ভবন থেকে মালামাল সরানো শুরু

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০১৯, ০২:৫৯ এএম

রাজধানীর বনানীর এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের চার দিন পর অক্ষত মালামাল সরিয়ে নেওয়া শুরু হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল থেকে বিভিন্ন ফ্লোর মালিক ও অফিস কর্র্তৃপক্ষ তাদের আসবাবপত্র সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করে। ভবনটি ব্যবহার অনুপযোগী ঘোষণার পর গুলশান থানা পুলিশের কাছে তালিকা দিয়ে মালামাল সরাতে শুরু করে তারা।

গতকালও ভবনটি পরিদর্শন করে আলামত, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি, আইইবি এবং বুয়েটের প্রতিনিধিদল।

সকাল সাড়ে ১০টায় গণপূর্তের তদন্ত দলের সদস্যরা ২৩ তলা এফ আর টাওয়ারে যান। পরিদর্শন শেষে কমিটির সদস্য স্থপতি কাজী গোলাম নাসির বলেন, ‘মালিকের সরবরাহ করা নকশা মিলিয়ে দেখতেই আমরা এসেছি। রাজউকের অনুমোদিত নকশা হাতে পাওয়ার পর সেটির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে।’

গতকাল ভবনের সামনে ডার্ড গ্রুপের কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শারাফত হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এফ আর টাওয়ারে আমাদের কোম্পানির অফিস ছিল ২, ১২, ১৩, ১৬ ও ১৯তম তলায়। পুলিশের সহযোগিতায় এসব ফ্লোরের সকল মালামাল সরিয়ে নিচ্ছি। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ১২ তলায়। এখানে ডার্ড গ্রুপের এইচ আর, অ্যাডমিন ও ল বিভাগের কর্মকর্তারা বসতেন।’

ভবনের নিরাপত্তায় থাকা পুলিশ অস্থায়ী কন্ট্রোল রুমের দায়িত্ব পালনকারী বনানী থানার এসআই মিল্টন দত্ত দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ভবনে থাকা বিভিন্ন অফিস বা প্রতিষ্ঠান কর্র্তৃপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মালামাল সরিয়ে নেওয়ার কাজে সহযোগিতা করছি। এক্ষেত্রে তারা কোন অফিস থেকে কী কী মালামাল নিয়ে যাচ্ছেন সেই বিষয়ে তালিকাও সংরক্ষণ করা হচ্ছে।’

এফ আর টাওয়ারের গেটে দায়িত্ব পালনকারী বনানী থানার এএসআই হাফিজুর রহমান বলেন, ‘ফ্লোর, অফিস বা প্রতিষ্ঠান মালিকের নির্ধারিত পাস ছাড়া কাউকে ভবনে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। মালামাল সরানোর ক্ষেত্রে তারা যেন অন্য কোনো ফ্লোরে প্রবেশ না করেন সেক্ষেত্রে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে।’

ইইউআর সার্ভিস বিডি লিমিটেড ম্যানেজার আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘ভবনের ১১ তলা থেকে আমাদের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার জন্য অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এসেছি। পুলিশের কাছে আমরা আমাদের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার তালিকা দিয়েছি।’

এফ আর টাওয়ারে স্থাপিত পুলিশের অস্থায়ী নিয়ন্ত্রণ কক্ষের তথ্য অনুযায়ী, রবি ও সোমবার দুদিনে ভবনের প্রায় সব ফ্লোরের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ তলা থেকে মাইকা সিকিউরিটিজ তাদের মালামাল সরিয়ে নিয়েছে। ভবনের নিচতলা থেকে মোজাম্মেল হোসেন, দ্বিতীয় তলা থেকে চঞ্চল, চতুর্থ তলা থেকে কামরুল, নবম তলার ‘আমরা টেকনোলজিস্ট’-এর পক্ষে তুহিন ও নিয়াজ, নবম তলা থেকে ওয়াহিদ, দশম তলার হেরিটেজ এয়ার নামে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ফারান, ১৬ তলার ফোনিক্স প্রতিষ্ঠানের পক্ষে জহিরুল ইসলাম তাদের বিভিন্ন আসবাবপত্র ও মালামালের তালিকা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে মালামাল সরিয়ে নিয়ে গেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত