রাজধানীর আফতাবনগর এবং খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার গঙ্গারামপুর গ্রামে কথিত বন্দুকযুদ্ধে তিন যুবক নিহত হয়েছেন। পুলিশ বলছে, গতকাল বৃহস্পতিবার ভোররাত আফতাবনগরের ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন বাড্ডার সন্ত্রাসী গ্রুপ ‘টারজান বাহিনীর’ প্রধান ‘টারজান’ মনির (৩৮) ও তার সহযোগী শাহ আলী (৩৫)। আর গত বুধবার রাত আড়াইটার দিকে খুলনার বটিয়াঘাটায় নিহত আসাদুজ্জামান মিটুল (২৮) ছিলেন মাদক কারবারি। তিনি খুলনার লবণচরা থানার সাচিবুনিয়া গ্রামের লালন হাসান ফকিরের ছেলে।
বাড্ডা থানার এসআই আল ইমরান আহমেদ জানান, ভোররাত ৪টার দিকে আফতাবনগর এম ব্লক বরইতলা এলাকায় গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সঙ্গে সন্ত্রাসীদের বন্দুকযুদ্ধ হয়। এতে ‘টারজান’ মনির ও শাহ আলী গুলিবিদ্ধ হয়। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়। সেখানে সকাল সোয়া ৬টার দিকে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (উত্তর) শাহজাহান সাজু জানান, গত ১৮ মার্চ রাত ৯টার দিকে মেরুল বাড্ডায় জুলহাস হোসেন মোল্লা নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করে টারজান বাহিনীর সন্ত্রাসীরা। মামলার তদন্ত করতে গিয়ে সাজু নামের একজনকে গত বুধবার সন্ধ্যায় রূপগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আফতাবনগরে অভিযানে যায় ডিবি পুলিশের একটি দল। সেখানে গেলে একটি গাড়ি দেখা যায়। গাড়ির কাছে যাওয়ার আগেই সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি করতে করতে এগোতে থাকে। পুলিশও গুলি চালায়। এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে মনির ও সারোয়ার নামে তাদের দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার এবং বেশ কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়। গুলিবিদ্ধ দুজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। অতিরিক্ত উপকমিশনার আরও জানান, সাজুকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে, গত ১৮ মার্চ রাতে জুলহাস মোল্লাকে গুলি করেছিলেন শাহ আলী। হত্যার পকিল্পনাকারী ছিলেন ‘টারজান’ মনির। তাদের মরদেহ ঢামেক মর্গে রয়েছে। মনির ও সারোয়ারকে নিয়ে জুলহাস হত্যা মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হলো বলেও জানান তিনি।
ডিবির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ইয়াবা কারবারির টাকার কমিশন না পেয়ে জুলহাসকে হত্যা করেছিল ‘টারজান বাহিনীর’ সদস্যরা। জুলহাসের স্ত্রী জিমি অভিযোগ করেছিলেন, মনির ও তার সহযোগীরা তার স্বামীকে হত্যা করেছিল। মামলায় মনিরের নামও ছিল।
খুলনা : বটিয়াঘাটা থানার ওসি রবিউল কবির বলন, রাত আড়াইটার দিকে পুলিশ গোপনে জানতে পারে গঙ্গারামপুর গ্রামের খেজুর তলাগেট এলাকায় মাদক কারবারির ভাগাভাগি নিয়ে দুই দলের মধ্যে গোলাগুলি হচ্ছে। পুলিশ সেখানে গেলে চার-পাঁচজন পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে একটি ওয়ানশুটার, এক রাউন্ড গুলি ও গুলিবিদ্ধ মিটুলকে উদ্ধার করা হয়। মিটুলকে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার বিরুদ্ধে বটিয়াঘাটা থানায় পাঁচটি মাদক মামলা আছে।
