বলিউডের প্রভাবশালী ও ধনী পরিবারগুলোর মধ্যে অন্যতম বচ্চন পরিবার। এই পরিবারের কাউকে আলাদাভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। অভিনয় আর
জনপ্রিয়তায় অন্য রকম এক উচ্চতায় পৌঁছায় পরিবারটি। তাদের গ্ল্যামারে যেমন দর্শকরা মেতে থাকেন, তেমনি তাদের সম্পর্কে জানার জন্যও দর্শকের মনে আগ্রহের
কমতি নেই। দুই প্রজন্ম ধরে বলিউড দাপিয়ে বেড়াচ্ছে জনপ্রিয় এই পরিবারটি। লিখেছেন লায়লা আরজুমান্দ
কবি হরিবংশ রায় বচ্চন
তিনি একজন নামকরা হিন্দি কবি ছিলেন। সাহিত্যে তার অবদানের জন্য ভারত সরকার তাকে পদ্মভূষণ পদকে ভূষিত করে। হরিবংশ রায় বচ্চনের লেখা অন্যতম কবিতা হচ্ছে মধুশালা। তার লেখা গান ব্যবহার করা হয়েছে ভারতীয় সিনেমায়ও। তার মধ্যে অন্যতম সিলসিলা ছবির হোলি নিয়ে ‘রং বারছে’ গানটি। এই ছবিতে অভিনয় করেছেন তার ছেলে অমিতাভ বচ্চন। তার বাবা ছিলেন নারায়ণ শ্রীবাস্তব ও মায়ের নাম ছিল সরস্বতী দেবী। ১৯০৭ সালে এলাহাবাদে জন্মগ্রহণ করেন বিখ্যাত এই কবি।
বলিউড শাহেনশাহ অমিতাভ বচ্চন
বলিউডের ‘অ্যাংরি ইয়ংম্যান’ ও শাহেনশাহখ্যাত অমিতাভ বচ্চন। চলচ্চিত্র অভিনেতা, প্রযোজক, টেলিভিশন উপস্থাপক, গায়ক ও সাবেক রাজনীতিবিদ। অভিনেতা অভিষেক বচ্চন তার ছেলে, এ জন্য অমিতাভ বচ্চন বিগ বি বা বড় বচ্চন নামেও পরিচিত। বচ্চনকে ভারতীয় চলচ্চিত্র তথা বিশ্ব চলচ্চিত্রের অন্যতম সেরা ও প্রভাবশালী অভিনেতা হিসেবে গণ্য করা হয়।
১১ অক্টোবর ১৯৪২ সালে উত্তর প্রদেশের এলাহাবাদের এক হিন্দু-শিখ পরিবারে অমিতাভ বচ্চনের জন্ম। তার বাবা হরিবংশ রায় বচ্চন একজন নামকরা হিন্দি কবি ছিলেন। তার মা তেজি বচ্চন একজন শিখ-পাঞ্জাবি। সম্পূর্ণ নিরামিষাশী অমিতাভের নাম ছিল ইনকিলাব শ্রীবাস্তব। পরে তার নাম বদলে রাখা হয় অমিতাভ। যদিও তার বংশের পদবি ছিল শ্রীবাস্তব কিন্তু তার বাবা ছদ্ম পদবি বচ্চন ব্যবহার করতেন। তাই সেই পদবি তিনি ব্যবহার করেন। প্রথম ছবির জগতে নাম লেখান এই বচ্চন পদবি নিয়েই।
বলিউডে কাজের আগে তিনি একটি শিপিং ফার্মে কাজ করতেন। অভিনয় করতে মুম্বাই এলে তাকে বেশ কিছু ছবি থেকে বাদ দেওয়া হয় তিনি যথেষ্ট সুদর্শন নন এই যুক্তি দিয়ে। ১৯৬৯ সালে বচ্চন ছবির জগতে আত্মপ্রকাশ করেন সাত হিন্দুস্তানি নামক একটি চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে। এরপর পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি অভিনয় করেছেন ১৯০টির মতো সিনেমায়।
তিনি তার এই দীর্ঘ কর্মজীবনে অসংখ্য পুরস্কার অর্জন করেছেন। তার মধ্যে রয়েছে জাতীয় পুরস্কার, ফিল্মফেয়ারসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক পুরস্কার। ১৯৮৪ সালে ভারত সরকার তাকে দেশটির চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মশ্রী, ২০০১ সালে তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মভূষণ এবং ২০১৫ সালে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মবিভূষণে ভূষিত করে। ১৯৮০-এর দশকে তিনি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং ১৯৮৪ থেকে ১৯৮৭ পর্যন্ত ভারতীয় সংসদে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছিলেন। অন্যদিকে আরেক জনপ্রিয় অভিনেত্রী রেখার সঙ্গে তার প্রেম নিয়েও গুঞ্জন ছিল। তাদের বলা হয় সর্বকালের সেরা রোমান্টিক জুটি। যদিও ১৯৮২ সালের সুপার ডুপার হিট ছবি ‘সিলসিলা’র পর থেকে কোনো সিনেমাতেই আর একসঙ্গে দেখা যায়নি এই জুটিকে। অমিতাভ, রেখা ও জয়া বচ্চন অভিনীত ‘সিলসিলা’ সিনেমার পুরো কাহিনী এই তিন অভিনেতা-অভিনেত্রীর জীবনের সঙ্গে জুড়ে রয়েছে বলে অনেকে দাবি করেন। ১৯৮৪-এর শিখবিরোধী দাঙ্গায় জড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল অমিতাভের নাম। তাকেও একজন ষড়যন্ত্রকারী বলে মনে করা হতো কোনো কোনো মহল থেকে। বোফোর্স কেলেঙ্কারিতেও রাজীব গান্ধীর সঙ্গে তার নাম জড়িয়ে যায়।
জনগণের মন জয়ে ব্যস্ত জয়া বচ্চন
মমতাভরা মুখ, সুমিষ্ট হাসি আর ব্যক্তিত্বে অনন্য জয়া বচ্চন। একসময় অভিনয় দিয়ে দর্শক হৃদয় জয় করেছেন আর এখন জনগণের হৃদয় জয় করার কাজে ব্যস্ত। রাজ্যসভায় এমপির দায়িত্ব পালন করছেন। তবে অমিতাভ বচ্চনের স্ত্রী, অভিষেক-শ্বেতার মা, ঐশ্বরিয়া রাইয়ের শাশুড়ির কোনোটিই তার পরিচয় নয়। তার মূল পরিচয় তিনি জয়া বচ্চন ভাদুরী, বলিউডের অন্যতম সেরা অভিনেত্রী। মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের জবলপুরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবা ছিলেন খ্যাতনামা সাংবাদিক তরুণ কুমার ভাদুরী। তার মায়ের নাম ইন্দিরা ভাদুরী।
মাত্র ১৫ বছর বয়সে তার অভিনয় জীবন শুরু হয়েছিল বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের মহানগর সিনেমার মধ্য দিয়ে। অভিনয় জীবনে অভিমান, মিলি, সিলসিলা, চুপকে চুপকে, কৌশিশসহ জনপ্রিয় অনেক সিনেমায় অভিনয় করেছেন এই গুণী অভিনেত্রী। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নেই তার কোনো বিতর্ক।
তবে তার ক্ষুরধার বক্তব্যের কারণে বিভিন্ন সময় তিনি শিরোনাম হয়েছেন সংবাদমাধ্যমের। একবার বলিউডের আরেক জনপ্রিয় অভিনেতা শাহরুখ খানকে চড় মারতে চেয়েছিলেনÑ এ খবরও ছড়িয়ে পড়েছিল। আবার ঐশ্বরিয়ার পুরো নাম না বলে সম্বোধন করায় সংবাদকর্মীদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে কড়া মন্তব্য ছুড়ে খবরের শিরোনাম হয়েছিলেন বাঙালি বংশোদ্ভূত বলিউডের প্রখ্যাত এ অভিনেত্রী। সেলফি তুলতে খুবই অপছন্দ করেন তিনি। একবার এক ভক্তকে স্টুপিড বলে সম্বোধন করেছিলেন। এ রকম রয়েছে আরও অসংখ্য ঘটনা। ১৯৭৩ সালের জুনের ৩ তারিখ অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। এই দম্পতির দুই সন্তান। একসময় বলিউড কাঁপিয়েছেন জয়া বচ্চন এবং অমিতাভ বচ্চন দুজনই। তারা দুজনই চান একে অন্যের হাতে হাত রেখে যেন কাটিয়ে দিতে পারেন জীবনের শেষ সময়টুকু। এই দম্পতির দুই সন্তান শ্বেতা বচ্চন নন্দা ও অভিষেক বচ্চন।
অভিষেক বচ্চন
তারকা দম্পতি অমিতাভ ও জয়ার ছেলে অভিষেক বচ্চন। ১৯৭৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তার জন্ম। অভিষেক তার বাবার দিক থেকে কায়স্থ বর্ণের, মায়ের দিক থেকে বাঙালি আর নানার দিক থেকে পাঞ্জাবি জাতি বংশোদ্ভূত। তিনি একজন ভারতীয় অভিনেতা, প্রযোজক ও প্লেব্যাক গায়ক। তবে তিনি তার বাবা-মায়ের মতো অভিনয়ে তেমন আলো ছড়াতে পারেননি।
তার অভিনয় জীবন শুরু হয় ২০০০ সালে রিফিউজি চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে। সিনেমাটি তেমন ব্যবসাসফল হয়নি। এরপর কয়েক বছর তিনি যে কটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন, সেগুলোর কোনোটাই তেমন সাড়া জাগাতে পারেনি। বলিউডে তার জীবনের মোড় ঘুরে যায় যে সিনেমার মধ্য দিয়ে, তার নাম ধুম। এরপর তিনি উপহার দেন একে একে বেশ কটি সাড়া জাগানো সিনেমা। পা সিনেমায় অনবদ্য অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি। ২০০৭ সালে ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনকে বিয়ে করেন তিনি। এই দম্পতির ঘর আলো করে ২০১১ সালে আসে এক কন্যাসন্তান। নাম আরাধ্য। বড় হয়ে এই জুনিয়র বচ্চন যদি সত্যি বলিউডের আঙিনায় পা দেয়, তাহলে বচ্চন পরিবার বলিউডের রাজপরিবার হিসেবে চূড়ান্ত স্বীকৃতি পাবে। অবশ্য অভিষেকের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল বিখ্যাত কাপুর পরিবারের মেয়ে কারিশমা কাপুরের সঙ্গে। হয়েছিল আংটি বদলও। পরে সেই বিয়ে ভেঙে যায় কী কারণে, আজও সে রহস্য ভেদ হয়নি। অভিনয় ছাড়াও অভিষেক বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। এর মধ্যে যেমন রয়েছে সিনেমার প্রযোজনা, তেমনি রয়েছে খেলাও। প্রো-কাবাডি লিগে রয়েছে অভিষেক বচ্চনের নিজের দল।
ভিন্নপথে শ্বেতা
শ্বেতা বচ্চন নন্দা। যার বাবা-মা কিংবদন্তি জনপ্রিয় অভিনেতা-অভিনেত্রী। ভাই ও ভাইয়ের বউও কোনো অংশে কম যায় না। তাই চাইলে তিনিও বেছে নিতে পারতেন অভিনয়ের জগৎ। কিন্তু তিনি বেছে নিয়েছেন অন্যপথ। বচ্চন পরিবারে অভিনয় ছাড়াও একটা অন্য ধরনের ঐতিহ্য রয়েছে। আর সেই ঐতিহ্য হচ্ছে লেখার কাজ। তার দাদা হরিবংশ রাই বচ্চনের মতোই তিনি বেছে নিয়েছেন কাগজ-কলমকে। তার প্রথম উপন্যাস ‘প্যারাডাইস টাওয়ারস’ জায়গা করে নিয়েছে বেস্ট সেলার বইয়ের তালিকায়। বলিউডের কোনো চলচ্চিত্রে অভিনয় না করলেও ২০১৮ সালে তিনি কাজ করেছেন বিজ্ঞাপনে। তাও আবার তার বাবার সঙ্গে। এর আগে অভিনয় না করলেও ২০১৬ সালে র্যাম্প মডেল হিসেবে একবার কাজ করেছিলেন শ্বেতা।
গুণী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন
সাবেক বিশ্বসুন্দরী ও বলিউডের আলোচিত অভিনেত্রী, লাস্যময়ী রমণী হিসেবে ঐশ্বরিয়া রায় বচ্চন সবার কাছেই পরিচিত। শুধু বলিউড কেন টলিউড, হলিউড জগতেও রয়েছে তার সাফল্যময় বিচরণ। ভারতের কর্নাটকে ১৯৭৩ সালের ১ নভেম্বর ঐশ্বরিয়া রায়ের জন্ম। তার বাবা কৃষ্ণরাজ ও মা বৃন্দা রায়। অভিনয় জগতে পদার্পণ করার আগে তিনি মডেল হিসেবে কাজ করতেন এবং ১৯৯৪ সালে বিশ্বসুন্দরী খেতাব অর্জন করার পর ব্যাপক খ্যাতিলাভ করেন। বিশ্বসুন্দরীর এই খেতাব তার ক্যারিয়ার জীবনের একটা টার্নিং পয়েন্ট ছিল। এরপর তাকে আর কখনো পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ১৫ বছর ধরে ভারতীয় চলচ্চিত্রের প্রতিনিধি হিসেবে কান চলচ্চিত্র উৎসবে যাওয়া-আসা ঐশ্বরিয়ার। শুধু তা-ই নয়, প্রথম ভারতীয় হিসেবে কান চলচ্চিত্র উৎসবে জুরির দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি। বিখ্যাত অপেরাহ উইনফ্রে শোতে তিনি বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত হয়েছিলেন। তিনিই একমাত্র ভারতীয়, যিনি এই দুর্লভ সম্মানের অধিকারী। জাতিসংঘের এইডস ও এইচআইভিবিষয়ক সচেতনতায় নিয়োজিত ইউএনএইডস-এর শুভেচ্ছাদূত মনোনীত হন তিনি। ২০০৭ সালে সংসার জীবন শুরু করেন বলিউডের অন্যতম সুখী তারকা দম্পতি অভিষেক বচ্চন ও ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। বিশ্বসুন্দরী, দক্ষ অভিনেত্রী, বচ্চন পরিবারের গৃহবধূ, ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডরÑ অনেকগুলো পরিচয় নিয়ে বহু গুণে গুণান্বিত এই তারকা।
বলিউডে নাম লেখাবেন নভ্যা
অমিতাভ বচ্চনের নাতনি নভ্যা নাভেলি নন্দা। এরই মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় হইচই ফেলে দিয়েছেন এই স্টার কিড। কখনো পার্টি, কখনো বিকিনিÑ নভ্যার নাম জড়িয়ে বিতর্কের ঝড় ওঠে মাঝেমধ্যেই। শোনা যাচ্ছে শিগগিরই বলিউডি ছবিতে দেখা যাবে তাকে। তবে তার মা শ্বেতা বচ্চনের এতে ঘোর আপত্তি। ‘কফি উইথ করন’ অনুষ্ঠানে এসে তিনি জানিয়েছেন একটি সিনেমা বক্স অফিসে সাফল্য না পেলে অভিনেতা বা অভিনেত্রী পরিবারের ওপরে যে ঝড় বয়ে যায়, এসব ঘটনার সঙ্গে তিনি বিশেষভাবে পরিচিত। আসলে অভিনয় জগতে পা রাখা মানেই একটা মানসিক দ্বন্দ্ব কাজ করে। তাই তার মেয়েকে বলিউডে পা রাখতে দিতে তিনি আগ্রহী। কিন্তু মেয়ে যদি একান্তই চায় অভিনয়ে আসতে, তবে যেন ভালোমতো তৈরি হয়েই আসে, সেদিকেও ইঙ্গিত দিয়েছেন।
পানামা পেপারস কেলেঙ্কারি
মোসাক ফনসেকা নামে পানামার আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান থেকে ফাঁস হয় বিশ্বের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী আর তারকাদের অর্থ পাচারের নথিপত্র। এর সঙ্গে জড়িত হলিউড থেকে বলিউড সেলিব্রেটিদের সংখ্যাটাও নেহাত কম নয়। সেই তালিকায় রয়েছে অমিতাভ বচ্চন ও তার পুত্রবধূ ঐশ্বরিয়ার নাম। বিষয়টি নিয়ে শুরুর দিকে শ্বশুর কিংবা পুত্রবধূ কেউই আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেননি। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে ঐশ্বরিয়া জানান, ‘বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় সরকারের কাছে যাবতীয় তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে। ধন্যবাদ।’
মা নাকি বউ, কাকে ভয় পান অভিষেক?
একবার এক অনুষ্ঠানে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল মা নাকি বউ, কাকে বেশি ভয় পান অভিষেক? এক সেকেন্ডও চিন্তা না করে তিনি জবাব দিয়েছিলেন, মাকে বেশি ভয় পান। তবে সে সময় পাশে ছিলেন তার বোন শ্বেতা। হাসতে হাসতে তিনি বলেছিলেন, বউও। আর এ কথা শুনে হাসতে শুরু করেছিলেন অভিষেক ও অনুষ্ঠানের সঞ্চালকও। কিন্তু আসলেই কি অভিষেক ভয় পান ঐশ্বরিয়াকে? সত্যটা যাই হোক পর্দার সামনে সেটা স্বীকার করতে চাননি অভিষেক।
বাংলোর নাম জলসা
বলিউডের অন্যতম হেভিওয়েট এই পরিবারের সদস্যরা থাকেন ‘জলসা’ নামক বাংলোবাড়িতে। সেলিব্রেটি পরিবারের সবার রয়েছে লাখ লাখ ভক্ত। সারা বছর এই বাংলোর সামনে ভিড় জমান হাজার হাজার মানুষ। তবে প্রতি রবিবার ভিড় বাড়ে মাত্রাতিরিক্ত। শুধু একনজর পছন্দের তারকাদের দেখার জন্য। ভালোবাসা অনেক সময় পরিণত হয় অত্যাচারেও। কাঁটাতারের দেয়াল টপকে অনেকেই ঢোকার চেষ্টা করেন বাংলোতে। গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটে। বাংলোটির আয়তন ১০ হাজার স্কয়ার ফুটেরও বেশি। ২০০৬ সালে এই বাড়িটি অমিতাভ বচ্চনের নামে রেজিস্ট্রেশন করা হয়। তার আগে তারা থাকতেন প্রতীক্ষা নামের বাংলোতে। বর্তমানে এই বাংলোটির দাম ২০০ কোটি রুপিরও বেশি।
সম্পদ কত
মুম্বাইয়ের জুহুতে পাঁচ-পাঁচটি বাংলোবাড়ি রয়েছে বলিউডের অন্যতম প্রভাবশালী বচ্চন পরিবারের। দুবাইয়েও বিলাসবহুল বাড়ি আছে তাদের। এ ছাড়া রয়েছে অনেক বিলাসবহুল গাড়ি, রয়েছে ব্যক্তিগত বিমান। অমিতাভ বচ্চনের মোট সম্পদের মূল্য প্রায় ২ হাজার ৬৬৭ কোটি রুপি। প্রতি সিনেমায় তিনি নেন ২০ কোটি রুপি। জয়া বচ্চনের সম্পদের মূল্য প্রায় এক হাজার কোটি রুপি। ধনী এমপিদের তালিকায় রয়েছে তার নাম। অভিষেক বচ্চনের সম্পদের মূল্য ২০৬ কোটি রুপি। ঐশ্বরিয়া রায় বচ্চনের সম্পদের মূল্য প্রায় ২৫৮
কোটি রুপি।
