অটিস্টিক শিশুদের মুখের স্বাস্থ্য

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০১৯, ১২:২৩ এএম

শিশুদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। মার্কিন সিডিসি-এর ২০১৬ সালের তথ্য মতে প্রতি ৬৮ জনে ১ জন অটিজমের শিকার। সাধারণত বাচ্চার বয়স তিন বছরের আগে এই অস্বাভাবিকতা পরিবারের কাছে  বোধগম্য হয় না। আজ বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস। দিবস মানেই সাধারণ জনগণকে নতুন করে সচেতনতায় উদ্বুদ্ধ করার প্রচেষ্টা।

প্রয়োজন সদিচ্ছা, চেষ্টা ও সঠিক জ্ঞান : এ ধরনের শিশুদের শারীরিক নানা সমস্যা হতে পারে কারণ তারা নিজের ভালো মন্দের দিকে মনোযোগী হতে পারে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক জেদি হয় ও যা বলার চেষ্টা করা হয় তার উল্টোটা করতে চায়, বয়সের সঙ্গে তাদের মানসিক বিকাশ ঘটে না। এই জন্য বেশিরভাগ অভিভাবক অনেকটা অসহায় হয়ে পড়ে, কিন্তু তাদেরই বেশি সহনশীল ও স্পষ্ট ধারণা রাখতে হবে সমস্যা মোকাবিলায়। অভিভাবকের সদিচ্ছা, চেষ্টা ও সঠিক জ্ঞানের মাধ্যমে শিশুকে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেকটাই স্বাভাবিক করে তুলতে পারে।

কেন জরুরি : এ ধরনের প্রতিটি শিশুর মুখের যতœ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তারা মুখ পরিষ্কারের প্রয়োজনীয়তা বোঝে না, অতিরিক্ত মিষ্টি খাবারে আসক্তি থাকে, কারও কারও মুখ থেকে লালা ঝরে, কারও আবার আঙুল চোষার অভ্যাস সব মিলিয়ে তাদের দাঁতে ক্যারিজ বা গর্ত, মাড়িরোগ, ছত্রাক সংক্রমণ  থেকে শুরু করে নানা জটিলতা তৈরি হয়। ছোটবেলা থেকেই এমন শিশুদের মুখের যতেœ সবচেয়ে কাছের অভিভাবককে ধৈর্যের সঙ্গে সতর্ক হতে হবে। তার সামনে পরিবারের সবাই দাঁত ব্রাশ করবে, কুলি করবে, বিষয়টিকে সহজভাবে তুলে ধরতে হবে। প্রয়োজনে টুথপেস্ট ছাড়া নরম টুথব্রাশ দিতে হবে, এন্টিপ্ল্যাক মাউথ ওয়াশ দিয়ে দাঁত ও মাড়ি পরিষ্কার করা যেতে পারে। স্বজনদের যথাসাধ্য সম্ভব ব্রাশ অথবা পরিষ্কার সুতি কাপড় দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করিয়ে দিতে হবে। 

অবহেলা নয় : এরপরও দাঁতে কোনো গর্ত বা মুখের অভ্যন্তরে কোনো অস্বাভাবিকতায় অবহেলা না করে দ্রুত বিডিএস ডিগ্রিধারী চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। আমাদের ভ্রান্ত ধারণা  হচ্ছে এ ধরনের শিশুদের চিকিৎসা দুষ্কর। তাই তাদের কষ্টে সাময়িক সমাধান দিতে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ফার্মেসি থেকে ওষুধের ওপর নির্ভর করে অনেকেই। এতে করে রোগের জটিলতা বাড়ার আশঙ্কা থাকে।

চিকিৎসকদেরও মানসিক : প্রতিবন্ধীদের চিকিৎসা দিতে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বহির্বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হলেও কখনো কখনো রোগের জটিলতা ও রোগীর অসহযোগিতার জন্য  হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হয়। ভর্তি অবস্থায় পূর্ণ অবশীকরণ পদ্ধতিতে চিকিৎসা ব্যবস্থা এখন নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য।

দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টান : স্পষ্টভাবে মানতে হবে, বুঝতে হবে প্রতিবন্ধীরা আমাদের অভিশাপ নয়, দৃষ্টিভঙ্গিকে পাল্টে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে, কুসংকার ও অশিক্ষা থেকে বেরিয়ে এসে সঠিক পদ্ধতিতে তাদের মানসিক বিকাশে প্রদক্ষেপ নিতে হবে। এতে লজ্জা বা হীনমন্যতায় ভোগা বোকামি ছাড়া কিছুই নয়, অনুকূল পরিবেশে তারা স্বাভাবিক মানুষের মতো আচরণসহ নিজেকে সক্ষম প্রমাণিত করতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত