সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার ড. মোজাম্মেল হক খান। গতকাল বুধবার নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে দুদকের ১০৮তম গণশুনানিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে উপপরিচালক প্রণব কুমার ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মোজাম্মেল হক খান বলেন, ‘দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের বিকল্প নেই। তৃণমূল পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে সেবা নেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষই বেশি আসেন। তাদের হয়রানি না করা এবং দুর্নীতিমুক্তভাবে সরকারি সেবা দেওয়া প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আইনি দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনে কেউ দুর্নীতি-অনিয়মে জড়ালে কঠোর আইনি পরিণতি ভোগ করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি সেবা প্রদানে অনিয়ম, দুর্নীতি, হয়রানি এবং দীর্ঘসূত্রতা কোনো অবস্থাতেই সহ্য করা হবে না। এসব ক্ষেত্রে কমিশন শূন্য সহিষ্ণুতা (জিরো টলারেন্স) নীতি অবলম্বন করছে। সরকার দুর্নীতি ও হয়রানিমুক্ত সেবা প্রদানের জন্য সিটিজেন চার্টার প্রবর্তন করেছে। সরকারি সেবা প্রদানে ডিজিটালাইজেশন করা হচ্ছে। দুর্নীতি করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।’
জেলা প্রশাসক (ডিসি) মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে ভূমি, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, কৃষি, সমাজসেবাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের বিষয়ে ৪০টি অভিযোগ উত্থাপিত হয়। এর মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে ৮টির নিষ্পত্তি করা হয়। ২৫টি অভিযোগ ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
