খুলনায় ট্রাফিক সিগন্যালের বাতি জ্বলে না ১৩ বছর

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০১৯, ১২:৩৬ এএম

খুলনা নগরের ১৬টি ট্রাফিক পোস্টে সংকেত বাতি ১৩ বছর ধরে নষ্ট হয়ে থাকায় সড়কে প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা; সৃষ্টি হচ্ছে যানজটের। এরপরও উদ্যোগ নেই খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি)। সংকেত বাতি অকেজো ও ট্রাফিক ব্যবস্থা নাজুক থাকায় দুর্ভোগে পড়েন নগরবাসীরা। কেসিসি মেয়র বলেছেন, তিনি ‘একটু গুছিয়ে নিয়ে’ কাজ শুরু করবেন।

কেসিসির কর্মকর্তারা জানান, ১৯৮৭ সালে দুর্ঘটনা রোধ এবং যানজট নিরসনে মহানগরের রয়াল, শিববাড়ী, ডাকবাংলো, পার হাউস, দৌলতপুর, নতুন রাস্তা, জোড়াগেট, পিকচার প্যালেস, সদর থানা পিটিআই, ধর্মসভা, ময়লাপোতা ও ফেরিঘাট মোড়, সদর হাসপাতালের সামনে, সার্কিট হাউসের পাশে, হাজী মুহসীন সড়কে ট্রাফিক সংকেত বাতি স্থাপন করা হয়। ২০০৫ সালের মধ্যে সবকটি বাতি নষ্ট হয়ে যায়। বাতিগুলো মেরামতের উপযোগী না থাকায় কেসিসি নতুন করে আর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ২০০৭ সালে যানজট নিরসনের লক্ষ্যে কেসিসি একটি প্রকল্প বরাদ্দ রাখে। ওই প্রকল্পের টাকা দিয়ে শিববাড়ী ও পার হাউস মোড়ে দুটি ট্রাফিক সংকেত বাতি দায়সারাভাবে চালু করে। তবে এ দুটি ব্যবহার করা হচ্ছে না।

বিএল কলেজের ছাত্র কামাল আহম্মেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সংকেত বাতি অকেজো ও ট্রাফিক ব্যবস্থা নাজুক থাকায় প্রায় সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হতে হয় নগরবাসীদের।’ নগরীর টুটপাড়া এলাকার বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, ‘দেশের বাইরে গেলে সড়কে চলাচল করতে গিয়ে আমরা প্রায়ই বিপদে পড়ি।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ট্রাফিক পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বাতিগুলো চালু থাকলে চালকরা সচেতন হতো। যানজট ও দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে আসত। আমাদেরও কষ্ট কম হতো।’ খুলনা সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি আনোরুল কাদির বলেন, ‘দিনে দিনে খুলনায় লোক ও গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে। দ্রুত কেসিসির এগুলো ঠিক করা প্রয়োজন।’

বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ জামান বলেন, ‘খুলনা একটি বিভাগীয় শহর। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে ট্রাফিক বাতি জ্বলছে না। বাতি ছাড়াই চলছে খুলনানগরের ট্রাফিক বিভাগ। প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা, সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। বিষয়টি কর্র্তৃপক্ষ দেখছে না। দ্রুত এগুলো ব্যবহারের ব্যবস্থা করতে হবে।’

কেসিসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘বেশ আগে জার্মানির একটি সংস্থা নগরের রাস্তাগুলোতে জরিপ চালিয়ে ৪০ স্থানকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। স্থানগুলোতে অত্যাধুনিক সংকেত বাতি লাগানোর জন্য নকশা করা হয়েছিল। তারপর আর কাজ এগোয়নি।’ তবে কেসিসির মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক বলেন, ‘আমি একটু গুছিয়ে নিই, এরপর সব হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত