উপজেলা নির্বাচনের ঘোষিত ফলাফল বাতিল করে ভোট পুনর্গণনার দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো উত্তাল ছিল গোপালগঞ্জ। গতকাল মঙ্গলবার সকালে থেকে বিকেল পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধের চেষ্টা করে পরাজিত দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকরা। দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় পুলিশসহ কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছেন। বিকেল ৫টার দিকে বিক্ষুব্ধরা অবরোধ তুলে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
গত সোমবার রাতে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাচনে পরাজিত দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. মাহমুদ হোসেন দিপু এবং এস এম শাহ আলম সংবাদ সম্মেলন করে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে পুনরায় ভোট গণনার দাবি জানান। এর পর থেকেই ওই দুই প্রার্থীর সমর্থকরা গোপালগঞ্জ-টেকেরহাট ও গোপালগঞ্জ-পয়সারহাট সড়কে শতাধিক গাছ কেটে সড়কে ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সোমবার রাতেই ঘটনাস্থলে পুলিশ, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।
মঙ্গলবার ভোর থেকেই পরাজিত দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর কয়েক হাজার বিক্ষুব্ধ সমর্থক দুই সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধের চেষ্টা করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অর্ধশতাধিক টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। এ সময় পুলিশসহ কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়। তাদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘গোপালগঞ্জ-টেকেরহাট সড়কের বৌলতলী, কংশুর এবং গোপালগঞ্জ-পয়সারহাট সড়কের কাঠি ও মাঝিগাতী নামক স্থানে ওই দুই প্রার্থীর সমর্থকরা শতাধিক সরকারি গাছ কেটে সড়কে অবরোধ সৃষ্টি করে। এখন পরিস্থিতি শান্ত। সড়কের গাছ সরানো হয়েছে। দুই সড়কে যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে।’
তৃতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় শেখ লুৎফার রহমান বাচ্চু ৩৭ হাজার ৬৫০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মাহমুদ হোসেন দিপু পেয়েছেন ৩৭ হাজার ৬২০ ভোট। অপর প্রার্থী শাহ আলম ৩৪ হাজার ৫৯৪ ভোট পেয়েছেন।
এদিকে গত সোমবার টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. বাবুল শেখ সংবাদ সম্মেলন করে ভোট পুনর্গণনার দাবি ও তার সমর্থকরা গোপালগঞ্জ-টুঙ্গিপাড়া সড়ক অবরোধ করে। পরে প্রশাসনের কাছে লিখিত দাবি পেশ ও আশ্বাসের পর কর্মসূচি স্থগিত করেন।
প্রসঙ্গত, গোপালগঞ্জের পাঁচটি উপজেলায় আওয়ামী লীগ থেকে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। এখানে অংশ নেওয়া প্রায় প্রত্যেক প্রার্থীই আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী।
