আগামী ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য চতুর্থ ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পিরোজপুরে সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ গতকাল সোমবার সকালে মঠবাড়িয়া উপজেলার ৮নং হলতা গুলিশাখালী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি জনি তালুকদারকে (২৫) কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। মঠবাড়িয়া থানার ওসি এম আর শওকত আনোয়ার ইসলাম বলেন, ‘সোমবার সকালে উপজেলা নির্বাচনী সহিসংতার জেরে জনি নামে এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’
নিহত জনি গুলিশাখালীর কবুতরখালী গ্রামের মৃত হাতেম আলী তালুকদারের ছেলে। তার তিন বছর বয়সী এক মেয়ে রয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী) রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোশারফ হোসেন সাকুর সমর্থকরা হামলা চালিয়ে জনিকে হত্যা করেছে।
হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ ও স্থানীয়রা জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে গুলিশাখালী বাজারে পৌঁছালে প্রতিপক্ষের সমর্থকরা তাকে ধাওয়া করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলাপাতাড়ি কোপায়। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানে অবস্থার আরও অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে বেলা ১টার দিকে তিনি মারা যান।
মঠবাড়িয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়ন জমাদানের পর থেকে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। গত শনিবার রাতে গুলিশাখালী বাজারে বিদ্রোহী প্রার্থী রিয়াজের সমর্থক ইউপি সদস্য আলাউদ্দিনের ওপর হামলা চালায় নৌকার সমর্থকরা। পরে রিয়াজের সমর্থকরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নৌকার প্রার্থী মোশারফ ও তার সমর্থক ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজুল আলমসহ ২০ জনকে জখম করে। এ ঘটনার জেরেই স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
