আসসালামু আলাইকুম। সম্মানিত বন্ধুরা আপনারা জানেন, কয়েক দিন আগে (বৃহস্পতিবার) রাজধানী বনানীর এফ আর টাওয়ারে আগুন লাগার পর হাজার হাজার জনতা যখন সেলফি-ভিডিওতে অস্থির ছিল, ঠিক সেই মূহুর্তে ফায়ার সার্ভিসের একটি ছিদ্র পাইপ শক্ত করে ধরে ছিল নাঈম নামে এক ছোট্ট শিশু।
সেই নাঈমের পাইপ ধরার একটি স্থির চিত্র সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছিল।
স্বাভাবিক নিয়মে ছবিটি আমার টাইমলাইনে আসে এবং আমার হৃদয়ে নাড়া দেয়। আমি ছোট নাঈমের কাজে খুবই খুশি হয়েছি। তার জন্য তখনই মন থেকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জন্ম নেয়।
সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত আমার বন্ধুবর সাংবাদিক আওয়াজবিডির সম্পাদক শাহ আহমদকে কল দিয়ে ছেলেটির সন্ধান করার অনুরোধ জানাই। সাংবাদিক শাহ আহমদ আমার কথায় দেশের সাংবাদিকদের মাধ্যমে নাঈম ও তার মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেয়। নাঈমের মায়ের কাছ থেকে জানতে পারি সে খুব কষ্ট করে লেখাপড়া করছে, সে পুলিশ অফিসার হতে চায়। তাৎক্ষণিক আমার মাথায় আসল ছেলেটের পাশে দাঁড়ানো উচিত।
দয়া কিংবা নামের জন্য নয় বরং একজন মানবতাবাদীর পাশে দাঁড়ানোকে দায়িত্ব মনে করে বড় ভাই হিসেবে পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেই। খুব শীঘ্রই আমার আব্বা নাঈমের বাসায় যাবেন এবং বিস্তারিত আলাপ করে টাকা দেওয়ার মাধ্যম জানাবেন। নাঈমের সঙ্গে আমি দু'বার কথা বলেছি সে আমার জন্য দোয়া করেছে এবং বলেছে ভবিষ্যতে সুযোগ হলে দেখা করবে।
আমার এই ঘোষণার পর আওয়াজবিডির মাধ্যমে সারাদেশে প্রচার হয়ে যায়। দেশের প্রায় সব প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচার হতে থাকে যদিও এই প্রচারে আমার কোনো ইচ্ছে বা জরুরতই ছিল না।
এ দিকে সংবাদটি শুনে আমার ফেসবুকে অগণিত বার্তা আসতে থাকে। বার্তাতে সবাই মানবতার পক্ষে দাঁড়ানোয় অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। সব বার্তার জবাবে একটা কথাই বলব, বিষয়টা ছিল কেবল মানবতা ও ভালোবাসা।
প্রিয় জন্মভূমিতে নাঈমদের সংখ্যা দিনদিন বৃদ্ধি পাক এই দোয়া করি। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন। আপনাদের কাছে একটাই চাওয়া নাঈমদের সুযোগ করে দিন নাঈমরা আপনাকে একটি মানবতাবাদী পরিবেশ উপহার দেবে।
[ওমর এফ সানি বনানীর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের পানির পাইপ চেপে আলোচনায় আসা নাঈম ইসলামকে প্রায় চার লাখ টাকা দিয়ে সহযোগিতা করেন।]
