আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কার্যক্রমের আওতায় সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে স্কুলছাত্রদের ১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব খোলার উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। সঞ্চয়ের পাশাপাশি আধুনিক ব্যাংকিং সেবা ও প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতেই ১৮ বছরের কমবয়সী ছাত্রদের স্কুল ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। ২০১৩ সালে এ উদ্যোগ নেওয়ার পর গত পাঁচ বছরে স্কুল ব্যাংকিং হিসাবে ছাত্র-ছাত্রীদের জমার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি। ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ সালের বাংলাদেশ ব্যাংকের ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে এমন তথ্য মিলেছে।
স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম জনপ্রিয় করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালার অনুযায়ী তপসিলি ব্যাংকগুলো ন্যূনতম ১০০ টাকা জমা গ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাব খুলছে। এসব ব্যাংক হিসাবে আকর্ষণীয় মুনাফা প্রদান, সার্ভিস চার্জ গ্রহণ না করা, এটিএম ও ডেবিট কার্ড দেওয়াসহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। ৫৭টি তপসিলি ব্যাংকের মধ্যে ৫৬টিই স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সাল পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীদের মোট ১৮ লাখ ১৮ হাজার ৪১৩টি হিসাব খোলা হয়েছে। এরমধ্যে গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাব রয়েছে ৬ লাখ ৭৮ হাজার ১৭০টি, যার ৪৪ শতাংশ ছাত্রীদের। অবশিষ্ট ১১ লাখ ৪৪ হাজার ২৪৩টি স্কুল ব্যাংকিং হিসাব রয়েছে শহরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের। শহরাঞ্চলের স্কুল ব্যাংকিং হিসাবের ৪০ শতাংশ রয়েছে ছাত্রীদের।
স্কুল ব্যাংকিংয়ে শহরাঞ্চলের তুলনায় গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে রয়েছে। এর একটি বড় কারণ হচ্ছে গ্রামাঞ্চলের ব্যাংকের শাখা তুলনামূলক কম থাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া তথ্য অনুসারে, মোট স্কুল ব্যাংকিং হিসাবের ৩৭ শতাংশ গ্রামাঞ্চলের, যেখানে শিক্ষার্থীদের মোট ৩৮০ কোটি ৪৩ লাখ টাকা জমা রয়েছে। এটি স্কুল ব্যাংকিং হিসাবে মোট জমার ২৫ দশমিক ১৯ শতাংশ। ২০১৮ সাল শেষে শহরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ব্যাংকে মোট জমার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১২৯ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। গ্রামের তুলনায় শহরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জমার পরিমাণ ১৯৭ শতাংশ বেশি।
এদিকে স্কুল ব্যাংকিংয়ে সঞ্চয়ের পরিমাণে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা পিছিয়ে রয়েছে। ২০১৮ সাল পর্যন্ত স্কুল ব্যাংকিং হিসাবে মোট জমার পরিমাণ হচ্ছে ১ হাজার ৫১০ কোটি টাকা, যার ৫৭ দশমিক ৩২ শতাংশ ছাত্রীদের। এছাড়া মোট ব্যাংক হিসাবের ৪১ শতাংশ হচ্ছে ছাত্রীদের। অর্থাৎ ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের স্কুল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির হার কম। এ ধরনের হিসাবে প্রাপ্ত জমার প্রায় ৮৪ শতাংশ রয়েছে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকে।
