‘বন্দুকযুদ্ধে’ পাঁচ ঘণ্টায় তিন জেলায় নিহত ৬

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০১৯, ০২:৪১ এএম

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ঢাকা, গাজীপুর ও কক্সবাজারে ছয়জন নিহত হয়েছে। গত মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে গতকাল বুধবার ভোর পর্যন্ত প্রায় পাঁচ ঘণ্টার ব্যবধানে এসব ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী। আমাদের প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর

ঢাকা : রাজধানীর ভাষানটেকের মাটিকাটায় মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে র‌্যাবের (র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন) সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে শফিকুল ইসলাম শফি (৩৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। র‌্যাবের দাবি, শফি নরসিংদীর তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে নরসিংদীর বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র আইনসহ এক ডজনের বেশি মামলা রয়েছে। অন্যদিকে শফিকের বোনের দাবি, তিনি পেশায় রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী ও যুবলীগ নেতা। প্রতিপক্ষের লোকজন র‌্যাবকে দিয়ে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করিয়েছে।

র‌্যাব-১১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী শমসের উদ্দিন বলেন, ‘শফি পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী। সে নরসিংদীতে যত অবৈধ অস্ত্র যায় তার সরবরাহকারী ও পেশাদার চাঁদাবাজ। সে নরসিংদীতে অপরাধ করে ঢাকায় আত্মগোপনে থাকত। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে র‌্যাব-১১-এর একটি দল তাকে গ্রেপ্তারের জন্য ভাষানটেক এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় সে অবৈধ অস্ত্র দিয়ে র‌্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে পালানোর চেষ্টা করে। র‌্যাব পাল্টা তিন জেলায় নিহত ৬ গুলি ছুড়লে ঘটনাস্থলে শফিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। তাকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। র‌্যাব শফির দুই সহযোগীকে আটক করেছে। ঘটনাস্থল থেকে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র ও কয়েক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।’

এদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গ থেকে শফির লাশ নিতে আসা তার বড় বোন রাশিদা আহমেদ নিজেকে মানবাধিকার কর্মী দাবি করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার ছোট ভাইয়ের নাম শফিকুর রহমান শফিক। নরসিংদী সদর উপজেলার শাটিরপাড়া ২৭০/২ নম্বর বাসায় থাকত সে।’ নরসিংদী শহরে শফিকের রেস্টুরেন্ট আছে এবং তিনি জেলা যুবলীগ নেতা বলে দাবি করেন রাশিদা। তবে কোন পদে ছিলেন তা জানাতে পারেননি। রাশিদা জানান, তার বাবা মুমতাজ উদ্দিন আহমেদ অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য। শফিক দুই সন্তানের জনক। এলাকায় তার বেশ জনপ্রিয়তা ছিল।

গাজীপুর : নগরের টঙ্গীতে গুলি বিনিময়কালে এক ছিনতাইকারী নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। নিহত মো. কাউসার (২৮) টঙ্গীর এরশাদনগরের ৬ নম্বর ব্লকের বাসিন্দা মিন্টু মিয়ার ছেলে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি (ক্রাইম) মো. শরিফুর রহমান জানান, মঙ্গলবার মধ্যরাতে এরাশাদনগর (পূর্ব থানা) এলাকা থেকে সন্ত্রাসী ও কুখ্যাত ছিনতাইকারী কাউসারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাকে সঙ্গে নিয়ে অভিযানকালে গাজীপুরা বাঁশপট্টি এলাকায় পৌঁছালে রাত দেড়টার দিকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টাকালে পুলিশের সঙ্গে তার সহযোগীদের গুলি বিনিময় হয়। এতে কাউসার গুলিবিদ্ধ হয় এবং অন্যরা পালিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

হাসপাতালের নার্স মো. তারিকুল ইসলাম জানান, রাত ৩টার দিকে গুলিবিদ্ধ কাউসারকে এখানে আনা হয়। পরে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইন্সপেক্টর মো. বাচ্চু মিয়া জানান, চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার ভোরে মারা যান কাউসার।

পুলিশের দাবি, গুলি বিনিময়কালে টঙ্গী পূর্ব থানার এসআই জহুরুল ইসলাম ও কনস্টেবল মো. বদরুল আহত হন। কাউসারের বিরুদ্ধে টঙ্গী থানায় পাঁচটি ছিনতাই ও ডাকাতি মামলা রয়েছে।

কক্সবাজার : বুধবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে টেকনাফে বিজিবির (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে দুই রোহিঙ্গা ও ভোর সাড়ে ৫টায় পেকুয়ায় র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে দুজন জলদস্যু নিহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। নিহতরা হলেন মিয়ানমারের আকিয়াব জেলার মংডু উপজেলার জ্বীবিংচংওয়া এলাকার মোহাম্মদ ইদ্রিসের ছেলে ফারুক মিয়া (১৯) ও একই এলাকার আবু তাহেরের ছেলে মো. ইলিয়াস (১৮)। বর্তমানে উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা। অন্যদিকে জলদস্যুদের পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি র‌্যাব।

টেকনাফ ২ নম্বর ব্যাটালিয়ন বিজিবির ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক শরীফুল ইসলাম জোমাদ্দার জানান, খারাংখালী পয়েন্টে মঙ্গলবার মধ্যরাতে বিজিবির একটি দল অভিযানে যান। এ সময় নাফ নদী সীমান্ত পয়েন্ট অতিক্রম করে দুই ব্যক্তি মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। বাধা দিলে বিজিবি সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে তারা। এ সময় বিজিবিও পাল্টা গুলি করলে দুই রোহিঙ্গা ঘটনাস্থলে নিহত হন। ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে ১ লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে র‌্যাব-১৫ কক্সবাজার কার্যালয়ের কোম্পানি কমান্ডার মেজর মেহেদী হাসান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার ভোর ৫টার দিকে পেকুয়া উপজেলার মগনামা ঘাট এলাকায় অভিযান চালায় র‌্যাব। এ সময় জলদস্যু বাহিনীকে ধাওয়া করলে তারা র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। র‌্যাব পাল্টা গুলি চালালে একপর্যায়ে জলদস্যুরা পিছু হটে। পরে ঘটনাস্থল তল্লাশি চালিয়ে আটটি দেশীয় বন্দুক ও ২৬ রাউন্ড গুলিসহ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুই জলদস্যুকে উদ্ধার করা হয়। তাদের পেকুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে মারা যায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত