ফেইসবুকে নির্বাচনী প্রচার বিজ্ঞাপনে ব্যয় কোটি রুপি

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০১৯, ০১:৩৪ এএম

আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এরই মধ্যে শুধু ফেইসবুকেই বিজ্ঞাপন বাবদ তিন কোটি ২৭ লাখ টাকার বেশি ব্যয় করেছে। চলতি মাসের ২ এবং ১৬ তারিখে এই অর্থ ব্যয় করা হয়েছে বলে ভারতের একটি সাপ্তাহিক পত্রিকার গবেষণাধর্মী প্রতিবেদনে বলা হয়। এই ব্যয়ের বাইরেও বিজেপির তত্ত্বাবধানে থাকা শীর্ষ ২০টি ফেইসবুক পেজ থেকে প্রায় আড়াই কোটি রুপি ব্যয়ে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। বিজেপির স্বীকৃতি পেইজ থেকে দেড় কোটি রুপি ব্যয়ে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। বিজেপির বাইরে ফেইসবুকে বিজ্ঞাপন দেওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে বিজু জনতা দল। দলটি নির্বাচনকে সামনে রেখে এরই মধ্যে ১৫ লাখ ২০ হাজার রুপির বিজ্ঞাপন দিয়েছে ফেইসবুকে। এরপরই আছে কংগ্রেস। দলটি এরই মধ্যেই ১২ লাখ ৭০ হাজার রুপির বিজ্ঞাপন    দিয়েছে। এ ছাড়া কর্ণাটক সরকার ৫ লাখ এবং কংগ্রেসপন্থি অন্যান্য পেজগুলো থেকে এক লাখ ৬৮ হাজার রুপির বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়।

ফেইসবুকে বিজেপির নির্বাচনী প্রচার ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘ভারত কি মান কি বাত’ শীর্ষক ক্যাম্পেইন প্রচারেও ব্যয় করা হয়েছে ৮৭ লাখ ৩০ হাজার রুপি। এ ছাড়া ‘ন্যাশন উইথ নমো’ পেইজ থেকেও ৪৩ লাখ রুপির বিজ্ঞাপন দেওয়া হয় একই প্লাটফর্মে।

বিজ্ঞাপন দেওয়ার ক্ষেত্রে তৃতীয় অবস্থানে আছেন উড়িষ্যার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পাটনায়েক। চলতি মাসের ২ ও ১৬ তারিখে তিনি ব্যয় করেছেন ১৫ লাখ ২০ হাজার রুপি। চতুর্থ অবস্থানে আছে কংগ্রেসপন্থি ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি, যারা এরই মধ্যে ১৩ লাখ রুপির বিজ্ঞাপন দিয়েছেন। পঞ্চম অবস্থানে ৮ লাখ ৩০ হাজার রুপির বিজ্ঞাপন দিয়ে আছে মাইগভ ইন্ডিয়া পেজ। এই পেজটি কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালিত।

শীর্ষ ২০টি পেজের মধ্যে ষষ্ঠ অবস্থানে আছে ‘মাই ফার্স্ট ভোট ফর নমো’, যা মার্চের ২ তারিখ পর্যন্ত ১১ হাজার রুপি ব্যয় করে। কিন্তু পরের দুই সপ্তাহেই পেজটি ৭৬ লাখ রুপির বিজ্ঞাপন দেয় ফেইসবুকে।

ফেইসবুকের বিজ্ঞাপনী নীতি অনুসারে, বিজ্ঞাপনদাতাকে তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য দিতে হয়। সম্প্রতি ফেইসবুক কর্তৃপক্ষ কোনো পার্টির বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধ করে দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিজেপির যে পেজগুলো থেকে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে, সেগুলোতে ঠিকানার জায়গায় মোদির এবং দুটি ওয়েবসাইটের নাম দেওয়া আছে। ওই ওয়েবসাইটগুলো কোনো ব্যক্তিমালিকানাধীন নয়। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের পক্ষে এই নির্বাচনী প্রচারের পেছনে কে বা কারা আছে তা বোঝা মুশকিল হয়ে যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপনের এমন কৌশল নিয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, বিজেপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনী বিজ্ঞাপন দেওয়ার ক্ষেত্রে এমন কৌশল নিচ্ছে যাতে সহজে বোঝা না যায় এর পেছনের অর্থ জোগানদাতা কে। নির্বাচন কমিশনকে এড়াতে এই কৌশল নিয়েছে বিজেপি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত