‘ভাই আমি আর বাঁচব না, আমার জন্য দোয়া করিও, বাবার খেয়াল রাখিও’Ñ এরপরই বন্ধ হয়ে যায় রুমকীর ফোন। বারবার ফোন দিয়েও তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি স্বজনরা। অবশেষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তারা জানতে পারেন রাজধানীর বনানীর এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডে নিহত হয়েছেন রুমকী ও তার স্বামী। রুমকী আক্তার (৩০) নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার কৈমারী ইউনিয়নের বিন্যাকুড়ি গ্রামের আশরাফ আলীর মেয়ে। তার স্বামী মাকসুদুর রহমান জেমি ঢাকার গে-ারিয়া এলাকার মৃত মিজানুর রহমানের ছেলে। দুজনই ছয় বছর ধরে হেরিটেজ এয়ার এক্সপ্রেস নামে একটি ট্রাভেল এজেন্সিতে কাজ করছিলেন। রুমকী হিসাব বিভাগ ও জেমি ট্যুর প্যাকেজ বিভাগে কর্মরত ছিলেন। তিন বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। রুমকী পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানায় তার পরিবার। শুক্রবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে রুমকীর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আসে। এ সময় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজন ও প্রতিবেশীরা। রুমকীর মেজো ভাই রওশন আলী রনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার দুপুরে অগ্নিকাণ্ডের সময় আমার ফোনে কল দেয় একমাত্র ছোট বোন রুমকী। এ সময় সে আর বাঁচবে না বলে জানায়। এরপর থেকে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে রুমকী ও তার স্বামী জেমির মৃত্যুর খবর আসে।’ একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ আশরাফ আলী। মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলেই বিমানে চড়ে রওনা দেন ঢাকায়। তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে মেয়ে ফোন করে জানায় তার অফিসে আগুন লেগেছে। গোটা অফিসে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। জানি না বাঁচব কি না, দোয়া করিও, তোমার জামাইকে পাচ্ছি না। জানি না তোমাদের সঙ্গে আমাদের দেখা হবে কি না?’ রুমকীর চাচাত ভাই শরীফুল ইসলাম জানান, জুমার নামাজের পর বাড়ি সংলগ্ন মাঠে রুমকীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশেই তাকে দাফন করা হয়। একই সময় ঢাকার গে-ারিয়ায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে মাকসুদুরকে দাফন করা হয়েছে।
×
