অগ্নিঝুঁকিতে শাহ আমানত

হোসপাইপ তালাবদ্ধ নির্বাপণ যন্ত্র ঢাকা

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০১৯, ০৩:০৫ এএম

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আগুন নেভানোর কাজে ব্যবহৃত হোসপাইপ তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। মালামাল (কার্গো) দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে বিভিন্ন অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র। আগুন লাগার পর দ্রুত বের হয়ে যাওয়ার পথের (এক্সিট রুট) সাইন দেখা যায় না।

গত মাসে বিমানবন্দর পরিদর্শনে গিয়ে এসব অব্যবস্থাপনার চিত্র দেখতে পান চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্র্তৃপক্ষকে (বেবিচক) এসব অব্যবস্থাপনা দূর করার সুপারিশ করেছেন তারা। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মুহিবুর হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রতিবেদনটি আমরা পেয়েছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। শাহ আমানতের মতো প্রতিটি বিমানবন্দরের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

পরিদর্শনের সময় প্রতিনিধিদল দেখতে পায়, বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবনে স্থাপিত হোসপাইপ তালাবদ্ধ। প্রতিনিধিদলের সদস্যরা চেষ্টা করেও তা বের করতে পারেননি। ভবনটিতে ধোঁয়া চিহ্নিতকরণ যন্ত্র (স্মোক ডিটেক্টর) থাকলেও তা কাজের অনুপযোগী। ভবনটিতে কোনো এক্সিট সাইন বা ইমার্জেন্সি বাতি দেখা যায়নি। ভবনের গ্রাউন্ড ফ্লোরে বোর্ডিং পাস লাউঞ্জে বৈদ্যুতিক ডিবি বোর্ড থাকলেও এর কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই।

এই ডিবি বোর্ডকে খুবই বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা। টার্মিনাল ইক্যুইপমেন্ট কক্ষে একটি ফায়ার কন্ট্রোল বোর্ড থাকলেও তা কাজের অনুপযোগী। টার্মিনাল ভবনের পাশেই সাব-স্টেশন কক্ষ রয়েছে, যেখানে ১ হাজার কিলো ভল্টের দুটি ট্রান্সফরমার রয়েছে। সেখান থেকে চ্যানেলের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণভাবে লাইন টানা হয়েছে। টার্মিনাল ভবনে বিমানের একটি অফিস রয়েছে, যেখানে কোনো ফায়ার ফাইটিং ইক্যুইপমেন্ট নেই।

টার্মিনাল ভবনে স্থাপিত হোসপাইপ ক্যাবিনেট সার্বক্ষণিক খোলা রাখার সুপারিশ করেছে ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শন দল। ভবনটিতে নতুন করে স্মোক ডিটেক্টর স্থাপন করার কথা বলেছে ফায়ার সার্ভিস। একই সঙ্গে এক্সিট সাইন স্থাপন করার সুপারিশ উঠে এসেছে।

বিমানবন্দরের এটিসি টাওয়ারের প্রতি তলায় বৈদ্যুতিক ডিস্ট্রিবিউশন বোর্ড রয়েছে। এই বোর্ড অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো সময় অগ্নিকাণ্ডে আগুন ও ধোঁয়ার কারণে এটিসিতে কর্মরত কোনো লোক নিচে নেমে আসতে পারবে না। এতে এটিসির কর্মরত সবার মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে। এটিসিতে যারা কর্মরত রয়েছেন, তাদের কারও অগ্নিনিরাপত্তা বিষয়ে পর্যাপ্ত সচেতনতা নেই। ফায়ার সার্ভিস এটিসিতে একটি বিকল্প সিঁড়ি স্থাপনের পরামর্শ দিয়ে সেখানে কর্মরত সবার অগ্নিনিরাপত্তার প্রশিক্ষণ দেওয়ার সুপারিশ করেছে।  

বিমানবন্দরের অফিস ভবনে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র সংরক্ষিত থাকলেও তাতে কোনো ডিটেকশন বা অ্যালার্ম সিস্টেম স্থাপন করা হয়নি। বিমানবন্দরের জেনারেটর ভবনে অগ্নিনির্বাপণের কোনো ব্যবস্থাই নেই। জেনারেটর কক্ষে ২৫ কেজি পরিমাণের দুটি ফোম ট্রলি সংরক্ষণ করার সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া ভবনটি ডিটেকশন অ্যান্ড অ্যালার্ম সিস্টেমের আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়েছে।

বিমানবন্দরের কার্গো ভবনে ড্রাই কেমিক্যাল পাউডারসহ অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র সংরক্ষিত আছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় কম। এ ছাড়া কিছু কিছু অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র বিভিন্ন মালামাল দিয়ে ঢেকে রাখা হযেছে। এসব যন্ত্র যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকি করা হয় না। এ ভবনে হোজ রিল থাকলেও তা অকার্যকর অবস্থায় পায় পরিদর্শন দল। বিমানবন্দরে একটি ফায়ার স্টেশন থাকলেও দুর্ঘটনা মোকাবিলায় তা সক্ষম না। চট্টগ্রাম কেইপিজেড ফায়ার স্টেশন থেকে শাহ আমানত বিমানবন্দরের দূরত্ব ৮ কিলোমিটার। দূরত্ব বেশি হওয়ার কারণে আগুন লাগার খবর পেলেও দ্রুততম সময়ে তাদের পক্ষে সাড়া দেওয়া সম্ভব না। এ কারণে প্রতিবেদনে বিমানবন্দর এলাকায় একটি ফায়ার স্টেশন স্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত