উদ্ধারকাজে সবার আগে শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০১৯, ০৪:০০ এএম

রাজধানীর বনানীতে এফ আর টাওয়ারে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে আগুন লাগার পর আটকে পড়াদের উদ্ধারে সর্বপ্রথম এগিয়ে আসেন আশপাশে থাকা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়েই আটকে পড়াদের উদ্ধারের চেষ্টা চালান। আহত ও লাফিয়ে পড়াদের নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করে হাসপাতালে নিয়ে যান শিক্ষার্থীরা। এফ আর টাওয়ারে আগুন লাগার খবর পাওয়ামাত্র পাশের প্রাইম এশিয়া ইউনিভিার্সিটি, নর্দান ইউনিভার্সিটি, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি আগে এগিয়ে আসে শিক্ষার্থীরা  ও সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটিসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা দৌড়ে ঘটনাস্থলে হাজির হন। তারা রাস্তায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্স চলাচলে সহযোগিতা করেন। পরে সেনাসদস্যদের সঙ্গে মিলে তারা ঘটনাস্থলের আশপাশের নিরাপত্তা দেখভালের বিষয়েও কাজ করেন। এ ছাড়া রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ও স্কাউট সদস্যরাও উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করেন।

এফআর টাওয়ারের পাশের আউয়াল টাওয়ারের নিরাপত্তাকর্মী হাফিজুর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দুপুর পৌনে ১টার দিকে লোকজন যখন আল্লাগো বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার ও লাফ দিয়ে পড়া শুরু করে, তখন আশপাশের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা দৌড়ে এসে তাদের উদ্ধার করে। তারা নিজের পকেটের টাকায় সিএনজি বা উবারের গাড়ি ভাড়া করে আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যায়।’

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটির বিবিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রফিক মুহাম্মদ হোটেল সেরিনার সামনে লোকজন সরানোর কাজ করছিলেন। তার হাতে ছিল বাঁশি। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কারও নির্দেশে নয়, বরং স্বপ্রণোদিত হয়ে কাজ করছি আমরা। আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্স চলাচলে সহযোগিতা করছি।’

সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির ছাত্র মেহেদী বলেন, ‘ফায়ারের গাড়ি ঢুকতে না পারলে আগুন নেভাবে কীভাবে। তাই আমরা ফায়ারের গাড়ি যাওয়ার রাস্তা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছি। একই সঙ্গে উৎসুক লোকজনকে দূরে সরিয়ে রাখারও চেষ্টা চালাচ্ছি।’

এদিন মেহেদী ও রফিকের মতো ২০০-এর বেশি শিক্ষার্থী স্বপ্রণোদিত হয়ে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে দিনভর কাজ করেন বনানী এলাকায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পরও তাদের বাঁশি হাতে কাজ করতে দেখা গেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত