চট্টগ্রামের হালিশহরের পোর্টকানেকটিং রোডে ড্রেন নির্মাণকে কেন্দ্র করে মতভিন্নতায় সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন থাপ্পড় মেরেছেন বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় গৃহায়ন কর্র্তৃপক্ষের এক প্রকৌশলী। তবে মেয়র নাছির অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। গত সোমবারের এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় গৃহায়ন কর্র্তৃপক্ষের
কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গতকাল মঙ্গলবার কর্মবিরতি পালন করেছেন। বিষয়টি জাতীয় গৃহায়ন কর্র্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে লিখিতভাবে অবহিত করেছেন সংস্থাটির চট্টগ্রাম সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শামসুল আলম। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হালিশহর হাউজিং এস্টেটের পোর্ট কানেকটিং রোডের বড়পোল রাস্তার মাথা এলাকায় ড্রেন নির্মাণ করতে গিয়ে চসিক কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে জাতীয় গৃহায়ন কর্র্তৃপক্ষের জায়গা নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। চসিক ড্রেন নির্মাণ করতে গেলে সেখানে বাধা দেয় গৃহায়নের প্রকৌশলীরা। এ বিষয়ে আলোচনার জন্য গত সোমবার চট্টগ্রাম নগর ভবনে দুই পক্ষের সঙ্গে একটি সভা হয়। সভার একপর্যায়ে চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন গৃহায়নের এক প্রকৌশলীকে থাপ্পড় মারেন বলে অভিযোগ ওঠে।
মারধরের অভিযোগকারী আশ্রাফুজ্জামান পলাশ জাতীয় গৃহায়ন কর্র্তৃপক্ষ চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী। এ ছাড়াও তিনি জাতীয় গৃহায়ন কর্র্তৃপক্ষ ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতি চট্টগ্রাম অঞ্চলের সহসভাপতি এবং বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা প্রকৌশলী পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক।
পলাশ বলেন, ‘মেয়র মহোদয়কে বিষয়টি বুঝিয়ে বলতে গিয়ে আমি লাঞ্ছিত হয়েছি। গেঞ্জির কলার চেপে ধরে তিনি আমাকে থাপ্পড় মারেন। ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার জুবায়ের সাহেবও আমাকে মেরেছেন।’ তিনি বলেন, ‘গৃহায়নের জায়গায় ড্রেন করতে চায় চসিক। মেয়র বলেছেন, গৃহায়নের কত জায়গা দখল হয়ে আছে, সোজা করে ড্রেনটি করতে হবে। তাই জায়গাটি লাগবে। কিন্তু আমি প্রসঙ্গক্রমে বলেছি, ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের কাছে আবেদনের মাধ্যমে জায়গাটি নিতে হবে। আমরা তো জায়গার মালিক নই। এর পরও মেয়র মহোদয় বলেছেন, যেকোনোভাবে ড্রেনটি সোজা করে নির্মাণ করতে হবে। দখল বুঝি না, জায়গা আমাদের দিতে হবে। পরে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মেয়র উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং আমাকে থাপ্পড় মারেন। তখন কাউন্সিলর জুবায়ের সাহেবও আমার গায়ে হাত তোলেন।’
এই বিষয়ে গৃহায়ন কর্র্তৃপক্ষের চট্টগ্রাম সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শামসুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চসিকের সঙ্গে যেই সমস্যা দেখা দিয়েছে, সেটি সমাধানের জন্য আমরা নগর ভবনে গেছি। চসিকের প্রকৌশলী তৈয়ব সাহেবের মাধ্যমে সিটি মেয়রের সঙ্গে বৈঠক করতে যাই। আমরা ছয় সদস্যের একটি টিম মেয়র সাহেবের সঙ্গে দেখা করতে যাই। প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষার পর মেয়র মহোদয়ের সাক্ষাৎ পাই, তা-ও একটি বৈঠকের মধ্যেই। যেহেতু আশ্রাফুজ্জামান পলাশ ওই প্রকল্পটি দেখভাল করেন, সেহেতু তাকে ব্রিফ করতে বলি। কিন্তু আলোচনার একপর্যায়ে মেয়র মহোদয় আমার প্রকৌশলীর গায়ে হাত তুলেছেন। এমনকি ওই সময়ে ওখানে থাকা এক কাউন্সিলর জোবায়ের সাহেব বেশি উত্তেজিত হন। বিষয়টি আমরা লিখিতভাবে গৃহায়নের চেয়ারম্যানকে জানিয়েছি। কর্মবিরতিও পালন করেছি। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চসিক মেয়র নাছির উদ্দিন বলেন, ‘এ রকম কোনো ঘটনা ঘটেনি। থাপ্পড় মারার তো প্রশ্নই আসে না। ড্রেন নির্মাণের বিষয়ে কথা বলতে গৃহায়নের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীসহ বেশ কজন নগর ভবনে আসেন। কিন্তু ওই প্রকৌশলী আমাদের চসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছে। মূলত সেখানে বাজার বসিয়ে অপরাধ আড়াল করার জন্য থাপ্পড় মেরেছি বলে অপপ্রচার করে কর্মবিরতি পালন করছে। এর একটি চক্র আছে। অপরাধীকে তো আড়াল করা যাবে না।’
