বড় পতনে সব খাত বাজার মূলধন হারিয়েছে

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০১৯, ১২:২৪ এএম

তারল্য সংকট, বিদেশিদের শেয়ার বিক্রির চাপ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সাইড লাইনে থাকায় পুঁজিবাজার বড় ধরনের ক্রেতা সংকটের মুখে পড়েছে। দুই দিন সামান্য ঊর্ধ্বগতির পর গতকাল বড় দরপতন হয়েছে দেশের পুঁজিবাজারে। সবগুলো খাতের দরপতনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক হারিয়েছে প্রায় ৭০ পয়েন্ট। একদিনেই বাজার মূলধন কমেছে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা।

পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল লেনদেনের শুরু থেকেই পর্যাপ্ত ক্রেতার অভাবে নিম্নমুখী ধারা দেখা যায়, যা বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে। দিনশেষে ডিএসইতে কেনাবেচা হওয়া ৭৬ শতাংশ শেয়ারের দরপতনে প্রধান মূল্যসূচকটি ৬৯ দশমিক ৯৭ পয়েন্ট হারিয়ে ৫৪৫২ পয়েন্টে নেমে আসে, যা গত ১ জানুয়ারির পর সর্বনিম্ন অবস্থান।

পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, দেশের ব্যাংকসহ পুরো আর্থিক খাত অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। খেলাপি ঋণ ব্যাংক ব্যবস্থাকে দূর্বল করে ফেলছে। আবার নতুন অর্থমন্ত্রী যোগদানের পর খেলাপিদের বিভিন্ন ধরনের সুবিধা দেওয়ায় ঋণ থেকে ব্যাংকগুলোর আদায়ও কমে গেছে। একই সঙ্গে আমানত সংগ্রহেও সংকটে রয়েছে খাতটি। তারল্য সংকটের তীব্রতায় বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ কমে গেছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৫৪ শতাংশ, যা গত ৫৩ মাসে সর্বনিম্ন। যদিও চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের জন্য বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছিল। ব্যাংক ব্যবস্থায় এই অস্থিরতা পুঁজিবাজারেও প্রভাব ফেলছে।

এদিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত টেলিকম খাতের একমাত্র প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোনের সঙ্গে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিরোধ চরমে উঠেছে। সম্প্রতি এসএমপি ঘোষণা করে গ্রামীণফোনে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়টি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। এখন আবার পুরনো পাওনা সুদসমেত দাবি করছে বিটিআরসি, যার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা। এ সংবাদে গতকাল গ্রামীণফোনের শেয়ার দর কমেছে প্রায় আড়াই শতাংশ, যা সূচক পতনে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে।

গতকাল সবগুলো খাতের দর কমলেও শীর্ষে রয়েছে বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি। এ খাতের বড় মূলধনী কোম্পানি ইউনাইটেড পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড জেনারেশন কোম্পানির শেয়ার দর ৭ শতাংশ কমায় পুরো বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি খাত ২ দশমিক ৮ শতাংশ বাজার মূলধন হারিয়েছে। এছাড়া টেলিযোগাযোগ ২ দশমিক ৫ শতাংশ, তথ্যপ্রযুক্তি ২ শতাংশ, সিরামিক ১ দশমিক ৯ শতাংশ, সাধারণ বীমা ও এনবিএফআই ১ দশমিক ৬ শতাংশ, ব্যাংক ১ দশমিক ও বস্ত্র খাত ১ শতাংশ দর হারিয়েছে।

গতকাল সূচক পতনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ছিল গ্রামীণফোনের। এ কোম্পানির শেয়ার দর ২ দশমিক ৫৯ শতাংশ কমায় ডিএসইর প্রধান সূচক ২২ পয়েন্টের বেশি কমেছে। এছাড়া ইউনাইটেড পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড জেনারেশন কোম্পানির শেয়ার ২৯ টাকা ৫০ পয়সা কমায় সূচকটি প্রায় ২০ পয়েন্ট হারায়। এছাড়া বিএটিবিসি, ব্র্যাক ব্যাংক, বার্জার, রেনেটা, ব্যাংক এশিয়া, ট্রাস্ট ব্যাংক, আইসিবি ও স্কয়ার ফার্মার শেয়ার দরহ্রাসেও সূচক উল্লেখযোগ্য পয়েন্ট খুইয়েছে।

এদিকে গতকাল বড় পতন সত্ত্বে¡ও ডিএসইতে লেনদেন কিছুটা বেড়েছে। গতকাল ডিএসইতে কেনাবেচা হয়েছে ৪৫১ কোটি টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে প্রায় সাড়ে ৯ শতাংশ বেশি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত