আগের দিন পারের চেয়ে ৬ শট কম খেলে নিজেই যেন চমকে গিয়েছিলেন মোহাম্মদ মুআজ। কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে ক্যারিয়ারের সেরা দিনটি কাটিয়ে ছিলেন দ্বিতীয় স্থানে। ২১ বছরের এই তরুণ গলফার প্রথম দিন ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন স্বাগতিক সব গলফারকে। এমন স্বপ্নিল একটা দিনের পর তার আকাশ যে ঢেকে যাবে হতাশার চাদরে, কে ভেবেছিল? হয়েছে সেটাই। বঙ্গবন্ধু কাপ গলফ ওপেনের দ্বিতীয় দিনে তিনি খেলেছেন পারের চেয়ে ২ শট বেশি। দুদিন মিলিয়ে পারের চেয়ে ৩ শট কম খেলে মুআজ ২৮ ধাপ নিচে নেমে এখন রয়েছেন ৩০তম স্থানে।
প্রথম দিনের মতো দ্বিতীয় দিনেও ধারাবাহিকতা ছিল লোকাল হিরো সিদ্দিকুর রহমানের। দুবারের এশিয়ান ট্যুরজয়ী গলফার দ্বিতীয় দিনে পারের চেয়ে ৩ শট কম খেলে রয়েছেন পঞ্চম স্থানে। দ্বিতীয় দিনটি অবশ্য নিজের করে নিয়েছেন থাইল্যান্ডের তরুণ গলফার সাদম কায়ওয়াকানজানা। প্রথম রাউন্ডে পারের চেয়ে ৬ শট কম খেলা এই গলফার দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলেছেন পারের চেয়ে ৯ শট কম। সব মিলিয়ে ১৫ শট কম খেলে লিডারবোর্ডে শীর্ষে আছেন তিনি।
ভারতের রশিদ খানও চেনা কোর্সে ফিরেছেন দারুণভাবে। পারের চেয়ে ৭ শট কম খেলে তিনি আছেন দুইয়ে। পারের চেয়ে ২ শট কম খেলে তিনে আছেন আগের দিনের শীর্ষে থাকা অস্ট্রেলিয়ান গলফার মাভেরিক অ্যান্টক্লিফ।
শুধু দ্বিতীয় দিনে চোখ রাখলে স্বাগতিক গলফারদের মধ্যে সবচেয়ে ভালো করেছেন জামাল হোসেন মোল্লা। পারের চেয়ে ৫ শট কম খেলে তিনি আছেন ২৩তম স্থানে। স্বাগতিকদের মধ্যে আকবর হোসেন ও মোহাম্মদ নিজাম খেলেছেন পারের চেয়ে ৪ শট কম। ৫০ জন স্বাগতিক গলফারের মধ্যে দ্বিতীয় রাউন্ড শেষে কাট এড়াতে পেরেছেন মাত্র ১২ জন। বাকি ৩৮ জনকে বিদায় নিতে হয়েছে।
দ্বিতীয় রাউন্ড শেষেই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না। তবে বলে দেওয়াই যায়, সাড়ে ৩ লাখ ডলার প্রাইজমানির এই আসরের ট্রফিটা কোনো স্বাগতিকের হাতে ওঠার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
শীর্ষে থাকা সাদমের সঙ্গে ব্যবধানটা ৭ শটের হলেও আশা জিইয়ে রাখা সিদ্দিকুর মনে করেন, আসছে দুদিনে ঘটতে পারে যেকোনো কিছুই, ‘দ্বিতীয় দিনটিও ভালো কেটেছে আমার। শেষ হোলটা বাজে খেলায় বগি হয়েছে ঠিকই, তবে দুই রাউন্ডে পারের চেয়ে ৮ শট কম খেলে আমি খুশি। পরের দুদিন ফিটনেস ধরে রেখে চেষ্টা করলে যেকোনো কিছু ঘটা সম্ভব।’
প্রথম দিনের মতো কালও দর্শকদের অকুণ্ঠ সমর্থন পেয়েছেন সিদ্দিকুর। আজ ও আগামীকাল ঘরের তারকা ঝলসে উঠুক এটাই প্রত্যাশা সবার।
