চারুনীড়ম কাহিনিচিত্র উৎসব- ২০১৯

টেলিভিশনে কেন নাটক দেখছে না দর্শক?

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০১৯, ০৮:৫৫ পিএম

টেলিভিশনে নাটক দেখানোর প্রক্রিয়াটা ঠিক নয় বলে মনে করেন ডিরেক্টর’স গিল্ডের সভাপতি সালাহ্উদ্দিন লাভলু। তিনি বলেন, ‘ইউটিউবে লাখ লাখ দর্শক বাংলাদেশের নাটক দেখছেন। তবে টেলিভিশনের পর্দায় কেন দর্শক নাটক দেখছেন না? টেলিভিশনে নাটক দেখানোর প্রক্রিয়াটা ঠিক নয়। যার জন্য দর্শক টেলিভিশনে নাটক দেখছে না। ইউটিউবে যখন লাখ লাখ দর্শক নাটক দেখেন তখনই বোঝা যায় আমাদের নাটকের দর্শক আছে। তাই টেলিভিশন নাটককে বাঁচাতে হলে এটা নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে।’

গতকাল শনিবার (৩০ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগস্থ জাতীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তনে শুরু হয়েছে ছয় দিনব্যাপী ‘আনন্দ আলো চারুনীড়ম কাহিনিচিত্র উৎসব- ২০১৯’। এই আয়োজন চলবে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত। এবারের উৎসবে প্রদর্শিত হচ্ছে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত ২৩টি কাহিনিচিত্র।

গতকাল উৎসবের উদ্বোধন করেন বরেণ্য অভিনেত্রী সুজাতা। এসময় উপস্থিত ছিলেন ডিরেক্টর’স গিল্ডের সভাপতি সালাহ্উদ্দিন লাভলু, অভিনেত্রী শম্পা রেজা, ড. সায়েম রানা, হাবীব মাসুদ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চারুনীড়ম ইনস্টিটিউটের সভাপতি গাজী রাকায়েত।

অনুষ্ঠানে শম্পা রেজা বলেন, ‘এখন সময়টা বদলে গিয়েছে, এটা আমাদের স্বীকার করে নিতে হবে। এখন পুরো পৃথিবী চলে গেছে ওয়েবের দিকে। এখন অসাধারণ সব ওয়েব সিরিজ তৈরি হচ্ছে। কিন্তু আমাদের টেলিভিশন চ্যানেল মালিকরা সেটা নিয়ে ভাবছেন না। এখন কোনো সৃষ্টিশীল মানুষ আর টেলিভিশন চ্যানেলের মালিক নন। এখন টেলিভিশন মালিকদের কেউ কেউ গানের শিল্পীও হয়ে যান।’

টিভি চ্যানেলগুলোর কোনো দায়বদ্ধতা নেই উল্লেখ করে শম্পা রেজা বলেন, ‘টিভি চ্যানেল যেন ফুর্তির জায়গা হয়ে গেছে। আমাদের সৃষ্টিশীল মানুষগুলো এখন চ্যানেলের কাছে গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে।’

চারুনীড়ম ইনস্টিটিউটের সভাপতি গাজী রাকায়েত বলেন, ‘প্রতি বছর বাংলাদেশের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত মানসম্পন্ন কাহিনিচিত্র নিয়ে এ উৎসবটি আয়োজন করা হয়। ২০০৯ সাল থেকে এটি আয়োজন করে আসছে চারুনীড়ম। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও অনুষ্ঠিত হচ্ছে উৎসবটি। এবারের আয়োজনে ২৩টি কাহিনিচিত্র প্রদর্শিত হবে। এর মধ্য থেকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেয়া হবে।’

উৎসবের উদ্বোধনী দিনে প্রদর্শিত হয় ‘অমিত্রাক্ষর’, ‘মন যমুনার ঢেউ’ ও ‘বিসর্জন ৭১’ নামের তিনটি কাহিনিচিত্র। আজ উৎসবের দ্বিতীয় দিনে দেখানো হবে ‘সুর সতীন’, ‘সুগন্ধি বোর্ডিং ও তুমি’, ‘কতটা পথ পেরুলে’, ‘সংযোজন’ নামের চারটি কাহিনিচিত্র। তৃতীয় দিন দেখানো হবে ‘পুতুল কথা’, ‘বোধোদয়’, ‘ক্র্যাক প্লাটুন’, ‘অতঃপর মঞ্জুলিকা’। চতুর্থ দিনে দেখানো হবে ‘ল্যাবরেটরি’, ‘বাতিওয়ালা’, ‘ধাঙড়’, ‘শিখার কথা’। পঞ্চম দিনে দেখানো হবে ‘ভার’, ‘নিশীথে’, ‘বাবা আসবেন’, ‘বক্করের ট্যাডেস্টার’ এবং সমাপনী দিনে দেখানো হবে ‘মেঘের ক্যানভাস’, ‘ছোট্ট পাখির বাসা’, ‘একরাত্রি’, ‘নাইট ওয়াচম্যান’।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত