সামনে বিশ্বকাপ। পেছনে নিউজিল্যান্ডে ওয়ানডে সিরিজটা তার গেছে ভালো। তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে চোটের কারণে খেলতে পারেননি। কিন্তু প্রথম দুই ম্যাচে বাংলাদেশের সেরা স্কোরার ছিলেন মোহাম্মদ মিঠুন। ভয়ংকর এক অভিজ্ঞতা নিয়ে শেষে নিউজিল্যান্ড থেকে দেশে ফিরেছেন। আবাহনী লিমিটেডের হয়ে দুই ম্যাচ খেলেছেন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে। কিন্তু ভালো কিছু হয়নি। অবশ্য এই লিগকে কোনোমতেই বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ধরে নিয়ে ভুল করার মানুষ নন মিঠুন। আলাদা করে প্রস্তুতি নেওয়ার অপেক্ষায় উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান।
খেলার মধ্যে থাকা একটা অনুশীলন। সেই কাজটা হচ্ছে বটে। ‘আপাতত ঢাকা লিগেই মনোযোগ।’ গতকাল মিরপুরে ২৮ বছরের ডানহাতি ব্যাটার বলছিলেন, ‘আলাদাভাবে প্রস্তুতি এখনো শুরু করিনি। তবে করব। প্রিমিয়ার লিগ খেলে আমি যদি চিন্তা করি যে ইংল্যান্ডের প্রস্তুতি হয়ে যাচ্ছে, সেটা ভুল। কারণ ওখানকার কন্ডিশন পুরো আলাদা। প্রিমিয়ার লিগ খেলার পাশাপাশি ওই কন্ডিশন মাথায় রেখে প্রস্তুতিটা জরুরি।’
নিউজিল্যান্ডে বিরুদ্ধ পরিবেশে যথাক্রমে ৬২ ও ৫৭ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। ওয়ানডে দলে নিয়মিত হওয়ার প্রাণপণ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। ২০১৪ সালে অভিষেক হলেও এখন পর্যন্ত ১৫ ম্যাচ খেলেছেন মিঠুন। তবে এখন পাঁচ নম্বর পজিশনে তাকে বেশ মানিয়ে যাচ্ছে। চার ফিফটির দুটি তো মাত্র করে এলেন।
সব মিলে বাজেভাবে নিউজিল্যান্ডে ওয়ানডে সিরিজ হেরেছে দল। নিজের প্রসঙ্গ এলে অবশ্য বিনয়ের সঙ্গে মিঠুনের উচ্চারণ, ‘ওখানে ভালো খেলা আমার দায়িত্ব ছিল। পুরোপুরি পালন করতে পারিনি। দুটি ইনিংসই আরও বড় করা যেত।’ তার মনের খেদটা প্রকাশ পেল এরপর, ‘কোনো ব্যাটসম্যানই ডাবল ফিগারে থাকতে চায় না, সবাই চায় থ্রি ফিগার। একটা ইনিংস ৫০-এ শেষ হয়ে গেলে যথেষ্ট নয়। তিন ডিজিটে নিয়ে যেতে পারলে দলের লাভ, আমারও লাভ।’
কোনো অঘটন না ঘটলে মে-জুলাই ২০১৯ ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন মিঠুন। তার আগে আছে আয়ারল্যান্ডে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ। ভালো প্রস্তুতি নিয়েও ওখান থেকে নিজেকে আরও তৈরি করতে চান বিশ্বকাপের জন্য, ‘ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডের কন্ডিশন, আমরা যতটুকু জানি, প্রায় একই। আয়ারল্যান্ডের ম্যাচগুলো খুব ভালো কাজে দেবে আমাদের প্রস্তুতির জন্য।’ খুব নির্দিষ্ট করে মিঠুন বলছিলেন, ‘ওখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যাচ্ছে। ওরা ভালো দল। নিজেদের কন্ডিশনে আয়ারল্যান্ডও কঠিন দল। সব মিলিয়ে সেখানে ভালো প্রস্তুতি হবে।’
