কুমিল্লার চান্দিনায় গ্যাসলাইন নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ট্রাক্টরচাপায় মাহমুদা আক্তার ইয়াসমিনের (১৫) ঘাতক ট্রাক্টরচালক মনোয়ার হোসেনের বয়স ১৭ বছর। ঘটনার পর তাকে আটক করে স্থানীয়রা। চালককে আটকের পর জানা যায় তার কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই এবং সে অপেশাদার ড্রাইভার। এ ঘটনার প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।
গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টায় চান্দিনা
উপজেলার কুটুম্বপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের পরিবারকে গ্যাসলাইন নির্মাণ কোম্পানি থেকে ৬ লাখ এবং জেলা প্রশাসকের তহবিল থেকে ২০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে।
নিহত স্কুলছাত্রী মাহমুদা আক্তার ইয়াসমিন চান্দিনা উপজেলার বাতাঘাসী ইউনিয়নের নাজিরপুর গ্রামের মনির হোসেনের মেয়ে। সে কুটুম্বপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্রী।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মনির হোসেন জানান, আমাদের বিদ্যালয়ের সামনের কাঁচা সড়ক দিয়ে গ্যাসলাইন নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ট্রাক্টর চলাচল করে। ২৬ মার্চ উপলক্ষে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসে। সকাল ৯টার দিকে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে আমি দাঁড়ানো ছিলাম আর ছাত্রীরা বিদ্যালয়ের দিকে আসছিল। ১৭-১৮ বছরের এক ট্রাক্টরচালক মেয়েগুলোকে দেখে জোরে হর্ন চেপে ট্রাক্টরটি রাস্তায় এদিক-সেদিক ঘোরাচ্ছিল। এ সময় ট্রাক্টরের সঙ্গে ধাক্কা লেগে একজন পানিতে পড়ে যায়, আরেকজন চাকায় পিষ্ট হয়।
এদিকে, ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা স্কুলের পাশের মহাসড়ক অবরোধ করে। পরে হাইওয়ে পুলিশ এসে শিক্ষার্থীদের প্রহার করে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। এ সময় পুলিশের লাঠির আঘাতে ইয়াছিন (১৬) নামে এক শিক্ষার্থী আহত হয়। তার মাথায় পেছনের অংশ ফেটে গেলে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
আহত শিক্ষার্থী ইয়াছিন জানায়, গ্যাস কোম্পানির মতো দায়িত্বশীল একটি প্রতিষ্ঠানে অপ্রাপ্তবয়স্ক ট্রাক্টরচালককের চাকরি দেওয়ার প্রতিবাদে এবং চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আমরা মহাসড়কে অবস্থান নিই। এ সময় পুলিশ এসে আমাদের এলোপাতাড়ি মারধর করে। পুলিশের এক সদস্য লাঠি দিয়ে আমার মাথায় আঘাত করে।
এ ব্যাপারে হাইওয়ে পুলিশ ইলিয়টগঞ্জ ফাঁড়ির ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) মনিরুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনাটি মহাসড়কে হয়নি। আঞ্চলিক সড়কে হয়েছে। আর শিক্ষার্থীরা এসে মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। এ সময় শিক্ষার্থীদের সরে যেতে অনেকবার বলা হলেও তারা কথা শুনেনি। এখানে হাইওয়ে ও থানা পুলিশ ছিল। পুলিশের কোন সদস্য এমন কা-জ্ঞানহীন ঘটনা ঘটিয়েছে সেটা আমার জানা নেই।
এ ব্যাপারে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দাউদকান্দি সার্কেল) মহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেছি। নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্য, স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি। গাড়ি ও চালক আটক করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, দুপুর সোয়া ১২টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর, জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ নূরুল ইসলাম, চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এস এম জাকারিয়া।
এ সময় গ্যাসলাইন নির্মাণ কোম্পানি চিটাগং-ফেনী-বাখরাবাদ গ্যাসলাইন প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার আব্দুল্লাহ আল যোবায়ের জানান, জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে আমরা নিহতের পরিবারকে ৬ লাখ টাকার চেক দিয়েছি। ভবিষ্যতে আমরা দক্ষ ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত চালক নিয়োগ দেব। এছাড়া জেলা প্রশাসকের তহবিল থেকে নিহতের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।
