নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আট দফা দাবি বাস্তবায়নের উদ্যোগে সরকারকে বেঁধে দেওয়া সময় শেষ হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার। আজ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলামের এক সভা হবে। সভায় ডিএমপি কমিশনার, বিআরটিসির চেয়ারম্যান, বিআরটিএর চেয়ারম্যান, পরিবহন সেক্টরের নেতাসহ ট্রাফিক ও সড়ক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত থাকবেন। বৈঠকে দাবি পূরণে সরকারের অগ্রগতি সম্পর্কে জানার পরই পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবে আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনকারী একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিরাপদ সড়কের দাবি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের গত সাত দিনের কার্যক্রমে আশাবাদী বেশিরভাগ শিক্ষার্থী। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে কি নাÑ এ নিয়ে সংশয় থাকলেও নতুন করে কোনো কর্মসূচি দেওয়ার সম্ভাবনা কম।
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) ছাত্র জাবিদ হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সরকারের কর্মকাণ্ডে আমরা আশাবাদী। তারা বেশ কিছু দাবি পূরণে কাজ শুরু করেছে। তবে এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে কি নাÑ এ বিষয়ে আমরা সন্ধিহান। নিরাপদ সড়কের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগের পরও কিন্তু দুর্ঘটনা থেমে নেই। প্রতিদিনই রাজধানীর সড়কে মানুষ মরছে।’ তিনি বলেন, ‘আগামীকাল (আজ বৃহস্পতিবার) আমাদের প্রতিনিধিদল মেয়রের সঙ্গে বৈঠক করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবে।’
বিইউপির অন্য এক ছাত্র রাহাত বলেন, ‘সড়কের এই নৈরাজ্য রাতারাতি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তবে সরকারের দৃশ্যমান উদ্যোগে আমরা মোটামুটি সন্তুষ্ট। আমাদের আপাতত আন্দোলনের কোনো কর্মসূচি নেই। এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ গতকাল বুধবার পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছেÑ প্রগতি সরণির দুর্ঘটনাস্থলে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ কাজ শুরু, সুপ্রভাত ও জাবালে নূরের রুট পারমিট বাতিল, সুপ্রভাত পরিবহনের বাসটির চালক ও সহকারী গ্রেপ্তার, সড়কে পুলিশের বিশেষ টিমের অভিযান।
এদিকে গতকাল বিমানবন্দর গোলচত্বরে ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল বিআরটিসির (বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন) চারটি ডাবল ডেকার বাসের উদ্বোধন করেন। বাসগুলো বিমানবন্দর থেকে কুড়িল বিশ্বরোড, বাড্ডা, রামপুরা, মালিবাগ হয়ে গুলিস্তান জিরোপয়েন্ট পর্যন্ত চলাচল করবে। বিআরটিসি আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এ রুটে আরও ২০টি বাস যুক্ত করবে।
এ সময় মেয়র বলেন, ‘সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি লাঘবে নিরাপদ সড়ক বিনির্মাণের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এ সার্ভিস উদ্বোধন করা হয়েছে। দুই সিটি করপোরেশন মিলে রাজধানীতে বাসের ফ্র্যাঞ্চাইজি করা হবে। উত্তরার জন্য একটি চক্রাকার বাস রুটের উদ্বোধন করা হবে।’
প্রসঙ্গত, গত ১৯ মার্চ সকালে রাজধানীর প্রগতি সরণিতে সুপ্রভাত পরিবহনের একটি বাসের নিচে চাপা পরে নিহত হন বিইউপির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ছাত্র আবরার আহমেদ চৌধুরী। এ দুর্ঘটনার প্রতিবাদে আন্দোলনে নামে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। পরদিন রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে অবরোধ করে আট দফা দাবি ও এর মধ্যে তিন দফা পূরণে সরকারকে ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেয় আন্দোলনকারীরা। দাবিগুলো ছিলÑ আবরার নিহতের ঘটনায় ৩০২ ধারার অধীনে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চার্জশিট গঠন করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের অধীনে বিচারকাজ, সুপ্রভাত ও জাবালে নূর বাসের রুট পারমিট বাতিল ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগুরুত্বপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে আন্ডারপাস, ফুটওভারব্রিজ, জেব্রা ক্রসিং নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা ও গেজেট আকারে প্রকাশ। শিক্ষার্থীদের ১০ জনের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে মেয়র আতিকুল তা মেনে নিলে সাত দিনের জন্য আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেয় তারা। এর আগে গত বছর ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের এমইএসে জাবালে নূর বাসের চাপায় শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হলে দেশজুড়ে টানা কয়েক দিন সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করে ছাত্রছাত্রীরা। সে সময় তারা নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতে আট দফা দাবি তুলেছিল। এবারও সেই দাবিগুলোই তুলে ধরা হয়েছে।
