সলিমুল্লাহ মুসলিম (এস এম) হলে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীদের বিচারে আগামী সোমবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি নুরুল হক নুর। গতকাল বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে এ আলটিমেটাম দেন তিনি। একই দিনে মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে গত মঙ্গলবারের ঘটনাকে ‘নাটক’ আখ্যা হামলাকারীদের বিচারে সময় বেঁধে দিলেন ভিপি নুর দিয়েছে ছাত্রলীগ। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আখতারুজ্জামান ঘটনার তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। অন্যদিকে হামলাকারীদের বিচার দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্র ইউনিয়ন।
ঢাবির উর্দু বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী ফরিদ হাসানকে মারধরের ঘটনার অভিযোগ জানাতে গত মঙ্গলবার এস এম হলে যান ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর, সমাজসেবা সম্পাদক আকতার হোসেন, শামসুন্নাহার হলের ভিপি শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি, ছাত্র ফেডারেশনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজির, অরণি সেমন্তি খানসহ প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন আন্দোলনকারী। সে সময় নুরসহ ছাত্রনেতারা হলের ভেতরে গেলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তাদের বাধা দেন ও অবরুদ্ধ করেন। আর হলের বাইরে থাকা অবস্থায় ছাত্রলীগের অন্য নেতাদের আপত্তিকর মন্তব্যের শিকার ও তাদের হাতে লাঞ্ছিত হন সেমন্তি, ইমি ও বেনজির। তাদের গায়ে ডিমও ছুড়ে মারেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। ওই সময় নুরসহ অন্যদের প্রায় দেড় ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। হল সংসদের অনুমতি না নিয়ে হলে প্রবেশ করার কথা বলে নুরকে মারধর করেন হল সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) কামাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) জুলিয়াস সিজার। দেড় ঘণ্টা পর হলের প্রাধ্যক্ষ এলে তাকেও বিভিন্নভাবে লাঞ্ছিত করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ওই সময় সাংবাদিকরা ভেতরে ঢুকতে গেলে তাদের গালাগাল করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
এ ঘটনার প্রতিবাদে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে রাতভর অবস্থান ও বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারীদের দাবি, এস এম হলের স্বতন্ত্র জিএস প্রার্থী মো. ফরিদ হাসানের ওপর হামলার বিচার দাবি, বিচার চাইতে গিয়ে ভিপি নুরসহ অন্যদের অবরুদ্ধ করে ডিম হামলা এবং মারধরকারী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিচার, একই সঙ্গে নারী লাঞ্ছনাকারীদের বিচার করতে হবে। গতকাল সকালে শামসুন্নাহার হলের ভিপি আফরোজ ইমি বলেন, ‘রাতে আলো নেভানো হয়। এর পর প্রক্টর আসেন। তখন আমাদের পাশে থাকা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের চলে যেতে বলি। কিন্তু তিনি তাদের চলে যাওয়ার কোনো নির্দেশ দেননি। প্রক্টর চলে যাওয়ার পর গভীর রাতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আবারও আমাদের ওপর ডিম ছুড়ে মারে।’
আন্দোলনকারীদের আলটিমেটাম : রাজু ভাস্কর্যের সামনে সংবাদ সম্মেলনে ভিপি নুর বলেন, ‘আমাদের সর্বোচ্চ অভিভাবক ডাকসুর সভাপতি (ভিসি)। তার পরেই ভিপির অবস্থান। সে জায়গা থেকে ভিসির সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি আমাদের অভিযোগ শুনেছেন। আমরা বলেছি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হামলায় ছাত্রলীগ জড়িত থাকা সত্ত্বেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। গতকালের (গত মঙ্গলবার) ঘটনায় যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে সোমবারের মধ্যেই আমরা দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে দেখতে চাই। যদি প্রশাসন ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয় তাহলে আমরা কঠোর কর্মসূচি দেব।’
উপাচার্যের আশ্বাস : ডাকসুর ভিপিসহ অন্যদের ওপর হামলা এবং ছাত্রী লাঞ্ছনার ঘটনার তদন্তপূর্বক বিচার করা হবে বলে আন্দোলনকারীদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ঢাবি উপাচার্য আখতারুজ্জামান। গতকাল সকালে আন্দোলনকারীদের তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় হল প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
‘গুজব’ দাবি ছাত্রলীগের : ছাত্রীদের ওপর হামলার ঘটনাকে ‘নাটক’ ও ‘গুজব’ বলে দাবি করেছে ছাত্রলীগ। গতকাল মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন ডাকসুর এজিএস ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন। তিনি বলেন, ‘হামলার প্রশ্নই আসে না। হামলার নাটক সাজিয়ে ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি নষ্টের চেষ্টা করা হচ্ছে।’
ছাত্র ইউনিয়নের বিক্ষোভ : শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ। গতকাল দুপুরে মধুর ক্যান্টিন থেকে মিছিলটি বের হয়ে ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ডাকসু ক্যাফেটেরিয়ার সামনে সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে নেতারা আগামী রবিবারের মধ্যে সব হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করে শাস্তির দাবি জানান।
