যে বাচ্চার জন্য বিয়ে সে বাচ্চার জন্যই খুন!

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০১৯, ০৩:৪২ এএম

বিয়ের আট বছরেও সন্তান না হওয়ায় দ্বিতীয় বিয়ে করেন সৌদি আরব ফেরত আবুল কালাম। দ্বিতীয় স্ত্রী সুমী আক্তারের (২৮) গর্ভে ‘আকাক্সিক্ষত’ সেই সন্তানও আসে। কিন্তু প্রথম স্ত্রীর গর্ভে সন্তান আসার খবরে এটাই ‘অপরাধ’ হয়ে দাঁড়ায় সুমীর। অভিযোগ উঠেছে, সন্তান নষ্ট করতে না চাওয়ায় তাকে হত্যা করেন কালাম।

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার কাগদীর গ্রামের মরহুম মোতালেব মোল্লার ছেলে কালাম। একই উপজেলার খায়ের হাট গ্রামের ভুলু গাজীর মেয়ে সুমী। গত ২৯ মার্চ নড়াইল জেলার লোহাগড়া থানার শিয়েরবর এলাকায় মধুমতী নদী থেকে সুমীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ২৭ মার্চ থেকে নিখোঁজ ছিলেন তিনি।

এদিকে লোহাগড়া ও ঢাকার আশুলিয়া থানার ঠেলাঠেলিতে এ ঘটনায় এখনো মামলা করতে পারেনি ভুক্তভোগীর পরিবার। উদ্ধারের সময় সুমীর ক্ষতবিক্ষত লাশের সঙ্গে অপরিপক্ব সন্তান পাওয়া যায় বলে জানায় পুলিশ। তবে দাফনের সময় সন্তানটি ছিল না বলে জানান নড়াইল সরকারি গোরস্তানের তত্ত্বাবধায়ক মো. মোকাদ্দেস। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘৩০ মার্চ লাশের দাফন হয়। লাশ ফুলে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল।’

সুমীর ছোট বোন রুমা বলেন, এক-দেড় বছর আগে সুমীর সঙ্গে কামালের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দুই পরিবারের অজান্তে গত বছরের ২৭ জুন বিয়ে করেন তারা। এরপর তারা ঢাকার আশুলিয়ার পাথালিয়া ইউনিয়নের পান্দুয়া গ্রামে নুরুল হকের বাসায় ভাড়া থাকতেন। বিয়ের কিছুদিন পর কামাল জানতে পারেন তার প্রথম স্ত্রী তানজিলা সন্তানসম্ভবা। তিনি বলছিলেন, ‘তখন থেকেই কামাল সুমী আপুর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার শুরু করেন। সুমী গর্ভবতী হলে সেই সন্তান নষ্ট করতে চাপ দেন কামাল। কিন্তু সুমী তাতে রাজি হননি। এজন্য তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতনও করতেন কামাল।’ এভাবে কেটে যায় সাত মাস। এর মধ্যে কামালের প্রথম স্ত্রী সন্তান জন্ম দেন।

রুমা বলেন, ‘গত কয়েক দিন ধরেই কাশিয়ানী কাটাগরের মেলায় মানত আছে বলে সুমী আপাকে সেখানে নিয়ে যেতে চাইতেন কামাল। সুমী আপা যেতে চাইতেন না। নিখোঁজের কয়েক দিন আগেও আমাকে বিষয়টি ফোনে জানিয়েছিলেন সুমী আপা।’ গত ২৭ মার্চ বিকেলে আশুলিয়ার ভাড়া বাসা থেকে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে বেরিয়ে নিখোঁজ হন সুমী। এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে সুমীর পরিবার।

মৃতের ভগ্নিপতি হাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা ঢাকার মিরপুরে থাকি। ২৭ মার্চ থেকে সুমী ও কামাল কেউ ফোন রিসিভ করছিল না। পরদিন সুমীর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। কিন্তু কামাল ফোন রিসিভ করে। তার কাছে সুমীর বিষয়ে জানতে চাইলে বলে, ২৭ মার্চ বিকেল থেকে তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর আমরা দ্রুত আশুলিয়ায় কামালের বাসায় যাই। সেখানে কামাল অসংলগ্ন কথা বলতে থাকে। পরে থানায় সাধারণ ডায়েরি করি।’

তিনি বলেন, ‘৩০ মার্চ রাতে অনলাইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে পারি নড়াইলে মধুমতী নদী থেকে সুমীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পরদিন সেখানে পৌঁছে জানতে পারি, অজ্ঞাত হিসেবে লাশ দাফন করা হয়েছে। লোহাগড়া থানায় মামলা করতে গেলে ওসি বলেন, যেখান থেকে সুমী নিখোঁজ হয়েছে সেখানে মামলা করতে। পরদিন আশুলিয়া থানায় গেলে ওসি বলেন, যেখানে লাশ পাওয়া গেছে সেখানে মামলা করতে হবে। এখনো আমরা মামলা করতে পারিনি।’

এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার ওসি প্রবীর কুমার বিশ্বাস দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘২৯ মার্চ স্থানীয়রা নদীতে একটি লাশ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় লাশের পেট কাটা ও গলায় রশি বাঁধা।’ মামলা না নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘সুমীর পরিবারকে মামলার জন্য বলেছি। তারা এখনো মামলা করতে আসেনি। লাশ উদ্ধারের সময় আমরা সুমীর সঙ্গে একটি মৃত সন্তান পেয়েছি। পোস্টমর্টেম করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বাচ্চাটির কী হয়েছে সে বিষয়ে আমাদের জানা নেই।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত