রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলায় মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আরাকান আর্মির ৭ সদস্য নিহত হয়েছে বলে যে খবর কয়েকটি গণমাধ্যমে এসেছে তার সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি প্রশাসন। গতকাল বুধবার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার এ ঘটনাকে ‘মিথ্যা’, ‘ভুয়া’ ও ‘অপপ্রচার’ বলে জানিয়েছেন সংবাদকর্মীদের।
গতকাল দুপুরে কয়েকটি গণমাধ্যমে দুই সন্ত্রাসী দলের মধ্যে গোলাগুলিতে ৭ জন নিহতের সংবাদে পাহাড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে গত ১৮ মার্চ রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ির সাজেক থেকে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন শেষে খাগড়াছড়ি ফেরার পথে পোলিং অফিসারসহ সাতজন ব্রাশফায়ারে নিহত হন। গতকাল ওই হত্যাকান্ডে জড়িতদের সঙ্গে ‘যৌথবাহিনীর’ গোলাগুলিতে বান্দরবানের লেমুছড়িতে একজন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
গতকাল বিকালে রাঙ্গামাটির ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক এস এম শফি কামাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গোলাগুলির কথা শুনে স্থানীয় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কোনো আলামত খুঁজে পায়নি। তাই বিষয়টিকে আমরা গুজব বলেই ধারণা করছি।’
রাঙ্গামাটি পুলিশ সুপার মো. আলমগীর কবির জানিয়েছেন, ‘আমরা খবর শোনার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে তন্ন তন্ন করে খুঁজেও কারও লাশ পাইনি। ঘটনাটি ‘গুজব’ ও ‘অপপ্রচার’।
রাজস্থলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শেখ সাদেকের উদ্ধৃতি দিয়ে জাতীয় দুটি গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রচার হয়। তবে পরে ইউএনও শেখ সাদেক দাবি করে বলেন, ‘একটি গুরুত্বপূর্ণ গণমাধ্যমের চট্টগ্রামের প্রতিনিধি আমার কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে আমি তাকে বলেছি, আমিও বিষয়টি শুনেছি। তবে লাশের বিষয়টি নিশ্চিত নই। কিন্তু তিনি আমার বক্তব্যটি সঠিকভাবে উপস্থাপন করেননি। আমি ঘটনার নিন্দা জানাচ্ছি।’
গতকাল দুপুরে ২নং গাইন্দ্যা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান উথান মারমা বলেন, ‘আমি সকালে আমার ইউনিয়নে গোলাগুলি ও হতাহতের খবর পাই। পরে খবর নিয়ে দেখি, কোনো হতাহত কিংবা গোলাগুলির ঘটনা ঘটেনি।’
রাজস্থলী উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান উবাচ মারমা জানিয়েছেন, ‘লোকমুখে আমিও ঘটনাটি শুনেছি। কিন্তু বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারিনি।’
