নওগাঁর মহাদেবপুরে বিষাক্ত দই খাওয়ার পর এক পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গতকাল শনিবার ভোরে রাজশাহী ও নওগাঁর ভিন্ন ভিন্ন হাসপাতালে মারা যান তারা। এরা হলেন অর্জুন সরকার (৩০), তার স্ত্রী তিথী সরকার (২৩) এবং তাদের আড়াই বছরের মেয়ে অনন্যা সরকার।
জমি নিয়ে বিরোধের জেরে অর্জুনের এক ভাই বাজার থেকে কিনে আনা দইতে বিষাক্ত কিছু মিশিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন অর্জুনের শাশুড়ি যমুনা রানী। উপজেলার উত্তরগ্রাম ইউনিয়নের জোতহরী গ্রামের বাসিন্দা অর্জুন মহাদেবপুর বাজারের একটি জুতার দোকানের কর্মচারী ছিলেন।
প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে মহাদেবপুর থানার ওসি সাজ্জাদ হোসেন দেশ রূপান্তরকে জানান, গত শুক্রবার বিকেলে মহাদেবপুর বাজার থেকে দই কিনে নিয়ে আসেন অর্জুন। পরে রাতের খাবার খেয়ে তারা পরিবারের সবাই মিলে দই খান। কিছুক্ষণ পরই তারা দইয়ের বিষক্রিয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রতিবেশীরা অর্জুনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, তিথীকে মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং অনন্যাকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। পরে শনিবার ভোরের দিকে তিনজনই মারা যায়।
ওসি সাজ্জাদ বলেন, ‘লাশগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। গ্যাস বড়ি (ইঁদুর নিধনের কাজে ব্যবহৃত) মেশানো দই খেয়ে তাদের মৃত্যু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ নিয়ে আমাদের তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
অর্জুনের শাশুড়ি যমুনা রানী বলেন, ‘বহুদিন ধরে জমি নিয়ে অর্জুনের সঙ্গে তার ভাইদের বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে কোনো এক ভাই দইতে গ্যাস বড়ি মিশিয়েছিল বলে মনে হচ্ছে।’
অর্জুন ও তার পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে নওগাঁ সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মনির আলী আকন্দ বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে তারা তিনজনই বিষক্রিয়ায় মারা গেছেন। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’
