ক্যানসারে রূপ নিতে পারে মুখের ছোট ক্ষত

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০১৯, ০৯:৩২ পিএম

মুখের ভেতরে বিভিন্ন কারণে ক্ষত হতে পারে। পরিষ্কারের অভাব বা আমরা যে ব্রাশ ব্যবহার করি, সেই ব্রাশের দ্বারা মুখের নরম অংশে আঘাত লাগে। আবার অনেক সময় দাঁতের ধারালো অংশের ক্রমাগত ঘষা লেগে ক্ষত সৃষ্টি হয় বা খেতে খেতে জোড়ে কামড় লাগলে সেই অংশে ক্ষত হয়। আবার ক্যানসারের মতো রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হলো ক্ষত।

মুখের ক্ষত যদি সহজে না সারে, তবে সেটি ক্যানসারে রূপ নিতে পারে। এ ক্যানসার ঠোঁট, মাড়ি, জিভ ও গালের ওপরে বা নিচের অংশে হতে পারে। তবে বেশির ভাগই জিভ ও ঠোঁটের নিচের অংশে হয়।

লক্ষণ

মুখের ক্ষত সহজে ভালো না হলে বা মুখের ঘা সাধারণভাবে সেরে না গেলে।

মুখের ঘা ক্যানসারের দিকে গেলে মুখের ওপর ফোঁড়া হতে পারে।

মুখের ভেতরের চামড়ায় সাদা বা লাল লাল দাগ হয়।

ঘা-এর কারণে জিভ ও চোয়ালে যদি ব্যথা হয়।

যেকোনো খাবার, বিশেষ করে নরম খাবার চিবুতেও খুব কষ্ট হয়। ব্যথা হয় দাঁতে।

সব সময় মনে হতে থাকে যেন গলার কাছে কিছু আটকে আছে।

খাবার গিলতে কিছু সমস্যা হয়। গলা ব্যথা হয়। সাধারণভাবে গার্গেল করলেও ব্যথা কমে না। ব্যথা বারবার ফিরে আসে।

এভাবেই মুখের ঘা ক্যানসারে রূপ নিতে পারে। তবে সব সময় ক্ষত হাওয়া মানেই যে সেটা ক্যানসার তা নয়। যদি এ ধরনের লক্ষণ দেখা যায় তাহলে বুঝবেন সেটা ক্যানসারে রূপ নিচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব ওরাল ও মেক্সিলোফেশিয়াল সার্জনের পরামর্শ নিন।

ঘা কেন ক্যানসারে রূপ নেয়?

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, কেন এই ঘা ক্যানসারে রূপ নেয়? বা মুখে কেন ক্যানসার হয়? তার অনেক কারণই হতে পারে। যেমন : যারা খুব বেশি ধূমপান করে। যারা খুব বেশি অ্যালকোহল পান করেন। ভিটামিন ‘বি’র অভাব। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা। অনেক সময় সূর্যের অতি ক্ষতিকারক রশ্মি থেকে অর্থাৎ ঠোঁটে যদি খুব বেশি রোদ লাগে। ওরাল সেক্সও মুখে ক্যানসারের একটি কারণ।

মুখের অস্বাস্থ্যকর অবস্থার জন্য ক্ষত বা আলসার হতে পারে। সেই আলসার একসময় ক্যানসারে রূপ নেয়। এ ছাড়া অনেক দিন ধরে কোনো রোগে ভুগছেন, তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এমনিতেই কম থাকে। দীর্ঘদিন ধরে ক্রমাগত ওষুধ খাওয়ার ফলে অনেক সময় ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় এক ধরনের ক্যানডিডা নামক জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। এ কারণেও মুখে ক্ষত সৃষ্টি হয়। এই ক্ষত দীর্ঘদিন ধরে না সারলে ক্যানসারে রূপ নিতে পারে। তাই সচেতন থাকা জরুরি। যখনই কোনো ধরনের সমস্যা হবে, তখনই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সুস্থ থাকুন।

ডা. আরাফাত কবীর

বিডিএস, পিএইচডি

সহকারী অধ্যাপক পাইওনিয়ার ডেন্টাল কলেজ ও হসপিটাল

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত