন্ধ হোক। হল বন্ধ করার জন্য তো আমরা ব্যবসায় নামিনি। আমরা আমাদের সমস্যাগুলোর কথা বলেছি। আমরা সমস্যাগুলোর সমাধান চাই। এ জন্য  যেকোনো ধরনের সমঝোতায় যেতে আমরা আগ্রহী। হল বন্ধ নয়, মূলত সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্যই আমরা এমন ঘোষণা দিয়েছি। তবে এটা ঠিক যে, আমাদের সমস্যাগুলোর সমাধান না হলে সত্যিই হল বন্ধ হয়ে যাবে।’

এদিকে বিদ্যমান আইনের পরিবর্তন চেয়ে নওশাদ বলেন, ‘স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর এসে এখন তো অনেক আইন-কানুনই চেঞ্জ হয়ে গেছে। এখন তো আর সেই ৪৭ বছর আগের নিয়ম অনুসরণ করে লাভ নেই। আমরা চাই দেশে ভালো সিনেমা বানানো হোক। আগে ভালো সিনেমা বানানো হতো এখন তো তেমন হয় না। কেন হচ্ছে না। এই কারণগুলোও খতিয়ে দেখা দরকার। আইন পরিবর্তনের মাধ্যমে ভারতীয় ছবিও এখানে চালানোর ব্যবস্থা করা হোক।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত