চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আসনের সাবেক সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওদুদের বিরুদ্ধে জমি জালিয়াতির মামলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে এই মামলা করেন একই আসন থেকে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হারুনুর রশিদ হারুন।
একজনকে ফুফু সাজিয়ে নিঃসন্তান ফুফুর ১০ একরেরও বেশি জমি রেজিস্ট্রি করা হয়েছে বলে মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় আবদুল ওদুদসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। রাজনীতির মাঠে লড়াইয়ের বাইরে আবদুল ওদুদ ও হারুনুর রশিদ আপন দুই চাচাতো ভাই।
মামলার আরজির বরাত দিয়ে বাদীর আইনজীবী রবিউল হক দোলন জানান, হারুনুর রশিদের ফুফু গোলেনুর বেগম নিঃসন্তান ছিলেন। ২০১১ সালের ১৫ আগস্ট তাকে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই বছরের ১ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মারা যাওয়ার আগে প্রায় তিন মাস বিভিন্ন হাসপাতালে অচেতন অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। কিন্তু গোলেনুর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তিন দিন পর অর্থাৎ ১৮ আগস্ট অন্য একজনকে নিজের ফুফু সাজিয়ে ১০ একরেরও বেশি জমি রেজিস্ট্রি করে নেন আবদুল ওদুদ। দলিলে ওদুদের নাবালক ছেলে নাফিউল, বাদী হারুনের আপন বোন মমতাজ মহল, চাচাতো ভাই ওয়ালিউল্লাহ, বাদী হারুন এবং বিবাদী আবদুল ওদুদকেও জমিগ্রহীতা দেখানো হয়। কিন্তু এই জমি রেজিস্ট্রির বিষয়ে হারুনুর রশিদ অবগত ছিলেন না।
এ ব্যাপারে মামলার বাদী হারুনুর রশীদ বলেন, ‘ফুফুর প্রকৃত ওয়ারিশরা এখন রাস্তায়-রাস্তায় ঘুরছেন। এতদিন আবদুল ওদুদ সাংসদ থাকায় তার বিরুদ্ধে মামলা করতে পারেননি তারা।’
তবে সাবেক সাংসদ আবদুল ওদুদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে আমার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ও চাচাতো ভাই হারুন এ মামলা করেছেন। শুধুমাত্র রাজনৈতিক বিরোধের কারণে জমিজমা সংক্রান্ত পারিবারিক বিষয়টিকে আদালত পর্যন্ত নিয়ে গেছেন হারুন।’
তিনি আরও বলেন, ‘যে দলিলের ওপর মামলা করা হয়েছে, সেই দলিলে হারুনও সমান অংশীদার। তা ছাড়া জমির মালিকানায় হারুনের আপন বোন মমতাজেরও নাম রয়েছে। ফুফু গোলেনুরের দেখাশোনা করতেন মমতাজ। তাতে স্পষ্ট হয় যে, এই মামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য তাকে সমালোচিত করা।’
তবে মামলার বিবরণে বিএনপি নেতা হারুন উল্লেখ করেছেন, জাল দলিলকে বিশ্বাসযোগ্য করতে তার চাচাতো ভাই আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল ওদুদ তার (হারুন) বোনকেও জমির মালিকানা দিয়েছেন।
